২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৫ শনিবার
মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে

মিতব্যয় মানুষের সম্পদকে বৃদ্ধি করে এবং অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত রাখে। মিতব্যয়ীরা কখনোই নিঃস্ব হয় না। তাই পরিবার ও জাতির কল্যাণে মিতব্যয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস।’

সমৃদ্ধি ও সম্পদের জন্য সঞ্চয়ের মনোভাব মানবজীবনে একটি অপরিহার্য বিশিষ্টগুণ। ব্যক্তি জীবনে যত বেশি সঞ্চয় হবে ততই বাড়বে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা।

একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ হলো, অর্থ আয় করা কঠিন কিন্তু ব্যয় করা সহজ। মানুষ আয়েশি জীবন যাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করে, যা ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলকর নয়। আমরা আমাদের চারপাশে যদি তাকাই তাহলে আমাদের নজরে আসে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত দৃশ্য, যা সত্যিই বেদনাদায়ক। দেখা যায়, কেউ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও দু`বেলা দু`মুঠো ভাত খেতে পায় না। কেউ মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও গৃহহীন।

অন্যদিকে সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে মজুদ সীমাহীন অর্থ। তারা এমন সব যথেচ্ছ ব্যয় নিয়ে মশগুল থাকে- যা খুব সহজেই পরিহার করা যায়। আমোদ-প্রমোদ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার অতিথি আপ্যায়ন প্রভৃতির ব্যয়ভারে প্রচুর অর্থের ব্যাপক অপচয় সাধিত হয়। অন্য যে কোনো হাতেরই হোক তার অপব্যয় রোধ ও সঞ্চয় ব্যক্তি, সমাজ এবং সর্বোপরি জাতির জন্য কল্যাণকর।

ইসলামি অর্থনীতিতে অপচয় ও অপব্যয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপচয় বা অপব্যয় শুধু যে আর্থিক ক্ষতিই ডেকে আনে তা কিন্তু নয়। অপচয়ের কারণে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও আরও অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে মানুষের। অপচয় ও অপব্যয়ের নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ইসলামে তা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে কারিমের সূরা মুমিনের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, `নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারী ও মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।`

এ আয়াতের ব্যাখায় আলেমরা বলেছেন, ওই সব অপব্যয়কারীর ওপর ভর্ৎসনা যারা অপব্যয়ের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধনের পথ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। অপচয়কারীরা সৎ কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কারণ অপচয়ের মাধ্যমে সে ক্রমান্বয়ে ভালো কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া, অপচয়কারীর দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না।

অনেক আলেম বলেন, চার শ্রেণীর মানুষের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না, ওই শ্রেণীর একটি হলো, বিনা কারণে অর্থ অপচয়কারী ব্যক্তিবর্গ যারা অপচয়ের মাধ্যমে সব শেষ করে আল্লাহর কাছে জীবিকা প্রার্থনা করে। আল্লাহ এ ধরনের ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিবসে কৈফিয়ত চাইবেন। আল্লাহতায়ালা বলবেন, আমি কি তোমাকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বলিনি? আমি কি তোমাকে ব্যয়ের ধরনে সংশোধন আনতে বলিনি?

অপচয় ও অপব্যয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হলো দারিদ্র্য। এ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা অপচয়কারীকে অভাবগ্রস্ত করেন। আসলে অপচয়কারী আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে যেনতেন তা অপচয় করে এবং নিজেই নিজের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

আসলে অপচয় ও অপব্যয় সমাজে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকটতর করে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আজ যে অপচয়কারী ও বিলাসী, কাল সে ভিখারী ও পরমুখাপেক্ষী। এটা ব্যক্তি জীবনের মতো রাষ্ট্রীয় জীবনেও সত্য। সব মিলিয়ে ইসলাম মানুষকে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার উপদেশ দেয় এবং ঐশী অনুগ্রহের ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন ও অর্থ-সম্পদের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে মানুষ ইহকাল ও পরকাল দুটোই হারায়। আমরা যদি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সহ ইসলামের ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও মনীষীদের জীবন প্রণালী বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাব তাদের সবাই সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। তারা কখনোই ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে পড়েননি। অর্থ-সম্পদ অপচয় ও অপব্যয় না করে মানুষকে বেশি বেশি দান করেছেন। আমাদের মাঝেও এ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আর এটাই হোক আজকের দিবসের প্রত্যাশা।