১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১:৩১ অপরাহ্ণ

বঙ্গবীর সত্যিই ফিরছেন আ.লীগে?


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
বঙ্গবীর সত্যিই ফিরছেন আ.লীগে?

ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা আবারো আওয়ামী লীগে ফিরছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্বাধীনতাযুদ্ধের মহানায়ক বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকীতে তাঁর কন্যা ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর থেকেই বঙ্গবীরকে নিয়ে এমন আলোচনা শুরু হয়।

দীর্ঘ একযুগ পর গেল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে যান বঙ্গবীর। সেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। এসময় বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, ছেলে দীপ সিদ্দিকী ও মেয়ে খুশি সিদ্দিকী।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সমরনায়ক ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য ছাড়াই ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কাদেরিয়া বাহিনী গঠিত ও পরিচালিত হয়েছে তার নেতৃত্বেই। অসীম বীরত্বের কারণে তিনি বাঘা কাদের নামেও পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি বীর উত্তম খেতাব পান। তখন থেকেই তাকে বঙ্গবীর নামে ডাকা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে এই বঙ্গবীরই অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্য এমন জীবন বাজি রাখা কাদের সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ জানান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এসময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার সঙ্গে বঙ্গবীরের সাক্ষাৎ, আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টির প্রভাব পড়ে পরদিন ১৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায়। সেখানে সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর যে কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন তাতে একাধিকবার উচ্চারিত হয় কাদের সিদ্দিকীর নাম।

দীর্ঘ একযুগ পর শেখ হাসিনার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ এবং শোক দিবসের আলোচনায় বারবার তার উচ্চারণ হওয়ায় খুশি আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তারা ভাবছেন কাদের সিদ্দিকী হয়তো আবারো ফিরছেন আওয়ামী লীগে।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে নেতিবাচক সমালোচনা করায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে মুক্তিযুদ্ধের এই সমরনায়ক নতুন রাজনৈতিক দল কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ গঠন করেন। বর্তমানে তিনি এই দলের সভাপতি।

যদিও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেও বঙ্গবীর বিএনপি-জামায়াতের জোটে যোগ দেননি কখনও। সে কারণেই নিজ ঘরে ফেরা নিয়ে তার কোনো বাধা নেই।

গোনিউজ২৪/এন