ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

১ হাজার ১ টাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার পরিবার


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২০, ০৬:৫৬ পিএম আপডেট: জুলাই ২২, ২০২০, ১২:৫৬ পিএম
১ হাজার ১ টাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার পরিবার

১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি হারান কুতুবদিয়ার ইউসুফ জামান। এরপর চাটাইয়ের বেড়া, শন, খড়ের তৈরি বস্তির খুপড়ি ঘরে ৩০ বছর কেটেছে তার।

প্রায় তিন দশকের উদ্বাস্তু জীবনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে ইউসুফের। বস্তির খুপড়ি ঘর ছেড়ে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ফ্ল্যাট বাসায় উঠছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউসুফের মতো উদ্বাস্তু জীবনের অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ ছেড়ে সাজানো পরিপাটি দালানে উঠবেন আরও ৬০০ পরিবার। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব পরিবারের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন।

প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারের পর পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে।

১ হাজার ১ টাকার নামমাত্র মূল্যে বছরের পর বছর কষ্টে থাকা উদ্বাস্তুদের এসব ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর বাকি ফ্ল্যাটগুলো পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।

প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত হয়েছে ৫ তলা ১৯টি ভবন। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৩৯টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

প্রতিটি ফ্ল্যাটে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডারের সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল।

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পকে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প এলাকায় ১৪টি খেলার মাঠ, সবুজ জায়গা, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দুটি জেটি, দুটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে।

এছাড়াও থাকবে ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, পুকুর-খাল থাকবে পুরো প্রকল্প এলাকায়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ফ্ল্যাট পাবেন তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। প্রকল্প এলাকায় একটি শুঁটকি মহালও থাকবে এবং এখানে পর্যায়ক্রমে বিক্রয় কেন্দ্র ও প্যাকেজিং শিল্পও গড়ে তুলবে সরকার।

খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপের ২০টি অত্যাধুনিক ভবনের মধ্যে ১৯টির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

ভবনগুলোর নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই রেখেছেন। ভবনগুলো হলো—দোঁলনচাপা, কেওড়া, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, কামিনী, গুলমোহর, গোলাপ, সোনালী, নীলাম্বরী, ঝিনুক, কোরাল, মুক্তা, প্রবাল, সোপান, মনখালী, শনখালী, বাঁকখালী, ইনানী ও সাম্পান।

গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে।

অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পাকা ও আধাপাকা দালানের ব্যারাক আকারে তৈরি হলেও বহুতল ভবনের আশ্রয়ণ প্রকল্প এটিই প্রথম।

প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত নয়নাভিরাম একটি জায়গা। এই জায়গাটিকে সুরক্ষিত করার জন্য মাটিকে অনেক উঁচু করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনের নিচের তলায় কোনো ফ্ল্যাট রাখা হয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড় হলে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢোকারও আশঙ্কা নেই।

গো নিউজ২৪/আই

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
মাওলানা মুর্শিদুল আলমের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল

মাওলানা মুর্শিদুল আলমের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল

যাত্রী নেই দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে

যাত্রী নেই দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে

স্ত্রী সন্তান ও শ্যালিকা ঘটনাস্থালেই নিহত, হাসপাতালে লিটন

স্ত্রী সন্তান ও শ্যালিকা ঘটনাস্থালেই নিহত, হাসপাতালে লিটন

গরুর চামড়া ১০০, ছাগলের ৪০ টাকা

গরুর চামড়া ১০০, ছাগলের ৪০ টাকা

ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের সংগ্রহ করা মাংসের দামও চড়া

ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের সংগ্রহ করা মাংসের দামও চড়া

চাঁদপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ 

চাঁদপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩