ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫

ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ১০:০৫ পিএম আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ১০:০৬ পিএম
ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?

অসাধারণ এক নিউ জেনারেশন ও এক প্যারেন্টিং দেখছি। ছোট থেকে বাচ্চাকে প্যাম্পারিং করে বড় করা হচ্ছে, তারা যা চাচ্ছে তাই দেয়া হচ্ছে। তারা স্কুল থেকে ফিরে বলবে টিচার পড়ায় না; আন্নি মান্নি সবাই ঐ যে আরেক স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে, আমাকেও পড়তে হবে৷ আধুনিক প্যারেন্টস সমব্যাথী এবং কম্পিটেটিভ। আন্নি মান্নির মা-বাপ প্রাইভেট পড়াচ্ছে তারা কি বসে আঙুল চুষবে নাকি? "ছোট" বাচ্চা এবং তাদের 'লিথ্যাল ইগো'র জন্যে তাদের বাচ্চাকেও প্রাইভেটে পাঠাবে।

পরীক্ষার সময় এসে গেছে। বাজারে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে শুনা যাচ্ছে। আমাদের অত্যাধুনিক প্যারেন্ট ফেসবুক ঘেটে সাপ্লাইয়ারের কন্টাক্টস বের করে ফেলেছেন। টাকা দিয়ে কিনে এনে বাচ্চার হাতে পরের দিনের প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। এবার পাশের বাসার ভাবীর সাথে গল্প করা যাবে জমিয়ে, 'ভাবী জানেন, আমার মেয়ে-তো এস এস সি তে এবার সব সাবজেক্টে A+, বোর্ডে গিয়ে মার্ক্স দেখেছি, সবগুলোতে ৯০+। চিন্তা করেন ভাবী?!'

বাচ্চা বলেছে, আম্মু ম্যাথ টিচার খুব হার্ড। বাসায় পড়া রেডি না করে গেলে ক্লাসে কথা শুনায়। আমার ভাল্লাগেনা। এমনিতেই আমার আইফোনটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি ডিপ্রেসড তারউপর ক্লাসে বকাঝকা ভাল্লাগে? মা পরের দিন গিয়ে প্রিন্সিপালকে বলে দিয়েছেন, আপনার ম্যাথ টিচারকে বলে দিবেন কথা কম বলতে। উনার ক্লাস আমার মেয়ে করবে না, তার জন্য আরো ভালো প্রাইভেট টিউটর নিবো। স্কুল থেকে আসার সময় মেয়ের জন্যে একটা আইফোনও কিনে আনলেন। টাকা আছে তো অনেক।

আধুনিক প্যারেন্টরা বা জাতি হিসেবে আমরাই হয়তো ভুলে গেছি স্কুলের কাজ কি। ডিসিপ্লিন, ইথিকস এগুলো নিয়ে আর স্কুল কলেজে কথা বলা যাবে না। যার যা ইচ্ছা তাকে সেটা করতে দিতে হবে। নকল করলে বাহবা দিতে হবে। সবচেয়ে ইনোভেটিব নকল এর জন্য 'বর্ষসেরা' প্যারেন্টস অ্যাওয়ার্ড দিতে হবে। এট দ্য ইন্ড অব ইয়ার, আধুনিক মা-বাবা-দের সৎ বা নৈতিক সন্তান দরকার নেই, দরকার পাশের বাসার ভাবীর সাথে গল্প করার মতো 'সাবজেক্ট' দেয়া সন্তান।

আমি এখন আমার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা চিন্তা করি। তারা কি আমাদের ভুলভাবে বড় করলেন। গ্রামের স্কুলে প্রাইমারি হাইস্কুলে পড়েছি। বেত খাওয়া মোটামুটি রুটিন ছিলো, পড়ার জন্য বেশি না বেশিরভাগ সময় নখ বড় রাখা, একটা ক্লাস মিস করা বা ক্লাসে কলম খেলার জন্যে, বা রাস্তায় উনাদের সামনে কোনো মুরুব্বিকে সালাম না করার জন্য। উনাদের উপর তখনও রাগ হয়নি, এখন মনে হয় এ জীবনে মা-বাবার পরে উনারাই সবচেয়ে বড় ব্লেসিং ছিলেন।

আমরা মার খাওয়া প্রজন্মরা আমাদের ভালো বা 'মার দেয়া' 'গালি দেয়া' টিচারদের এখনো শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবাসি। যারা মনে করেন একজন শিক্ষক তার ইন্সটিটিউটের রুলস এন্ড রেগুলেশন মেইন্টেইন করার জন্যে যা করা দরকার সেটা করা উচিত হয় নি তাহলে একই সাথে নিজেকেও প্রশ্ন করুন আপনি আপনার সন্তানকে কি ভ্যালুস শিখিয়েছেন? সাফল্যের সময় গলা উচিয়ে বলবেন 'আমার সন্তান আমার অহংকার', ব্যর্থতার দায়ভার শুধু শিক্ষকের?

কামরুল ইসলাম শিপু
লেকচারার, ডিপারমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজি
অ্যাট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল

গোনিউজ২৪/এআরএম

মতামত বিভাগের আরো খবর
প্রধানমন্ত্রী যে কাজে হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন 

প্রধানমন্ত্রী যে কাজে হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন 

শফী সাহেব কতটা সংকীর্ণ মন আপনার...!

শফী সাহেব কতটা সংকীর্ণ মন আপনার...!

শ্রদ্ধেয় হুজুর, শিক্ষিত মেয়েদেরকে আপনার কিসের এতো ভয়?

শ্রদ্ধেয় হুজুর, শিক্ষিত মেয়েদেরকে আপনার কিসের এতো ভয়?

‘নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার সংবাদ হতাশাজনক’

‘নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার সংবাদ হতাশাজনক’

তবুও অপেক্ষা করব একটি নতুন বাংলাদেশের

তবুও অপেক্ষা করব একটি নতুন বাংলাদেশের

তাদের রাজনীতিতে উত্থানের গল্প

তাদের রাজনীতিতে উত্থানের গল্প