ঢাকা বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
Beta Version
Sharp AC

নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে


গো নিউজ২৪ | ইমতিয়াজ আমিন প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ০৮:০৬ পিএম আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ০২:২০ পিএম
নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে
Sharp AC

ঢাকা : কিভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসময় নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন বলে অশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের চার বছর পূর্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। প্রায় আধাঘণ্টা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো মহল নির্বাচনকে নিয়ে যড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে। সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করবে সেই অবস্থা আর বাংলার মাটিতে হতে দেয়া হবে না।
 
তিনি বলেন, সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

এসময় জনগণকে সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কোনো মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণ অশান্তি চায় না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পদ্মা সেতুসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণের সমর্থন কামনা করেন।

তিনি বলেন,  সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরীতা নয়। বঙ্গবন্ধুর এই নিতে অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিশ্বের সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রুপান্তর করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করা হবে। 

উন্নয়নের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক বার ভেবে দেখুন তো ১০ বছর আগে দেশের অবস্থা কেমন ছিলো। আপনি কী চান না আপনার সন্তান সু-শিক্ষিত হোক। আপনি কী চান না দেশের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছে যাক। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। বাংলাদেশ আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চায় না, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চায়। এসব যদি দেশবাসীরও চাওয়া হয়, তাহলে তারা সবসময়ই তাদের পাশে আছেন। কারণ, তার সরকার লক্ষ্য স্থির করেছে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করবে। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু তারা বসে নেই। সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নও করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

বর্তমান সরকার সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া পদ্ধা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানা প্রধানমন্ত্রী। 

দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। দেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।

বিশ্ব বাজারে মন্দা থাকা সত্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভাষণের শুরুতে তিনি দেশেবাসীর প্রতি সালাম জানিয়ে ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, জনগণ তার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন তার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। কতটুকু সফল কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন, সে বিচার জনগণই করবেন। এরপর তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন। ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সেই আকাঙ্খা পূরণ করাই তার একমাত্র ব্রত। ‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’-জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা তার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা তার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ এবং স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে তিনি যখনই মানুষের কাছে গিয়েছেন, তখনই পেয়েছেন মানুষের অপার স্নেহ, ভালবাসা ও আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর-এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারাই নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। নয় বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্রোরেল ও অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রাবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়। সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য জনগণকেই ঠিক করতে হবে-তারা কী চান! তারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না আবার পিছনের দিকে চলুক- সেটাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো, মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল? মানুষ কী চান না তাদের সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। সে হিসেবে আজ শুক্রবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার তাদের চার বছর পূর্ণ করে।

বিস্তারিত জানকে ক্লিক করুন: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পুরো ভাষণ.....বিস্তারিত

গো নিউজ২৪/আই

জাতীয় বিভাগের আরো খবর
মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতায়ও সর্বোচ্চ শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী 

মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতায়ও সর্বোচ্চ শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী 

গাজীপুরে ভোট সুষ্ঠু না হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা    

গাজীপুরে ভোট সুষ্ঠু না হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা    

বিধি-বিধানের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন খালেদা    

বিধি-বিধানের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন খালেদা    

এমপি পুত্রের বেপরোয়া গতির গাড়ি প্রাণ নিলো পথচারীর

এমপি পুত্রের বেপরোয়া গতির গাড়ি প্রাণ নিলো পথচারীর

নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে

নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে

কমলাপুর রেলওয়ে থানার টয়লেটে ভারতীয় নারীর সন্তান প্রসব

কমলাপুর রেলওয়ে থানার টয়লেটে ভারতীয় নারীর সন্তান প্রসব

Best Electronics AC mela