শীতে ঠোঁটের সৌন্দর্য রক্ষায় করণীয়


| আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৫ সোমবার, ০৮:০৬  এএম
শীতে ঠোঁটের সৌন্দর্য রক্ষায় করণীয়

শীতে প্রচণ্ড ধূলোবালির কারণে এমনিতেই শরীরের ত্বক শুষ্ক আর রুক্ষ দেখায়। সকাল থেকে সারাদিন শরীরে কেমন যেন জড়তা কাজ করে। গুটিসুটি অবস্থায় দিন কাটায় অনেকেই। অনেকেই দু’তিন দিনে একবার স্নান করে। কেউ কেউ তো সারাদিন সারারাত একই পোশাকে কাটিয়ে দেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা নিয়মিত বডি লোশন ব্যবহার করে না। শীতের সময় এইসব অলসতা আমাদের শরীরকে করে তুলে লাবণ্যহীন। তাতে করে মারাত্মকভাবে সৌন্দর্যহানি ঘটে আমাদের।

ঠোঁটের শুষ্কতার উপলব্দি দ্বারাই আমরা শীতের আগমনী বার্তা টের পাই।   শীতের শুরু থেকে ঠোঁট টানতে শুরু করে। শুরু হয় ঠোঁট ফাটা। এ সময় শুকনো ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় সবাই কমবেশি ভোগেন। ঠাণ্ডা আবহাওয়া ঠোঁটের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের শরীরের সবচেয়ে নরম অংশ হল ঠোঁট। যেহেতু ঠোঁটে কোনো অয়েল গ্ল্যান্ড থাকে না, তাই ঠোঁট শুকিয়ে যায়- এ সময়ে সেখানে নানা সমস্যা দেখা দেয়।

ঠোঁট শুকিয়ে গেলে ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, ঠোঁটের চামড়ায় দাগ পড়ে। শুষ্কতার কারণে অনেকেই বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়। এতে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। ঠোঁট সৌন্দর্যের একটি অপরিহার্য অংশ। আর্দ্র, মসৃণ ও কোমল ঠোঁট মানেই সুস্থ ঠোঁট।

ত্বকের মতো ঠোঁটেরও কিন্তু ক্লেজিং, স্ক্র্যাবিং প্রয়োজন। নরম ঠোঁটে শীতের প্রভাব বিস্তার করার আগেই দেখে নিই, কি করে বাড়িতে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁটের যত্ন নেয়া যায়। ত্বকের একটি স্পর্শকাতর অংশ হল ঠোঁট। তাই শীতকালে ঘরে বসে ঠোঁটের যত্ন কীভাবে নেয়া যায়, সে সম্পর্কে ব্রেকিংনিউজ পাঠকদের জন্য কিছু পরামর্শ প্রদান করা হলো।

যত্ন:
ঠোঁট নরম ও মসৃণ রাখতে মুখ ধোওয়ার পর ঠোঁটের ওপর শুকনো কাপড় ব্যবহার না করে ভেজা পরিষ্কার কাপড় অথবা ভেজা তুলা ব্যবহার করতে পারেন। এতে মরা কোষ ঝরে পড়বে। তবে খেয়াল রাখবেন ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হয়। তাই জোরে ঘষবেন না। একইভাবে ঠোঁটের ওপর লাগানো লিপবাম বা লিপস্টিকও তুলে ফেলতে হবে।

ক্লেজিং:
ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে উত্তম ক্লেনজার ঘি। রাতে ঘি লাগিয়ে সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, এতে ঠোঁট নরম থাকবে। মধুও ব্যবহার করা যেতে পারেন।

স্ক্রাবিং:
শীতকালে ঠোঁটের চামড়া দ্রুত শুকিয়ে যায়। কারণ ঠোঁটের আর্দ্রতা কম থাকে। তাই ডেড সেলগুলো ঠোঁট থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। এর জন্য দরকার স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন। ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে উপকারী স্ক্রাবার হল চিনি। সামান্য পরিমাণ চিনির সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে আঙুলের ডগায় নিয়ে হালকা করে ঠোঁটে ঘষলে মরা কোষ খুব সহজেই উঠে আসবে। এরপর ঠোঁট পরিষ্কার করে, ছোট একটি বিটের টুকরো নিয়ে ঠোঁটে ঘষুন। এটা করবেন সপ্তাহে অন্তত ২ দিন।

ফাটা ঠোঁট:
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল নিয়মিত ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট ফাটার সমস্যা থাকবে না। আবার আমন্ড অয়েল ঠোঁটে নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট ফাটার প্রবণতা দূর করে।

ঠোঁটে কালো দাগ:
বিটের রস হচ্ছে ন্যাচারাল ক্লেনজার। নিয়মিত বিটের রস ও কাঁচা দুধ সমপরিমাণ মিশিয়ে লাগালে ঠোঁটের কালো দাগ ও মরা কোষ উঠে যাবে এবং ঠোঁটে এক ধরনের স্বাভাবিক গোলাপী আভা নিয়ে আসবে।

কোমল ও মসৃণ ঠোঁট পেতে:
গোলাপের পাপড়ি পেস্ট করে ঠোঁটে লাগাবেন। ঠোঁটের সঠিক পুষ্টির জন্য পাকা পেঁপে চটকে, তার সঙ্গে দুধের সর মিশিয়ে একটা মিশ্রণ করতে হবে। ঠোঁটে ১০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

টিপস
* মুখের মতো ঠোঁটের মেকআপও রিমুভ করা খুবই জরুরি।
* তুলা ভিজিয়ে হালকা করে ঠোঁটে ঘষুন। ঠোঁটের ডেড সেল ঝরে পড়বে।
* ঠোঁট শুকনো হলেই লিপবাম বা চ্যাপস্টিক ব্যবহার করুন।
* লিপস্টিক লাগানোর আগে কোল্ড ক্রিম বা লিপবাম লাগিয়ে নিন।
* শীতে কখনোই ঠোঁটে ড্রাই লিপস্টিক দেবেন না।
* জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। এতে ঠোঁটের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে যাবে।
* প্রচুর পানি খাবেন। পানি স্বল্পতা হলে ঠোঁট শুকিয়ে আসে।
* দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়াবেন না।
* অযথা ঠোঁটের চামড়া উঠানোর দরকার নেই। এতে রক্ত বেরিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
* রোদ থেকে ঠোঁটকে বাঁচাতে অবশ্যই সানস্ক্রিন সমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করুন।
* ঠোঁটের কোমলতার জন্য রাতে মাখন ব্যবহার করতে পারেন।
* নখ বা দাঁত দিয়ে ঠোঁটের চামড়া তুলবেন না।

অতএব উপরের টিপসগুলির দিকে নজর দিলে আসছে শীতে সহজেই আপনি আপনার ঠোঁটকে আরো লাবণ্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।

কে/রোজ