ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

নোয়াখালীতে আওয়ামী-যুবলীগের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক


গো নিউজ২৪ | গো নিউজ প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুন ৯, ২০১৯, ০৯:০২ পিএম
নোয়াখালীতে আওয়ামী-যুবলীগের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

নোয়াখালীর সুধারামে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যা চেষ্টায় শনিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলমকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে আ’লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে অর্ধশত আহত হয়। 

অহতদের আশংকাজনক অবস্থায় ৪জনকে ্উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ঘটনা চলাকালে ফয়সল বাহিনীর নেতৃত্বে আবুল কালাম কালা (৩৩), মনোয়ার হোসেন মানু (৪২), সোহাগ (২৮), ইমরান (২২), আনোয়ার হোসেন (৩২), কালা (২০), লিটন (৩২), মুসলিম মুসা (৩৪), তারেক (২৭) , কাশেম (৪৭), হারুন (৩৮), মোকাররম (৫৫), হালিম (৪২), সবুজ (২০), পিনু (৩৬), বোরহান (৩২), আলম (৩০), সেলিম (৪৫), সবুজ (২২), শরীফ (২০), আলমগীর (২৫), অজি উল্যা (২৮), শরীফ (২৪) এর নেতৃত্বে ২ ডজন সরকার দলের ক্যাডার মার মার ডাক দিয়া  লাঠি, মিরিচ, রামদা, হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালালে উভয় গ্রুপের ৬০ জন আহত হয়। 

হামলায় আহতরা হলেন- মো. হানিফ মাঝি (৪০), আশ্রাফুল আলম সুমন (২৮), নুরুল হক (৪৫) ও আলী উল্যা (৫৮), নুরুল আলম চেয়ারম্যান (৩৮), মাকসুদ আলম, ইফতেখার আলম রিমন, আবুল বাশার, রুবেল, আবদুস সহিদ, মো: জাবেদ, মো: হারুনুর রশিদ, নুরুজ্জামান, ও মো: নুরুল আমিন সহ অনেকেই। বাকীদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা চলছে।  

সুধারাম মডেল থানা পুলিশের তদন্তকারী এসআই বিপুল কুমার ঘোষ ও ভিকটিম মোরশেদ আলম জানান উপজেলার চর কাউনিয়া গ্রামের মোকাররম একজন স্বীকৃত ডাকাত।

সে সকল ধরনের দেশি-বিদেশী অস্ত্র চালানোয় প্রশিক্ষিত হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় নিজস্ব বাহিনী তৈরী করে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। মোকাররম সহ তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিহত করতে স্থানীয় জনগনের দাবির মুখে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম জনগণকে সচেতন করতে কর্মকান্ড পরিচালনার উদ্যোগ নিলে সন্ত্রাসীরা তাকে তাকে প্রানে হত্যা চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে উঠে। 

রাত সাড়ে ১১টায় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম নিজ বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠকে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসী মোকাররমের ছেলে মো. ফয়সালের নেতৃত্বে আবুল কালাম, মনোয়ার হোসেন, সোহাগ, এমরান,  আনোয়ার হোসেন, লিটন সহ সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চেয়ারম্যানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ী গুলি চালায়। 

এ সময় স্থানীয়া এগিয়ে এসে ক্যাডারদের ধাওয়া করলে সন্ত্রাসীরা স্থানীয়দের উপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর সন্ত্রাসীরা ধাওয়া খেয়ে চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেয়। আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন সন্ত্রাসী মোকাররম এবং তার ছেলে ফয়সাল বাহিনী চরমটুয়াকে ডাকাতি ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে সন্ত্রাসের জনপদে পরিনত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি উদ্যোগ নিলে সন্ত্রাসীরা তাকে একাধিকবার গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন। 

সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল বাতেন মৃধ্যা মানবজমিনকে জানান ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলমের ছোট ভাই মো. মোরশেদ আলম বাদী হয়ে ২৪জনকে আসামী করে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে শাসক দলের ২ গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। 

গো নিউজ২৪/জাবু

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
নদীতে ভেসে উঠল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ     

নদীতে ভেসে উঠল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ     

যাত্রীবাহী সুন্দরবন-১০ লঞ্চে আগুন

যাত্রীবাহী সুন্দরবন-১০ লঞ্চে আগুন

পিস্তল রেখে নামাজে এসআই, এসে দেখেন গায়েব

পিস্তল রেখে নামাজে এসআই, এসে দেখেন গায়েব

সমকামিতায় বাধ্য করার শ্রমিকনেতা নুরুলকে হত্যা

সমকামিতায় বাধ্য করার শ্রমিকনেতা নুরুলকে হত্যা

স্ত্রী বাড়ি চলে যাওয়ায় দুই শ্যালককে গাছে বেঁধে মারধর

স্ত্রী বাড়ি চলে যাওয়ায় দুই শ্যালককে গাছে বেঁধে মারধর

গর্ত ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন নুনু মিয়া

গর্ত ভরাট কাজের উদ্বোধন করলেন নুনু মিয়া