১২ বৈশাখ ১৪২৪, বুধবার ২৬ এপ্রিল ২০১৭ , ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

‍‍`যৌবন ধরে রাখা যায় যে জলে‍‍` - পামুক্কালে !


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার
|
‍‍`যৌবন ধরে রাখা যায় যে জলে‍‍` - পামুক্কালে !

পামুক্কালে শব্দটা শুনে কেমন যেনো লাগছে তাই না ?তুর্কি ভাষায় পামুক্কালের অর্থ হল তুলোর প্রাসাদ। তুরস্কের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দেনিজলি প্রদেশে মেন্দেরেস নদীর উপত্যকার সবুজ প্রান্তরের মাঝে, হিয়েরাপোলিসের ধ্বংসাবশেষের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এই তুষার-শুভ্র পামুক্কালে। ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রথম দেখাতে মনে হবে এটা কোনো বরফের জায়গা, কিন্ত না বরং সাদা রঙের খনিজ লবণ ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তর এটি। দূর থেকে এ জায়গাটিকে দেখলে মনে হবে যেনো তুলা দিয়ে বানানো এক শ্বেতশুভ্র প্রাসাদ। যতদূর দৃষ্টি যায় সাদা বরফের মত পাহাড়, কিছু কিছু জায়গায় জমে যাওয়া ঝর্ণা, আর স্তরে স্তরে টেরাসের বেসিনে জমে আছে নীল পানি, তৈরি করেছে ছোট ছোট নীল লেক। চেনা জগতের কোন কিছুর সাথেই মিল নেই এই জায়গার। মনে হবে যেনো স্বপ্নে চলে গেছি অচেনা, অজানা এক রাজ্যে। খেয়াল করলাম এক পাশে অনেক ভীড় পর্যটকদের। অতি আগ্রহী পর্যটকদের কেউ কেউ গোসলও করে নেয় এই খনিজ পানিতে।

পামুক্কালের বিস্তীর্ণ জলাভূমি পাললিক শিলা দ্বারা নির্মিত। যার ঢেউ খেলানো আকৃতির মধ্যে বৃষ্টির জল টলমল করে চলে অনবরত। এই লেকগুলো প্রায় ২০ লাখ বছরের পুরনো। বহু বছর আগে এখানে ভূমিকম্পে মাটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ফাটল দিয়ে মাটির নিচের ক্যালসিয়াম কার্বনেটে ভর্তি গরম পানি বেরিয়ে এসে উপরে জমা হত। পানি বাষ্প হয়ে গেলে শুধু ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তর জমা হত। ধীরে ধীরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমে জমে তৈরি হয় লেকগুলোর কাঠামো আর সেখানে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয় সাদা লবণের বিশাল বিশাল স্তরে ছোট্ট ছোট্ট জলাধার।

বিশ্বাস করা হয় যে এই লেকগুলোর পানিতে গোসল করলে কোন রোগ হয়না এবং যৌবন ধরে রাখা যায়। হাজার বছর ধরে পামুক্কালের জলে মানুষ গোসল করে আসছে। শোনা যায় যে, মিশরের রানীরা এইসব লেক থেকে পানি নিয়ে গোসল করতেন। তবে পরিবেশ রক্ষার্থে এখন অল্প কিছু লেকে গোসল করা যায়। বাকিগুলোতে গোসল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পানির নিচের জমা হওয়া পলিকে ক্ষতিসাধনের হাত থেকে রক্ষার জন্যে পামুক্কালের জলধারায় জুতা পরে নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।