২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

এক নজরে বারী সিদ্দিকী


গো নিউজ২৪ | বিনোদন প্রতিবেদক আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার
এক নজরে বারী সিদ্দিকী

পুরো নাম আবদুল বারী সিদ্দিকী। ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবে গান শেখার হাতেখড়ি হয় পরিবারের কাছ থেকে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। 

কিশোর বয়সে ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারি সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। 

পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন এই কিংবদন্তী।

বারী সিদ্দিকী মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গানের শিল্পী ছিলেন। তবে একাধারে তিনি খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক।

দীর্ঘদিন সংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বারী সিদ্দিকী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর।

এই ছবিতে তার গাওয়া সাতটি গানই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘শুয়া চান পাখি’ গানটি দর্শক মনে বেশ নাড়া দেয়। 

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তী শিল্পী।

শুধু গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই সংগীতশিল্পী। পাশাপাশি অভিনয় জগতেও বিচরণ ছিল তার। ২০১৩ সালে ফেরারি অমিতের পরিচালনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এতে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন আনিসুর রহমান মিলন ও তানিয়া কাজী।

২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল রূপালি পর্দায় উকি দেন বারী সিদ্দিকী। ‘মাটির পিঞ্জিনা’ শিরোনামের ছবিতে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এস এম শাহনেওয়াজের পরিচালনায় ছবিটিতে তার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, শম্পা, শাহিদ খান ও আফরোজা বানু।

দারুণ বংশীবাদক শিল্পী বারী সিদ্দিকী এক কন্যা ও দুই ছেলে সন্তানের জনক।

গত ১৭ নভেম্বর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। 

গতকাল দিবাগত রাত প্রায় ২ টা ৩০ মিনিটে এই কিংবদন্তীর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। 

গো নিউজ২৪/কাসা