২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ , ২:৫২ অপরাহ্ণ

টাকা বানানো দেখতে চলে আসেন বাংলা একাডেমিতে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৫ সোমবার
টাকা বানানো দেখতে চলে আসেন বাংলা একাডেমিতে

বর্তমানে দেশে ৪ কোটি ব্যাংক গ্রাহক রয়েছে। এটি ৮ কোটিতে উন্নীত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ব্যাংকিং মেলা।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবীদ বীরুপাক্ষ পাল।

তিনি জানান, ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২৪ নভেম্বর বাংলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে ব্যাংকিং মেলা। তা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে ২৮ নভেম্বর।

‘একটি ব্যাংকিং জাতি গড়ার প্রত্যয়’ স্লোগান নিয়ে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ব্যাংকিং মেলা।
জানা গেছে, মেলায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের স্টলসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিকসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে। এছাড়া মেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক স্টল থাকবে।

সবার জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় থাকবে টাকার জাদুঘর, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকাশনা, স্মারক মুদ্রা ও নোট বিক্রয়, জনসাধারণকে দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সেবা সংক্রান্ত তথ্য, সিআইপিসি ও কন্ট্রোল রুম। এছাড়া মেলা চলাকালে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, গোলটেবিল বৈঠক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
 
এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখে মেলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভূক্তিকরণের ওপর জোর দেয়া। এছাড়া সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে জানানো।

তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ৪ কোটি মানুষ ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে জড়িত। তবে এটা ৮ কোটি মানুষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এই মেলা সবাইকে সম্পৃক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

মেলায় নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বই মেলার স্থানেই করা হচ্ছে এই মেলা। বই মেলার মতোই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে।’
 
মেলায় স্টল
পাঁচ দিনের এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিষয়ভিত্তিক স্টল থাকতে পারে যেমন- আর্থিক শিক্ষা, টাকা জাদুঘর, বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস (কীভাবে টাকা বানানো হয়), বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন প্রকাশনা, স্মারক মুদ্রা ও নোট বিক্রয়, জনসাধারণকে দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংদের প্রদত্ত সেবা, সিআইপিসি, কন্ট্রোল রুম/অভিযোগ কেন্দ্র/ লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ট।

আর্থিক শিক্ষা বিষয়ক আয়োজন
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় টার্গেট নিয়ে আর্থিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি পালিত হবে। এর মধ্যে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী দু’দিন, কর্মজীবী শিশু একদিন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একদিন এবং উন্মুক্ত উপস্থিতির জন্য একদিন।

আর্থিক বিষয়ের ওপর বিতর্ক উৎসব
প্রতিদিন দুপর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যাংকিং/আর্থনীতি বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এতে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতা সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতেই সুদের হারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিৎ; খেলাপি সংস্কৃতিই ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের প্রধান কারণ; মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হওয়া উচিৎ; অর্থনৈতিক আগ্রযাত্রার স্বার্থেই পুঁজির প্রবাহ অবাধ হওয়া প্রয়োজন; পর্যাপ্ত উদারনীতির অভাবেই বৈদেশিক বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়ছে না; মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ আমাদের আর্থনীতির জন্য কাম্য নয়; অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ব্যাংকিং খাত অপেক্ষা পুঁজিবাজারের ভূমিকা বেশি গুরুতত্বপূর্ণ।

সেমিনার/ওয়ার্কশপ/গোলটেবিল বৈঠক
প্রতিদিন ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ব্যাংকিং/আর্থিক বিষয় নিয়ে সেমিনার/ওয়ার্কশপ/গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে। সম্ভাব্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা; আর্থিক শিক্ষা: বৃহত্তর আর্থিক অন্তর্ভূক্তির পূর্বশর্ত; উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ ও অর্নৈতিক প্রবৃদ্ধি; মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: প্রবৃদ্ধি সহায়ক মূল্যস্ফীতির হার কি আদৌও বিদ্যমান; বাংলাদেশের জন্য সর্বাপেক্ষা কাম্য সুদের হারের কাঠামো উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক: সমাজিক এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারদ্ধ/প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা; কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ প্রবাহের ভূমিকা; মুদ্রানীতির কার্যকারিতা: একটি উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রানীতি প্রণয়নের চ্যালেঞ্জসমূহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংসেবা: একটি ডিজিটাল যুগের সূচনা/ ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা।
 

জা/আ