ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালী


পর্যটন ডেস্ক | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৫ রবিবার, ১১:২৪  পিএম
ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালী

বাংলাদেশের একটি অন্যতম সুন্দর জায়গার নাম সাজেক ভ্যালী। আকবাকা পাহাড়ী পথ বেয়ে মেঘের রাজ্যের ভিতর দিয়ে সাজেক যাওয়া সত্যিই অসাধারন। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। সাজেক যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত তবে যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি-দিঘিনালা রোড। রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখা যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। খাগড়াছড়ি থেকে ৬৯ কি.মি. এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৩০ কি.মি. দুরের সাজেকের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। প্রকৃতির এই রুপ যেন রাঙামাটির ছাদ! নয়নাভিরাম অরণ্যভূমি আর পাহাড়ের বন্ধনে যেখানে মেঘের দল প্রেমে মেতে থাকে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে পরবে বেশ কিছু পাহাড়ী বাজার যেখানে সকালের নাস্তা খাওয়া যাবে। এর মধ্যে বাঘাইহাট বাজার, মাছালং বাজার অন্যতম। মাছালং বাজার এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। এখান থেকে সাজেকের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাছালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই বাজার।

যাওয়ার পথে দেখা যাবে পাহাড়ী লোকালয়, ঝুম চাষ, বিভিন্ন নদী, আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প। এর বাইরে পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, যা নিজেকে আবৃত করে রাখে কুয়াশার নরম চাদরে। কুয়াশার ঘনত্ব ভেদ করে মাঝে মাঝে গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়। যাওয়ার পথে মোট চারটি আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প এ রিপোর্ট করতে হবে।

 
রুইলুই পাড়া সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেক ভ্যালীর বিজিবি ক্যাম্প থেকে ১ কি.মি. আগে রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল-সবুজ। এছাড়া সাজেক থেকে ২০/২৫ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১০ টি পরিবারের ১০০ সদস্যের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান। কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। কংলাক পাড়া রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম উচ্চতম স্থান, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফিট উপরে। কংলাক পাড়া থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। এই লুসাই পাহাড় থেকে বাংলাদেশের কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি হয়েছে যা রাঙ্গামাটি হয়ে চট্টগ্রামের ভিতর দিয়ে এসে বঙ্গোপসাগড়ের সাথে মিলেছে।


কিভাবে যাবেন

ঢাকা টু খাগড়াছড়িঃ বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। নন-এসি বাস ৫২০ টাকা (শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, ঈগল, ইকোনো, এস আলম ইত্যাদি), এসি বাস ৮০০ টাকা (একমাত্র সেন্টমার্টিন পরিবহন)। ঢাকা থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (১১.০০ টায়) এবং খাগড়াছড়ি থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (৯.০০ টায়)। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে রাতে ৭/৮ ঘন্টা এবং দিনে ৮/১০ ঘন্টা।

খাগড়াছড়ি টু সাজেকঃ খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে চান্দের গাড়ী/ সিএনজি রিজার্ভ করে সাজেক যাওয়া যাবে। এছাড়াও নিজস্ব মাইক্রো বা কার নিয়েও যাওয়া যাবে। সময় লাগবে সবমিলিয়ে ৩ ঘন্টা। চান্দের গাড়ী ভাড়া ৫০০০/৬০০০ টাকা (দরদাম করতে হবে), সিএনজি ভাড়া ৩০০০/৪০০০ টাকা (সিএনজিতে না যাওয়াই ভাল কারন প্রকৃতি ভালভাবে দেখা যাবে না)। যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হলে চান্দের গাড়ীর ছাদে বসে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সাবধানে ধরে বসতে হবে। একটি চান্দের গাড়ীতে অনায়াসে ১২ জন যেতে পারবেন।

যারা সাজেকে রাতে থাকবেনঃ সাজেকে রাতে থাকতে হলে ঢাকা থেকে থাকার জায়গা বুকিং দিয়ে যেতে হবে নতুবা থাকার জন্য ভাল যায়গা নাও পেতে পারেন। অন্তত মাস খানেক আগে বুকিং দিলে ভাল রুম পেতে পারেন। থাকার জন্য যেসব রিসোর্ট বা জায়গা আছে তা হলোঃ

১) সাজেক রিসোর্ট (রুইলুই পাড়া):  যোগাযোগ ০১৭৮৩৯৬৯২০০। মোট ৪ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ২৫০০-৫০০০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ৪০০০-৭০০০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ১০০০০-১৫০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

২) রুনময় রিসোর্ট (সাজেক ভ্যালী): যোগাযোগ ০১৮৬৫৬৮৮৭৭। মোট ৫ টি রুম আছে। আর্মি অফিসারদের জন্য ভাড়া ১২৫০-১৬৫০, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ভাড়া ২৫৫০-৩১৫০, সাধারন জনগনের জন্য ভাড়া ৪৪৫০-৪৯৫০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৩) রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউসঃ যোগাযোগ ০১৮৩৮৪৯৭৬১২, ০১৮৬০১০৩৪০২। ১৫ জন থাকতে পারবেন। ভাড়া ১০০ টাকা জনপ্রতি (কম-বেশী হতে পারে)।

৪) আলো রিসোর্টঃ যোগাযোগ ০১৮৬৩৬০৬৯০৬। মোট ৬ টি রুম। ভাড়া ৭০০-১০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৫) রুইলুই পাড়াতে যে কোন কারবারীর ঘরে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে থাকা যাবে (যদি ফাকা থাকে)।

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা আছে তবে যারা দিনে গিয়ে দিনে চলে আসবেন তারা বাইরে ১৫০-৫০০ টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন।

যারা দিনে গিয়ে চলে আসবেনঃ প্রথম দিন খাগড়াছড়িতে থেকে পরেরদিন ভোর ৪.৩০ / ৪.৪৫ মিনিটে সাজেক রওনা হবেন। গাড়ী আগের দিন শাপলা মোড় থেকে ঠিক করে রাখবেন। দেরী করলে মেঘ দেখা মিস করবেন। প্রথম দিন খাগড়াছড়িতে আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝর্না, অপু ঝর্ণা, শান্তিপুর অরন্যকুটির, নিউজিল্যান্ড, শহড়ে ঝুলন্ত ব্রিজ ইত্যাদি দেখে আসতে পারেন। রাতে সিস্টেম রেস্তোরাতে পাহাড়ীদের খাবার খাওয়া হবে বাড়তি পাওনা।

খাগড়াছড়িতে থাকার ব্যবস্থাঃ

১) পর্যটন মোটেলঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬২০৮৪, ০৩৭১-৬২০৮৫, ০১৫৫৬৫৬৪৩৭৫, এসি রুম ২১০০ টাকা এবং নন-এসি ১৩০০ টাকা প্রতি রাত। এটি শহড়ে ঢুকার ২ কি.মি. আগে চেঙ্গী নদীর পাশে অবস্থিত।

২) হোটেল ইকোছড়ি ইনঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬১৬২৫, ০৩৭১-৬১৬২৬, ০১৮২৮-৮৭৪০১৪। রুম ভাড়া ১০০০-২৫০০ টাকা প্রতি রাত।

৩) শৈল সুবর্ণঃ যোগাযোগ ০৩৭১-৬১৪৩৬। ভাড়া ৬০০-১০০০ টাকা প্রতি রাত।

এছাড়াও শাপলা মোড়ে অবস্থিত অন্যান্য হোটেলে ৩০০-৭০০ টাকাতে থাকা যাবে।  

উল্লেখযোগ্য হোটেলঃ হোটেল জিরান ০৩৭১-৬১০৭১, ফোর স্টার ০৩৭১-৬২২৪০, থ্রি স্টার ০৩৭১-৬২০৫৭, লবিয়ত ০৩৭১-৬১২২০, চেঙ্গী ০৩৭১-৬১২৫৪, উপহার ০৩৭১-৬১৯৮০, রাজু বোর্ডিং ০৩৭১-৬১১৬১, চৌধুরী বোর্ডিং ০৩৭১-৬১১৭৬, ভাই ভাই বোর্ডিং ০৩৭১-৬১৪৬১ ইত্যাদি।

গো নিউজ২৪/বিএস/এসএম

তরুণ উদীয়মান গায়ক ইমরান মাহমুদুলের বহুল জনপ্রিয় "বলতে বলতে চলতে চলতে " গানের  মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যায়ন করা হয়েছে সাজেক ভ্যালীতে।এই মিউজিক ভিডিওটিতে সাজেক ভ্যালীর কিছু  মনোরম দৃশ্য দেখতে পাবেন।

 

আরও  বেড়াতে যেতে পারেন

ঘুরে আসুন প্রবাল দ্বীপ “সেন্টমার্টিন”

প্রকৃতির এক অনন্যসুন্দর জায়গা ‘বিছানাকান্দি’

চোখ জুড়ানো “হামহাম জলপ্রপাত”