২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬ , ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ফাঁসির আগে শেষ মুহূর্ত যেভাবে কাটালো সাকা-মুজাহিদ


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৫ সোমবার
ফাঁসির আগে শেষ মুহূর্ত যেভাবে কাটালো সাকা-মুজাহিদ

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের। এর আগের সময় কেমন ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুল আলোচিত এই দুই চরিত্রের।

রাত ৯টার পর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। প্রথমে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্বজনেরা তার সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তিনি তাদের জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে কোন প্রাণ ভিক্ষা চাননি। পরিবারের এক সদস্য জানান, সাক্ষাতের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বেশ কয়েকবার ‘আল্লাহু আকবার’বলে ওঠেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে আসলে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা যান দেখা করতে। এসময় মুজাহিদও প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেননি বলে জানান। পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন মুজাহিদ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৬ নম্বর কনডেম সেলে (রজনীগন্ধা) সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও ৮ নম্বর সেলে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের শনিবারের দিনটি কেটেছে আগের দিনের মতোই। এদিনও সাকা ছিলেন অস্থির আর মুজাহিদ ছিলেন স্বাভাবিক।

সাকা নিজ সেলে উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটাহাঁটি করে সময় পার করেছেন। কারারক্ষী ও কারাগারে তার সেবকদের সঙ্গেও রূঢ় আচারণ করেছেন। ঠিকমতো খাবার খাননি। যাদের দেখেছেন তাদেরই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন তিনি। অপরদিকে মুজাহিদ ছিলেন ধীরস্থীর ও স্বাভাবিক। তিনি নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া দরুদ পড়ে সময় পার করেছেন। কারাগারে নিয়োজিত কারারক্ষীদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার সময় পথে বসে পড়েন সাকা চৌধুরী। তিনি উঠতে চাচ্ছিলেন না। এ সময় তাকে ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করে বলেন, ‘এটা সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত। আপনি আমাদের সহযোগিতা করেন।’ অনেক সময় পর তিনি ওঠেন। পথেই আবার তিনি বসে একদম শুয়ে পড়েন। ওই পর্যায়ে জোর করেই তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হয়। এছাড়া অপর যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন স্বাভাবিক। তিনি হেঁটে ফাঁসির মঞ্চে যান। তার শেষ অনুরোধ ছিল যমটুপি পরবেন না। মুজাহিদ বলেন, আপনাদের যা করার আপনারা করেন। কিন্তু আমি যমটুপি পরব না। পরে তাকে বলা হয় এটা নিয়ম আপনাকে পরতেই হবে। পরে এক পর্যায়ে হাত-পা বেঁধে জোর করেই তাকে যমটুপি পরিয়ে দেয়া হয়।

এসময় তাদের দাঁড় করানো হয় একই মঞ্চে পাশাপাশি। মঞ্চটি বেশ পুরনো। এ মঞ্চেই কার্যকর হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মুজাহিদের মরদেহ আগে তোলা হয়। পরে তোলা হয় সাকার মরদেহ।

সূত্র জানায়, শনিবার দুই আসামিকে একই খাবার দেয়া হয়। সকালের নাস্তায় ছিল- লাল আটার রুটি, গুড় ও পাতলা ডাল। দুপুরে ছিল গরুর মাংস, সবজি ও ঘন ডাল। তারা দু’জনই ঠিকভাবে খাবার খাননি। সন্ধ্যায় দেয়া হয় চা, কারা বেকারিতে তৈরি পাউরুটি ও সলটেস্ট বিস্কুট। দু’জনই বিস্কুট দিয়ে চা পান করেছেন।

ফাঁসি কার্যকর করার আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় মুরগির মাংস, সবজি, ডাল ও ভাত খেতে দেওয়া হয়। তারা দুজনের কেউই প্রথমে খেতে চাননি। ‘এটাই আপনাদের শেষ খাবার’ কারা কর্তৃপক্ষের এমন কথার পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একটু খেলেও মুজাহিদ খাবার স্পর্শ করেননি।

ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে কনডেম সেলে অবস্থানরত সাকা চৌধুরী ছিলেন অন্য এক ব্যক্তি। ৭ থেকে ৮ বর্গফুটের কক্ষে দিনের বেশিরভাগ সময় পায়চারী করেই কেটেছে এ বিএনপি নেতার। কিছুক্ষণ পরপর কনডেম সেলের শিক ধরে উদাস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তাকে। এদিন মুজাহিদ ছিলেন স্বাভাবিক। হয়তো শেষ পরিণতি নিশ্চিত হয়ে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করেছেন। মাঝে মাঝে উদাস ভঙ্গিতে তাকিয়ে ছিলেন।

এসএ