ঢাকা বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

টাকার অভাবে বাঁচানো গেল না মৃত ঘোষণার পর নড়ে ওঠা শিশুটিকে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২০, ০৫:৪১ পিএম আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২০, ০৫:৪৩ পিএম
টাকার অভাবে বাঁচানো গেল না মৃত ঘোষণার পর নড়ে ওঠা শিশুটিকে

বাঁচানো যায়নি শিশু জান্নাতুলকে। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো নবজাতকটিকে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়িতে শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা যাওয়ার খবরে তাকে এক নজর দেখতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামে শত শত মানুষের ঢল নামে।

এর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রাজশাহী যাওয়ার মতো টাকা শিশুটির বাবার কাছে না থাকায় শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়া হয়।

অর্থ জোগাড় করার প্রস্তুতির একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে মায়ের কোলেই নিথর হয়ে পড়ে সদ্য পৃথিবীর আলো দেখা জান্নাতুল।

শিশু জান্নাতুলের মৃত্যুর পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে। অনেকে শিশুটির মৃত্যুর জন্য বেসরকারি ক্লিনিক উপশম নার্সিং হোমের চিকিৎসক ও আয়াদের অবহেলাকে দায়ী করে তাদের শাস্তির দাবি তোলেন।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মুদি দোকানি আবদুল হালিমের স্ত্রী জিনিয়া খাতুনের প্রসববেদনা উঠলে পরিবারের সদস্যরা রোববারবিকেলে তাকে শহরের উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করান।

সেখানে চিকিৎসাধীন জিনিয়া ভোর ৪টার দিকে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নাম দেন জান্নাতুল।

শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ক্লিনিকটির নার্স আয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত সন্তান প্রসব করেছেন জিনিয়া। এরপর মৃত ভেবেই তাকে ফেলে রাখা হয় ক্লিনিকের একটি রুমের মেঝেতে।

এমন অভিযোগ এনে শিশুটির বাবা আবদুল হালিম জানান, মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবরে আমরা দাফন কাফনের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী (জিনিয়া) তার কন্যাকে শেষবারের মতো দেখতে চায়।

‘কিন্তু ক্লিনিকটির আয়ারা শিশুটির গলা চেপে উঁচু করে আমাদের বলেন, এই দেখেন মৃত বাচ্চা। তারপরও আমার স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কোলে নিতেই নড়ে ওঠে আমার সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা’ যোগ করেন হতভাগ্য এই বাবা।

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমরা চিৎকার দিয়ে উঠলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে শিশুকে অক্সিজেন দেন। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে জান্নাতুলকে গোপনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। তাদের কথামতো সোমবার সকালে তাকে আমরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।’

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের উপশম নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ঘটনা শহরে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে শিশুটিকে দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভিড় জমায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন জানান, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাছাড়া নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত ছিল শিশুটি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে প্রাণপণ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কিছুতেই শিশুটির উন্নতি না হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দিই। দুপুরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন।’

শিশু জান্নাতুলের বড় চাচা বরকত আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করলেও আমাদের হাতে রাজশাহী যাওয়ার মতো কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। এ জন্য আমরা দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে শিশুকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

তিনি বলেন, ‘এরপর টাকা জোগাড় করার প্রস্তুতি নিতে থাকি। কিন্তু এরই একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে মায়ের কোলেই নিথর হয়ে পড়ে শিশু জান্নাতুল।’

গো নিউজ২৪/আই

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে ৪ শিক্ষক

মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে ৪ শিক্ষক

প্রাইভেটকার-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রাইভেটকার-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

সিএনজি-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ 

সিএনজি-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ 

বাবাকে হত্যায় ছেলেসহ ৪ জনের ফাঁসি

বাবাকে হত্যায় ছেলেসহ ৪ জনের ফাঁসি

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন যুবদল নেতা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন যুবদল নেতা

টং দোকানে চা পানে অসুস্থ ১১, দোকানী অজ্ঞান

টং দোকানে চা পানে অসুস্থ ১১, দোকানী অজ্ঞান