ঢাকা শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ১০ বৈশাখ ১৪২৮

বিরল রেড কোরাল সাপটির চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১, ০৯:৫০ এএম
বিরল রেড কোরাল সাপটির চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে

রাজশাহীর পবায় সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছে পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির ‘রেড কোরাল কুকরি’ সাপটির। সাপটি আহত, শরীরে জখম রয়েছে। সঙ্কট কাটতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সাপ উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন।

প্রথমবারের মতো নতুন প্রজাতির এই সাপের সন্ধান পেল বাংলাদেশ। প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ওলিগোডন খেরিনসিস (Oligodon kheriensis)।

বোরহান বিশ্বাস রোমন জানান, গত সোমবার পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির এই সাপটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় সাপটির নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়ায় সেটি এখনো খুবই জটিল অবস্থায় আছে। চিকিৎসার মাধ্যমে সাপটিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের এই প্রশিক্ষক আরও জানান, উজ্জ্বল কমলা ও লাল প্রবাল রংয়ের এই সাপটি অত্যন্ত মোহনীয়। লাল প্রবাল সাপটি মৃদু বিষধারী ও অত্যন্ত নিরীহ। এই সাপটি পৃথিবীর দুর্লভ সাপদের একটি। পৃথিবীতে হিমালয়ের পাদদেশ দক্ষিণে ৫৫ আর পূর্ব-পশ্চিমে ৭০ কিলোমিটার এলাকায় দেখা যায়। পৃথিবীর ২১তম সাপটি মৃত অবস্থায় ও ২২তম সাপটি মারাত্মকভাবে আহতাবস্থায় পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, সর্বপ্রথম এই সাপের দেখা মেলে ১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। প্রায় ৮২ বছর পর ২০১৯ সালে আবার উত্তরপ্রদেশের খেরি জেলায় দেখা গিয়েছিল লাল প্রবাল সাপটি। এছাড়া নেপালের মহেন্দ্রনগর, চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্ক, ভারতের নৈনিতাল, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়।

‘সাপটি নিশাচর এবং বেশিরভাগ সময় মাটির নিচেই থাকে। সম্ভবত মাটির নিচে কেঁচো, লার্ভা পিপড়ার ডিম ও উইপোকার ডিম খেয়ে জীবনধারণ করে। নরম মাটি পেলে মাটি খুঁড়ে ভেতরে চলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। মাটির ভেতরে থাকার জন্য রোসট্রাল স্কেল ব্যবহার করে সাপটি। রোসট্রাল স্কেল হলো সাপের মুখের সম্মুখভাগে অবস্থিত অঙ্গবিশেষ যার সাহায্যে মাটি খনন করে। এ সাপটি পূর্ণ বিষধর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাপটির এ বিষয়ে গবেষণা চলছে।’

‘সাপটির নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়ায় সেটি এখনো খুবই জটিল অবস্থায় আছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আমরা এটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ব্যান্ডেজ করলেই সাপটি নড়াচড়া করে সেটি খুলে ফেলছে। যে কারণে তার চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় লাগছে’-যোগ করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের এই প্রশিক্ষক।

সাপটির প্রাণ ঝুঁকিমুক্ত কি-না, তা আগামী ৭২ ঘণ্টার আগে বলা যাবে না বলেও জানান সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্ত্রী সাপ। পরবর্তীকালে ডিম দেয়ারও সুযোগ রয়েছে। তবে সাপটি পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও ৬-৭ মাস সময় নেবে। এটিকে নরম খাবার দিতে আরও ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে। পুরো সুস্থ হলে এর ক্ষতপূরণে দুই থেকে তিনবার খোলস পরিবর্তন করতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত দাগ থেকেই যাবে।’

কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগের আরো খবর
বিরল রেড কোরাল সাপটির চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে

বিরল রেড কোরাল সাপটির চিকিৎসা যেভাবে হচ্ছে

দুর্গন্ধহীন ও পরিবেশবান্ধব দেশি মুরগি পালনে সফলতা

দুর্গন্ধহীন ও পরিবেশবান্ধব দেশি মুরগি পালনে সফলতা

শীতে টবের গাছের যত্ন নেবেন যেভাবে

শীতে টবের গাছের যত্ন নেবেন যেভাবে

দেশে মনিপুরী ইলিশ চাষ করলেই ব্যবস্থা

দেশে মনিপুরী ইলিশ চাষ করলেই ব্যবস্থা

ছোট পরিবারের জন্য এলো নতুন জাতের লাউ

ছোট পরিবারের জন্য এলো নতুন জাতের লাউ

বিরল প্রজাতির বন্য ছাগল উদ্ধার

বিরল প্রজাতির বন্য ছাগল উদ্ধার