২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ

‍‍`বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে‍‍`


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
‍‍`বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে‍‍`

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। সাধাসাধির কিছু নেই। তবে আমার মনে হয়- এবার নাকে খত দিয়ে তারা ইলেকশনে আসবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে উন্নয়নশীল জাতিতে পরিণত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে যেখানে ছিল ভিক্ষুক জাতি, এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অন্তত এই জায়গায় বাংলাদেশটাকে নিয়ে আসতে পেরেছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে না কি পত্রিকা চলেই না। পত্রিকা পড়ে তো আর দেশ চালাই না। দেশ চালাই ভালোবেসে। বাবার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়। সেভাবেই কাজ করছি।’

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মনোনয়নের ব্যাপারে আপনার চিন্তাভাবনা কী?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটাই উত্তর, শত ফুল ফুটতে দেন। সবাইকে প্রার্থী হতে দেন। এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। শত ফুল ফুটবে। তার মধ্যে সময় আসলে আমরা ভালোটা বেছে নেব। কীভাবে বেছে নেব সেটা সময়ই বলে দেবে।’

আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পার্লামেন্টারি সিস্টেম অব ইলেকশনে যে কোনো সময় ইলেকশন দেওয়া যায়। কিন্তু এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।’

সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল জানতে চান, খালেদা জিয়া আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করেছেন। অথচ সম্প্রতি সৌদি আরবে টাকা পাচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কি তাকে ক্ষমা করবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কী অপরাধ করেছি যে আমি ক্ষমা চাইব? তার (খালেদা জিয়ার) উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

‘ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে আগুন দিল, ২০১৪-১৫ সালে কীভাবে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। কাজেই ক্ষমাটা ওনার জাতির কাছে চাওয়া উচিত’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না, তারা নির্বাচনে আসবে না। এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। ছোটলোকিপনা যারা করে তাদের সঙ্গে কিসের আলোচনা? খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলে আমি তার বাসভবনে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল, জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দেশে এমন কোনো দৈন্যদশা হয়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সমীহ করে। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে আওয়ামী লীগকে দরকার। জনগণের জন্য কাজ করেছি। আগামীতে জনগণ ভোট না দিলে আফসোস থাকবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়া সফরে ৯টি সমঝোতা ও একটি চুক্তি সই হয়েছে। সেই সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গোনিউজ/এমবি