২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া, অতঃপর...


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া, অতঃপর...

রাজশাহী: প্রেমের টানে পরিবার ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল সাথী রাণী (১৫)। এক রাশ ভালোবাসার রঙিন স্বপ্ন ছিল তার চোখে। কিন্তু প্রেমিকের প্রতারণায় তার জীবনে কালো অন্ধকার নেমে এসেছে। প্রতারক প্রেমিকের আঘাতে গুরুরত আহত সাথী রাণী এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার বাড়ি নাটোর উপজেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামে।

আহত সাথী জানায়, সে চণ্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পাশের গ্রামের সুজন নামে এক ছেলেও ওই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। লেখাপড়ার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সম্পর্কের কথা সাথীর পরিবার জানতে পেরে বাধা দেয়। ওই সময় সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা বাড়ি ছেড়ে পালাবে।  কচি মনে রঙ্গিণ স্বপ্নগুলো বাতাসে দোল খেতে থাকে।

সাথী আরও জানায়, তার মা পাবর্তী অনেক আগেই মারা গেছে। তারপর পরিবারের লোকজন আশা এনজিওতে তার নামে ৩০ হাজার টাকা জমা রাখে। প্রেমিকের হাত ধরে পালানোর পরিকল্পনা করার পরে সে গোপনে ওই টাকা উত্তোলন করে। সেই সঙ্গে পরিবারের জমানো আরও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সে ১২ নভেম্বর প্রেমিক সুজনের হাত ধরে অজানার উদ্দেশে পালিয়ে যায়।

প্রথমে তারা নাটোর সদরে আসে। এরপর ওই রাতেই প্রেমিক সুজন তার সঙ্গে প্রতারণা করে। বাস ধরে তারা অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করে।  তবে একা পেয়ে প্রেমিক সুজন সাথীর মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। এ সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে রামেক হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে আবিষ্কার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেক হাসপাতালের আয়া জানান, ১৩ নভেম্বর কে বা কারা তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে চলে যায়। জ্ঞান ফেরার পরে সাথী বেগম তার পরিচয় জানায় ও মোবাইল নম্বর দেয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। সাথী বেগমের দেয়া নম্বর অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে ফোনও দেয়া হয়। কিন্তু সাথীর পরিবার তাকে মেয়ে বলে স্বীকার করতে চায় না। বিষয়টি নারী নির্যাতন বলে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে (ওসিসি) জানানো হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা নাজমা বেগম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন। এ বিষয়ে আহত সাথীর খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সাথী আর একটু সুস্থ হলে ওসিসিতে নেয়া হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

গোনিউজ২৪/এমবি