ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ৬ মাঘ ১৪২৪
Beta Version

সংলাপ নিয়ে যা বলছেন ফখরুল-কাদের


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ০৯:৩৫ পিএম আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ০৯:৩৭ পিএম
সংলাপ নিয়ে যা বলছেন ফখরুল-কাদের

বতর্মান আওয়ামী লীগ সরকার চার বছর পূর্ণ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ হাসিনাও জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এর একদিন পর আজ শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য রাখেছেন। এ সময় তারা দু’জনই আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। এ সময় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে পাল্টপাল্টি বক্তব্যও রাখেন তারা। গোনিউজের পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো:-

ফখরুল:
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে আলোচনা করতে সংলাপ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা এখনও হাজির না করার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের এই প্রতিক্রিয়ায় দৃশ্যত দলটির নরম সুর ফুটে উঠল। শুক্রবার ভাষণের পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এতে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হল।

দশম সংসদ নির্বাচনে বর্জনের পরও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই সরকারের রূপরেখা দেবেন বলে এলেও এখনও তা আসেনি।

এদিকে বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসার পর সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাতে সব দলের অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।    

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে তার উচিৎ হবে এ নিয়ে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। আমার দল মনে করে, একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল যাবত সকল বিরোধী দল ও সুশীল সমাজসহ সব দলের অংশ গ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।


দশম সংসদ নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ছোট সরকার গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা। এবার কেমন হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তাছাড়া বিএনপি এখন সংসদে নেই।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা অংশ নেয়নি। শেখ হাসিনা বলে আসছেন, অংশ নিলে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হত।

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিএনপির রূপরেখা ‘যথা সময়ে’ উপস্থাপন করা হবে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নাই। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না।

কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জনগণের শান্তি ও স্বস্তির জন্য সকল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে ‘দায়িত্বশীলতার পরিচয়’ দিতে আহ্বান জানান ফখরুল।

বিএনপি সংলাপের কথা বারবার বলে এলেও শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এক্ষেত্রে দশম  সংসদ নির্বাচনের আগে আলোচনায় বসতে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেও সাড়া না পাওয়াকে কারণ দেখাচ্ছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, দেশবাসী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিদ্যমান সঙ্কট উত্তরণে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা পায়নি। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ, বিস্ময়-বিমূঢ় ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমি গতকাল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে ফিরিস্তি দিয়েছেন, তাতেও ভিন্নমত জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান তার শাসনামলের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উন্নয়ন দশক পালন করেছিলেন। গণতন্ত্রহীন তথাকথিত উন্নয়ন জনগণ গ্রহণ করেনি। পরিণতিতে তার মতো লৌহমানবকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিদায় নিতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও উন্নয়ন মেলা করছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস পাকিস্তানি আমলের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে ধরনের চমকের আশ্রয় নিয়েছিল,বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তার শাসনামলে উন্নয়নের এক চোখ ধাঁধানো বয়ান পেশ করেছেন। যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই,” বলেন বিএনপি মহাসচিব।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ওবায়দুল কাদের:
নির্বাচন করা বিএনপির অধিকার। তাই সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে, তেমনি বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নেবে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে।

শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি কি কারো দয়া দাক্ষিণ্যর ওপর নির্ভর হয়ে নির্বাচনে যাবে? নির্বাচন বিএনপির অধিকার। নির্বাচন করার জন্য রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান। এদেশের সংবিধানে নির্বাচন করার জন্য যেমন নির্দেশনা দেয়া আছে, নির্বাচন সেভাবেই হবে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা করবে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। সংলাপ করার পরিবেশ বিএনপি রাখেনি। আর যদি আগামীতে কোনো সংকট দেশের সামনে হাজির হয়, তখন অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত হবে কী করা জরুরি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি মানুষ পুড়িয়েছে। জনগণ এসব ভুলে যায়নি। এসব করে বিএনপি তার ভোট ব্যাংক হারিয়েছে। এসব করার জন্য বিএনপিকে খেসারত দিতে হবে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে খুশি হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি খুশি হতে পারেনি। বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে হতাশ।

নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যারা এসব নিয়ে কথা ওঠায় তারা যেন সংবিধানটা আবার পড়ে দেখে।

খালেদা জিয়া সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি যদি সত্যিই সংলাপ চাইতেন তবে গতবার এভাবে সংলাপ প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন না। সংলাপ নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক স্টান্টবাজি করতে গিয়ে সুযোগ হারিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গোনিউজ২৪/কেআর

রাজনীতি বিভাগের আরো খবর
নির্বাচন বন্ধে সরকারের সঙ্গে ইসির যোগসাজশ রয়েছে

নির্বাচন বন্ধে সরকারের সঙ্গে ইসির যোগসাজশ রয়েছে

হাসিনার অনুমোদন ছাড়াই নেতা

হাসিনার অনুমোদন ছাড়াই নেতা

রাজনীতির মাঠে শেখ পরিবারের নতুন সদস্য

রাজনীতির মাঠে শেখ পরিবারের নতুন সদস্য

নির্বাচন কমিশন অযোগ্য এটা প্রমাণিত : ফখরুল

নির্বাচন কমিশন অযোগ্য এটা প্রমাণিত : ফখরুল

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

আইভীর পাশে ওবায়দুল কাদের

আইভীর পাশে ওবায়দুল কাদের

grameenphone