ঢাকা সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮, ৯ বৈশাখ ১৪২৫
Beta Version
Sharp AC

জন্মদিনে মহানবী (সা.) কী করতেন


গো নিউজ২৪ | ইসলাম ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০১৭, ০৮:৩২ পিএম আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৭, ০৮:৩৫ পিএম
জন্মদিনে মহানবী (সা.) কী করতেন
Sharp AC

গোটা বিশ্বের জন্য রহমত হয়ে এসেছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। কবে তিনি এ বিশ্বে তাশরিফ এনেছেন? এ বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়।

প্রসিদ্ধ অভিমত হলো, মহানবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। হাদিসবিশারদ ও ঐতিহাসিকদের কাছে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, আবরাহার হস্তীবাহিনীর বিনাশপ্রাপ্তির ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর রাসুল (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আবু তালিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), জুবাইর ইবনে মুতঈম (রা.), আল্লামা ইবনুল জাওজি, কুতুবউদ্দীন কাসতালানি (রহ.)সহ বেশির ভাগ মুহাদ্দিস ও জীবনীকার এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। [সিরাতে মুস্তফা (বাংলা) : ১/৬৩-৬৪, ইদ্রিস কান্ধলবী, জুরকানি : ১/১৩০-৩১]
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরী ও মাহমুদ পাশার অনুসন্ধানি অভিমত হলো, রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ ৯ রবিউল আউয়াল। ইংরেজি পঞ্জিকা মতে, তারিখটি ছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল। (মাহমুদ পাশা, তারিখে খুজরি, প্রথম খণ্ড, পৃ. ৬২, সুলাইমান মানসুরপুরী, রাহমাতুল্লিল আলামিন, প্রথম খণ্ড, পৃ. ৩৮-৩৯)

মহানবী (সা.) যে যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন, সে যুগে জন্ম তারিখ রেজিস্ট্রি করে রাখার প্রথা ছিল না। সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোতেও এ রেওয়াজ ছিল না। সে হিসেবে রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখও কোথাও লিপিবদ্ধ ছিল না। তাই তাঁর জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

তবে ১২ রবিউল আউয়াল রাসুল (সা.)-এর ওফাত হওয়ার ব্যাপারে কারো মতবিরোধ নেই। কেননা তত দিনে তিনি বিশ্বনবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন। গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর ওফাত দিবসের তারিখ স্মরণে রেখেছে। সুতরাং যদি মেনে নেওয়া হয় যে ১২ তারিখ রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ, তাহলে দেখা যায় ওই দিনই তাঁর ওফাত দিবস। কাজেই এই দিন একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার।
যদি জন্ম তারিখের দিকে থাকাই, তাহলে এটা খুশির দিন। আবার রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালও যেহেতু এই দিনে, সে হিসেবে দিনটি দুঃখেরও দিন।

প্রশ্ন হলো, আমরা দিনটি কিভাবে উদ্যাপন করব? আমরা দেখতে পাই, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেইনের যুগে তাঁরা খুশির দিবস হিসেবেও পালন করেননি, শোক দিবস হিসেবেও পালন করেননি।

বরং আমরা দেখতে পাই, মহানবী (সা.) জন্ম তারিখ নয়, জন্ম বার বা জন্মের দিন উদ্যাপন করতেন। কিন্তু সে উদ্যাপনও কোনো উৎসব, মিছিল বা ভোজনরসিকতার মাধ্যমে নয়। মহানবী (সা.) তাঁর জন্মের দিন সোমবার রোজা রাখতেন। হাদিসবিশারদরা লিখেছেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মের কারণে প্রতি সোমবার রোজা রাখা মুস্তাহাব। হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়...। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

প্রিয় পাঠক! আসুন আমরা মহানবী (সা.)-এর অনুসরণ করি। তাঁর আদর্শ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করি।

মুফতি গোলাম কিবরিয়া   লেখক : ইসলামী গবেষক

ইসলাম বিভাগের আরো খবর
পবিত্র শবে বরাত ১ মে

পবিত্র শবে বরাত ১ মে

মসজিদে পুরুষের পাশে নামাজ পড়তে চান নারীরা

মসজিদে পুরুষের পাশে নামাজ পড়তে চান নারীরা

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

পবিত্র শবে মেরাজ ও পহেলা বৈশাখ

পবিত্র শবে মেরাজ ও পহেলা বৈশাখ

ছেলের বাবা কী পাত্রীকে দেখতে পারবেন?

ছেলের বাবা কী পাত্রীকে দেখতে পারবেন?

কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে খ্রিস্টান গবেষকের ইসলাম গ্রহণ

কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে খ্রিস্টান গবেষকের ইসলাম গ্রহণ

Best Electronics AC mela