১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ৭:১০ অপরাহ্ণ

‘স্যার, প্রশ্ন কমন পড়ছে না’


গো নিউজ২৪ | জহির উদ্দিন মিশু, স্পোর্টস ডেস্ক: আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৭ শুক্রবার
‘স্যার, প্রশ্ন কমন পড়ছে না’

হেডলাইনটা দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন এ আবার কোন পরীক্ষা। হ্যাঁ, ব্যক্তিজীবনে সাফল্যের খোঁজে কত পরীক্ষাই দিতে হয় আমাদের। বোদ্ধারা বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে নানান পরীক্ষা। হোক সেটা বিসিএস, হোক কোনো চাকরির পরীক্ষা কিংবা জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার পরীক্ষা।

খেলার মাঠ তার বাইরের কিছু নয়। ২২ গজে একজন ক্রিকেটারকে নিত্য-নতুন পরীক্ষা দিয়েই জনপ্রিয়তার আসনে বসতে হয়। যাক হয়ে গেল অনেক কথা, কথার কারণে কথা বলা। এবার আসি মূল কথায়।

ক্রিকেট, বাংলাদেশে একটা জনপ্রিয় নাম, আবেগের নাম, ভালোবাসার নাম। যে নামে মনে পড়ে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে, যে নামে মনে পড়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। আবার যে নাম জপলে মনে পড়ে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দলের একের পর এক হারের ক্ষত।

দুই টেস্ট আর দুই ওয়ানডে। বেশ বাজেভাবে হেরেছে লাল-সবুজের দেশটি। কিন্তু কেন? প্রশ্ন এ দেশের লক্ষ-কোটি ক্রিকেটপ্রোমীর। যে প্রশ্ন মাথায় এলে শুরুতে চোখ যায় টাইগারদের পেস আক্রমণে। হঠাৎ করে বদলে গেল সব। 
একটা সময় বাংলাদেশ দল ২৫০/২৬০ রান করলেই যে কোনো দেশকে সহজেই নুইয়ে ফেলত। সেই বাংলাদেশ এখন ৩০০ বা ৩০০ প্লাস রান করেও বলে-কয়ে হারছে। ক্রিকেটবোদ্ধারা দিনরাত ভাবছে, সাংবাদিকরা দিস্তা দিস্তা লিখছেন, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবুও দেখা নেই সমাধানের। 

তবে কী প্রশ্ন কমন পড়ে নাই তাসকিন-রুবেলদের? কোর্টনি ওয়ালশ, নাম শুনলে এখনো বুক কাঁপে অনেক সাবেক সুপার ডুপার ব্যাটসম্যানদের। সেই ওয়ালশের ছাত্ররা কিনা প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে একটা উইকেটও উপহার দিতে পারল না। ঘাটতিটা কোথায়, ছাত্রদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, নাকি স্যার ওয়ালশ বুঝাতে ‘অক্ষম’। এও হতে পারে ছাত্ররা যা পড়ছে, পরীক্ষার সেটা কমন পড়ছে না।

যদি, কিংবা, মনে হয় থেকে বের হয়ে এবার কথা কাজে মেলানো যাক। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ালশ টাইগার শিবিরে যোগ দেওয়ার পর অদ্যাবধি বাংলাদেশ ২২টা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। জয় পেয়েছে ৭টি। যার মধ্যে বোলাররা ম্যাচ জেতায় ৪টা। ৫ টি-টোয়েন্টির মধ্যে বাংলাদেশের জয় ১টা। 

আর ১১ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে ৩ টেস্টে। যার মধ্যে দুই টেস্ট জয়ে ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বোলারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।
তার ঠিক এক কদম পেছনে ফিরলে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাহবা দিবেন অনেকই। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে দারুণ সফল ছিলেন হিথ স্ট্রিক। ২০১৪ সালের ২৬ মে মাশরাফি-তাসকিনদের বোলিং কোচ হয়ে যোগ দেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক। চার বছর বাংলাদেশ দলে থাকার কথা থাকলেও দুই বছরের মাথায় ২০১৬ সালের মে ২৬ পদত্যাগ করেন স্ট্রিক। 

পুরো চার বছর বাংলাদেশ দলে না থাকলেও যে দুই বছর টাইগারদের পেয়েছেন, বোধহয় সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। ৩ টেস্ট, ১৮ ওয়ানডে এবং ৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা স্ট্রিকের কোচিং অধ্যায়েই। হিথ স্ট্রিকের ফর্মুলাতে সব ফরম্যাট মিলে ৩০ জয়ের মধ্যে ১৪ জয়ের সিংহভাগ অবদান রাখেন পেসাররা। স্পিন নির্ভর বাংলাদেশ দলকে পেস বোলিং কেন্দ্রিক দলে পরিণত করেছেন তিনিই। দলে চার পেসার নিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দুর্দান্ত করেছিল বাংলাদেশ।

যদিও পেসারদের সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে উইকেট একটা বড় ফ্যাক্টর। তবু এতটা বিবর্ণভাব আগে হয়েছে কী? একটা সময় বোলিংই ছিল বাংলাদেশের মূল অস্ত্র। কিন্তু দিনের পর দিন সেই বোলিং যেন প্রাণ হারাচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব টুকটাক পালন করলেও বোলাররা মার খাচ্ছেন নিয়মিত। তবে দোষটা কার? গুরু নাকি ছাত্রের।

গো নিউজ২৪/এসএম