২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রচারেই প্রসার...


গো নিউজ২৪ | বিনোদন প্রতিবেদক আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
প্রচারেই প্রসার...

প্রচারেই প্রসার। সিনেমা মুক্তির আগে প্রমোশন একটি আবশ্যকীয় বিষয়। বহু ভালো মানের সিনেমা প্রচারের অভাবে দর্শকদের কাছে পৌছাতে পারে না। আবার কিনা প্রচারেই ভাগ্য বদলে হেসেছে অনেক সিনেমা। টম ক্রুজ আহত কিংবা শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে মামলা। দিনশেষে এমন অনেক খবর প্রচারণার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়। নায়ক- নায়িকার মধ্যে প্রেম ঘনিষ্ঠতাও প্রমোশনের পুরানো এক ফর্মূলা।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রচারণা কৌশল কতটা এগিয়েছে তুলনামূলকভাবে? খুবই দুর্বল। দু:খজনক হলেও সত্যি বাংলাদেশে বহু সিনেমার কলাকুশলিরা প্রচারনায় হারহামেশা অংশ নেয় না। অনেকে জানেই না তার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে! অথচ বহি:বিশ্বের সিনেমা মুক্তির আগে নানা কৌশলে প্রচারণা চালানো হয়। এর জন্য বড় অঙ্কের বাজেটও থাকে।

একটা সময় আমাদের দেশের সিনেমা প্রচারণা হতো কীভাবে? নানা ট্যাগ লাইন, স্লোগান ও বক্তব্যে ভরপুর বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতো পত্র-পত্রিকায়। সেগুলোর আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য আবার থাকত কুইজ। রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনেও এর প্রচার হত। বিটিভিতে ছায়াছন্দ নামে যে জনপ্রিয় গানের অনুষ্ঠান হতো। তার মাধ্যমেও দর্শক নতুন ছবির খোঁজ পেয়ে যেত। বাংলাদেশ বেতারে প্রতিদিন প্রচার হতো নির্দিষ্ট কোনো সিনেমা নিয়ে অনুষ্ঠান। বিটিভিতে চলতো ট্রেলার। হলে নতুন ছবি আসলে এলাকায় মাইকের প্রচারণা চলতো তুমুল। দর্শকের কাছে নতুন ছবির একটা আবেদন ছিল। দরাজ কন্ঠের মাযহারুল ইসলাম কিংবা নাজমুল হোসাইনরা মূলত সিনেমার প্রমোশনে ভয়েস দিয়ে বিখ্যাত হয়েছেন।

বর্তমান সময়ে কি হচ্ছে? ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে। প্রায় সব শ্রেণির মানুষের রয়েছে এখন অনলাইনে নিয়মিত যাতায়াত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে অনলাইন আরও বেশি জনপ্রিয়। দিনের অনেকটা সময় তারা ফেসবুক, টুইটার অথবা ইউটিউবে কাটায়। ধারা বদলে তাই প্রযোজক কিংবা পরিচালকরা নির্ভর করছে অনলাইনের। সেখানে ছবির ট্রেলার, টিজার কিংবা গান প্রকাশ করে থাকে। মুহূর্তে তা পৌছে যায় কোটি দর্শকের কাছে। দর্শকরাও তা নিয়ে অনলাইনেই চালায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। চলচ্চিত্র নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। যেখানে সিনেমা নিয়ে নানাজন নানা মত দিয়ে থাকেন। ছবির ট্রেলার, গান অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক ধরতে পারছে ছবিটি মৌলিক না নকল। মুক্তির দিনই অনলাইনে দর্শক রিভিউ লিখছে নিজের মতো করে। ভালো রিভিউ পেলে নতুন দর্শক হলে যায়, নইলে এই দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাকে নিয়ে ফেসবুক গ্রুপ খুলে। সেখানে ভক্তদের মধ্যে তার প্রিয় তারকাকে নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ লেগে যায়। তারকারাও তাদের ফেসবুক ওয়ালে সিনেমার প্রচারণা করে থাকেন।

কিন্তু এতটুকু প্রচারণাই কি যথেষ্ট? তাহলে বলিউড কিংবা হলিউড প্রচারণায় এত টাকা ব্যায় করতো না। প্রচারণা একটা সিনেমার ব্যবসা কতটা বৃদ্ধি করতে পারে সেটা ‘আয়নাবাজি’ টিমও অনেকটা দেখিয়েছে।

শাহরুখ খানের প্রচারণা কৌশল বেশ বিখ্যাত। ভালো অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি ঝানু ব্যবসায়ী হিসেবেও শাহরুখ খানের পরিচিতি রয়েছে। সিনেমা মুক্তির আগে প্রচারণার জন্য সাধারণত সিনেমার প্রযোজকরা নির্ভর করেন তারকাদের সাক্ষাৎকার, ফটোশুট আর ছোটপর্দার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন শহরে জনসম্মুখে উপস্থিতির উপর। কিন্তু শাহরুখ কাটালেন অন্য কৌশল। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমায় নাচ ছিল অন্যতম আনুষঙ্গিক উপকরণ। মুক্তির আগে শাহরুখ সিনেমার অন্য তারকাদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি ড্যান্স শো আয়োজন করেন। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরে তুলে নিয়েছিলেন মোটা অঙ্কের অর্থ।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন নির্মাতা কিংবা প্রযোজকরা প্রচারনায় বেশ জোর দিয়েছেন। ‘ডুব’ নিয়ে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক কৌশল অবলম্বন করেছেন। দীপঙ্কর দীপন কিংবা আরেফিন শুভর ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমাতেও ছিল কৌশল। দুটি সিনেমার কলাকুশলিরাও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে দর্শকের সঙ্গে দেখা করেছেন।

বাংলাদেশে এ সময়ে উল্লেখযোগ্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলা যায়। যারা সিনেমার প্রমোশনে এগিয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়া, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, টাইগার মিডিয়া। জাজ মাল্টিমিডিয়া নানা নেতিবাচক কারনেও আলোচিত হয়। ইমেপ্রেস টেলিফিল্মের প্রচারণা কৌশল খুবই দুর্বল। তাদের নিজস্ব কিছু নির্মাতাদের সিনেমার প্রচারই তারা করে থাকে। টাইগার মিডিয়া খুব কম সংখ্যক সিনেমা নির্মাণ ও প্রচারণা করে।
এর বাইরে উল্লেখ করা যাবে টাইগার মিডিয়া, ঋদ্ধি টকিজসহ আরও কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম। যারা তৃতীয় পক্ষ হয়ে ছবির প্রচার ও পরিবেশনার কাজ করে। কিন্তু যতটা কৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তিতেআপডেট হওয়া প্রয়োজন ততটা তারা হয়ে উঠতে পারেনি। অভাব আছে দক্ষ লোকবলের, যারা বিশেষ আইডিয়া দিয়ে ছবিটিকে দর্শকের আগ্রহে নিয়ে যেতে পারবেন।

এ সময়ে এগিয়ে আসতে পারে নানা বিজ্ঞাপনী সংস্থা। তারা যেমন পন্যের বিজ্ঞাপন নির্মাণ ও প্রচার করে থাকে। তেমনি নানা কৌশল প্রযোগ করে সিনেমাকে আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে। বহি:বিশ্বে সিনেমার প্রতিটা সেক্টর আলাদা করে ভাগ করা থাকে। সিনেমার প্রচারণাও বাংলাদেশেও হওয়া উচিত আলাদা কোন বিষয়। এ ক্ষেত্রটিতে প্রতিযোগিতা আসবে, বাড়বে সিনেমার বাজেট ও মান, যা খুব বেশি প্রয়োজন।

কারণ বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এ কথাটাই-প্রচারেই সিনেমার সাফল্য। অর্থাৎ সিনেমাকে প্রচার দিন, সিনেমা আপনাকে ব্যবসা দেবে।

গো নিউজ২৪/ডদি