ঢাকা রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪
Beta Version

কৃত্রিম সংকট, ব্রি-৪৭ ধানের জন্য কৃষকের হাহাকার


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১২:৩৮ পিএম
কৃত্রিম সংকট, ব্রি-৪৭ ধানের জন্য কৃষকের হাহাকার

ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্রি-৪৭ প্রজাতি ধানের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠিতে বন্যা সহিষ্ণু এ ধানের চাহিদা ব্যাপক।  কিন্তু বিএডিসি বীজ বিপনন কেন্দ্র ও ডিলারদের কাছ থেকে এ ধান কিনতে না পেরে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছে কৃষকরা।

কৃষিবিদ মাহজুবা তাসনিম ঐশী জানান,  ব্রি-৪৭ ধান লবণাক্ত এলাকায় বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী একটি ধান। বোরো মৌসুমের শুরুর দিকে অর্থাৎ চারা অবস্থায় জমিতে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এ অবস্থায় ব্রি-৪৭ ধান আবাদ করলে অন্যান্য বোরো ধানের চেয়ে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এটি একটি লবণ সহিষ্ণু জাত, গাছের উচ্চতা ১০৫ সেন্টিমিটার, ডিগপাতা চওড়া লম্বা, চাল মাঝারি মোটা ও পেটে সাদা দাগ আছে, চারা অবস্থায় উচ্চ মাত্রায় লবণ সহনীয়, বয়স্ক অবস্থায় নিম্ন থেকে মধ্যম মাত্রায় লবণ সহনীয়। এ ধানের জীবনকাল ৪ মাস ২২ দিন। লবণাক্ত পরিবেশে হেক্টরপ্রতি এ ধান ৬.০ টন ফলন দিতে সক্ষম। ১-১৫ অগ্রহায়ণ (১৫-৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত বীজ বপণ করতে হয়।

বিএডিসি ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক শারমিন জাহান বলেন, ‘গত ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জেলায় মোট ৬ টন ব্রি-৪৭ জাতের ধানের বীজ এসেছে। এখানের বিক্রয় কেন্দ্রে এসেছে ২ টন। বাকি ৪ টন ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার ১৮ জন ডিলারের মাঝে বিক্রির জন্য বণ্টন করা হয়েছে।  আমরা যে ২ টন পেয়েছি তা বিক্রি হয়ে গেছে। এখন কৃষকরা এ বীজ নিতে আসলেও আমরা দিতে পারি না।’

বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন রিপন নামের এক কর্মচারী। তিনি জানান, প্রতিটি ব্যাগে ১০ কেজি করে ব্রি-৪৭ ভিত্তি বীজ রয়েছে, যা ৫৮০ টাকা দরে প্রতি ব্যাগ বিক্রি হয়েছে।

দেখা গেছে, শুধু বিএডিসি’র প্যাডে নাম, পরিমাণ ও দর লিখে রেখেছেন। তাতে জ্যোতিষ ৬ ব্যাগ, উত্তম ৪ ব্যাগ, বাবুল ৫ ব্যাগ, পান্না মিয়া ৬ ব্যাগ, শামসুল আলম ৪ ব্যাগ, বেলাল গাজি ৫ ব্যাগ, ফারুক হোসেন ৪ ব্যাগ, আমজাদ হোসেন ৪ ব্যাগ নিয়েছেন বলে লেখা রয়েছে। তবে কৃষক কোথার এমন কোনো ডকুমেন্ট কোথাও লেখা নেই।

শহরের বাসন্ডা এলাকার কৃষক খোকন শরীফ বলেন, ‘৪ দিন বিএডিসির বীজ বিপনন কেন্দ্রে ঘুরেছি। শেষ পর্যায়ে সেখান থেকে সাফ কথা জানিয়ে দিয়েছে বীজ শেষ হয়ে গেছে। তাই কর্মকর্তার কাছে এসেছি। আমরা মূল চাষী। বিঘায় বিঘায় জমি চাষাবাদ করি। আমরাই যদি বীজ না পাই, তাহলে কোন কৃষক সঠিকভাবে বীজ পেয়েছে?’

তিনি অভিযোগ করে জানান, বীজ এসেছে ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবারে। বিক্রি শেষ হয়েছে ২৮ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারে। সরকারি বন্ধের মধ্যে কৃষকরা কীভাবে জানলো বীজ এসেছে? যারা নিয়েছে তারা আদৌ কৃষক কিনা তারও সঠিক কোনো তথ্য নেই বিএডিসিতে। গোপনে বেশি মূল্যে তারা ডিলারদের কাছে বিক্রি করেছে। যা ডিলাররা বর্তমানে ৫৮০ টাকার বীজ ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হান্নান খান বলেন, ‘ব্রি-৪৭ জাতের ধানের ভিত্তি বীজ এসেছে শুনে গত ১ নভেম্বর চাষিদের জন্য বীজ ক্রয় করতে যাই। গিয়ে আলাপ করে শুনতে পাই বীজ আসার দু’এক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক শারমিন জাহান বলেন, ‘বীজ আসার পরে কৃষকদের মাঝেই শুক্র ও শনিবারে বিক্রি হয়ে গেছে। বীজ বিক্রির জন্য সব সময় আমাদের অফিস খোলা থাকে। আমাদের বিপণন কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত ২ টন বীজ চাষীদের কাছেই বিক্রি করা হয়েছে।’

গোনিউজ/এমবি
 

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
ময়মনসিংহে পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্বার

ময়মনসিংহে পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্বার

ছাতকে সেতু ভেঙে ট্রাক খাদে, নিহত ২

ছাতকে সেতু ভেঙে ট্রাক খাদে, নিহত ২

দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা

দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা

গৌরীপুরে লড়ি চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

গৌরীপুরে লড়ি চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

বউভাতের দিন গোসলখানায় নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ, আটক বর

বউভাতের দিন গোসলখানায় নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ, আটক বর

মুচলেকায় মুক্তি পেলো উখিয়ায় ১১ বিদেশি

মুচলেকায় মুক্তি পেলো উখিয়ায় ১১ বিদেশি

Hitachi Festival