ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুরের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২০, ১০:৫৫ পিএম
তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুরের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে

বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিশ্বম্ভরপুরে অন্তত ৪৫টি এবং তাহিরপুর উপজেলার প্রায় ৬০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া কার্যত ডুবে রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা শহর এবং এর আশেপাশের প্রায় সকল উপজেলা। সুরমা নদীর পানি দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ শহরের পাশের পয়েন্ট দিয়ে বিপদ সীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ছাতকে এর চেয়েও বেশি উচ্চতায় বিপদ সীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৩৩ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আরও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর, ফতেপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন, পলাশ ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। এরমধ্যে ঢেউয়ে ফতেপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন, পলাশ ইউনিয়নের একাংশে কাচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে। সদ্য বিদায় নেয়া একবারের বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগে আবারও বন্যায় চরম বিপাকে পড়েছে মানুষজন। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মানুষের। ঢেউয়ের ধাক্কায় উপজেলা সদরের কৃষ্ণনগর মন্দিরের চারপাশের মাটি সরে যাচ্ছে।

উপজেলার আভ্যন্তরীন সড়ক, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। উপজেলার সড়কগুলো বন্যার পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিশ^ম্ভরপুর সদর-বাজারের সড়কটি। উপজেলা সদর, কৃষ্ণনগর, গোপালপুর, মুক্তিখলা, মল্লিকপুর, শ্রীধরপুর, রায়পুর, বাহাদুরপুর, চান্দারগাঁও, বাঘমারা, ভাটিপাড়া, দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা, প্যারীনগর, বাগগাঁও, ভাদেরটেক, চালবন্দ, রাধানগর, ধরেরপাড়, বিশ্বম্ভরপুর, সিরাজপুর সহ ৪০-৪৫ টি গ্রামের মানুুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষজন বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগছেন। ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় বেশীর ভাগ বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ খবর রাখছি। বন্যায় কবলিতরা ২৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৭৩টি পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে তাহিরপুরে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসত বাড়িতে পানি ওঠার কারণে শনিবার সকাল থেকেই তাদের ঘরের রান্নাবান্নার কাজ হচ্ছে না। শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তারা খদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন। গত তিনদিন ধরে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ী নদী যাদুকাটা নদী ১৯৯ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ২শ’ ৭০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ৯৮টি পরিবারকে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া হয়েছে। পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারপুর বাজার, উপজেলা সদরের তাহিরপুর বাজার হতে ঠাকুর হাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, তাহিরপুর থানা সম্মূখ হতে রায়পাড়া রাস্তা। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বসতবাড়িগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর লামা বাজার, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নতুনজাজার ও শ্রীপুর বাজার ৩ ফুট পানির নীচে রয়েছে।
অপরদিকে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বাংশের এপ্রোচ নির্মাণাধীন রাস্তাটি ৪ ফুট পানির নীচে। শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে সকল প্রকার যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমরা উপজেলা দুর্যোগ কমিটির জরুরী সভা করেছি। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত চলছে। আমরা শুকনো খাবার নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। উপজেলায় ৩১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে খুলে দেয়া হবে। সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে আছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করতে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

গো নিউজ২৪/আই

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
মাওলানা মুর্শিদুল আলমের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল

মাওলানা মুর্শিদুল আলমের জানাযায় লাখো মানুষের ঢল

যাত্রী নেই দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে

যাত্রী নেই দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে

স্ত্রী সন্তান ও শ্যালিকা ঘটনাস্থালেই নিহত, হাসপাতালে লিটন

স্ত্রী সন্তান ও শ্যালিকা ঘটনাস্থালেই নিহত, হাসপাতালে লিটন

গরুর চামড়া ১০০, ছাগলের ৪০ টাকা

গরুর চামড়া ১০০, ছাগলের ৪০ টাকা

ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের সংগ্রহ করা মাংসের দামও চড়া

ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের সংগ্রহ করা মাংসের দামও চড়া

চাঁদপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ 

চাঁদপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩