২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

মাঠের ধান উঠানে ফলন কম


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার
মাঠের ধান উঠানে ফলন কম

বরেন্দ্র অঞ্চল জুড়ে পুরোদমে চলছে আমন কাটা-মাড়াই। মাঠের ধান উঠেছে উঠানে। তবে, ফলন কম হওয়াই হতাশায় ভুগছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকার আক্রমনকে দায়ী করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। ফলন কম হলেও ধানের দাম ভাল থাকায় অল্প হলেও স্বস্তিতে রয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘায় গড়ে ধান হচ্ছে ১০ থেকে ১৩ মণ করে। গত বছর হয়েছিল ১৮ থেকে ২০ মণ। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম রয়েছে প্রতিমণ ৮৪০ থেকে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত। গত বছর এ সময় ধানের দাম ছিল প্রতিমণ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। তাদের হিসাবে গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ধানের দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা বেশি। 

এ দিকে সরকার আমন ধানের মুল্য নির্ধারণ করেছেন। প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ধান কিনবে সরকার। সরকারে নির্ধারিত মুল্যে একমণ ধানের দাম এক হাজার ৪০ টাকা হবে। কিন্ত এখন পর্যন্ত ধানের বাজারে সরকারের নির্ধারিত দামের প্রভাব পড়েনি। বাজারে একমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের, রাজশাহী, নঁওগা, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হবে আরো ৩ লক্ষ্য ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান। ১২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। মাঠে ধান ভাল থাকায় বুকে অনেক স্বপ্ন বেধেছিলেন তিনি। ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে সোমবার। সে হিসাব করে দেখেন তার বিঘা প্রতি ১২ মণ করে ফলন হয়েছে। মাহজনকেই দেয়া লাগবে প্রতি বিঘায় ১০ মণ ধান।

জামিনুর রহমান জানান, ক্ষেতে অনেক খরচাপাতি করে ধান ভালই হয়েছিল। কিন্ত ধান আধাপাকা অবস্থায় দুই দিনে নি¤œচাপ ও ঝড়ো হাওয়াই তার ক্ষেতের ধার মাটিতে পড়ে যায়। সে সাথে দেখা দেয় পোকার আক্রমন। তার কারণেই তার ফলন বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এমন ফলন বিপর্যয় শুধু কৃষক জামিনুর রহমানের একাই নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলের শতকরা ৭০ ভাগ কৃষকের এবার ফলন বিপর্যয় হয়েছে প্রাকৃকিত দুর্যোগ ও পোকার আক্রমণের কারণে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী উপজেলার কাকন হাট ও সোমবার তানোর উপজেলার মু-ুমালা হাটে গিয়ে দেখা যায় হাটে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে।মাঠের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধান কাটা-মাড়াই শেষ করেছেন কৃষকেরা।কাকন হাটে নতুন সুমন স্বর্না জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ৮৪০ থেকে ৮৮০ টাকায়। 

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমসের আলী জানান, চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে যে ভাবে ধানের মাথা ছিল তাতে বাম্পার ফলনে আশা ছিল শতভাগ। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার পোকা দমনে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। কিন্ত শেষ মহুতে সকল চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে গেল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। ক্ষেতে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধান মাটিতে পড়ে যাওয়াই ফলন কমে গেল কৃষকের। তবে বাজারে ধানের দাম থাকায় কিছুটা ক্ষতি পুষিযে নিতে পারবে কৃষকেরা বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

গো নিউজ২৪/এবি