২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

৪০ দিনে ৪০ ম্যারাথনে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন এ নারী


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৭ শুক্রবার
৪০ দিনে ৪০ ম্যারাথনে অসম্ভবকে সম্ভব করলেন এ নারী

মানুষের ইচ্ছে শক্তি এমন একটা বিষয়। যা একবার মনে বাসা বাঁধলে অসম্ভবকেও সম্ভব করার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় । এমনি এক নজির স্থাপন করলেন অস্ট্রেলিয়ার মিনা গুলি। ৪০ দিনে ৪০টি ম্যারাথন দৌড়ে তৈরি করলেন অন্যন্য ইতিহাস। দৌড়ের প্রতি এতটাই নেশা যে, ৬টি মহাদেশের নাম করা ৬টি নদীর পাশ দিয়ে ৪০ দিনে ৪০টি ম্যারাথন দৌড় দিলেন। তাও আবার ৪৭ বছর বয়সে। এ বয়সে যেখানে বিশ্রামে থাকার কথা কিবাং গবেষনা করার কথা সেখানে নিজেতে তুলে ধরলেন ২০ বছরের বালিকার মতো। 

বিবিসির এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সুন্দর দিন ছিলো না, দৌড়াতে গিয়ে আমার অনেক ঘাম ঝরেছে। আমি শুধুই দৌড়াই না বরং দৌড়কে ভালোবাসি। আমি এই কারনে দৌড়েছি, যাতে করে মানুষ সারা বিশ্বে পানির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে।’ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রচুর পানির অপচর হয়। আবার কোথাও কোথাও পানির অভাবে মানুষ খুব কষ্ট করে। এই পানির ভারসাম্য রক্ষা বা অপচয় রোধ করার জন্য মিনা গুলি’র এই দৌড়তত্ত্ব। নদীর পাড়ে ম্যারাথন দিয়ে সে পানি ও মানুষের জীবন মানের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে চেয়েছেন। সেইসঙ্গে ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন কিভাবে পানির সঠিক ব্যবহার করা উচিত। যেখানে মানুষ পানির জন্য হাহাকার করতে থাকে, তাদের কাছে পানির অপর নাম জীবন সেটা তারা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারে। 

দৌড় প্রেমী অস্ট্রেলিয়ার গ্রাম্য অধিবাসী মিনা গুলি। একবার পায়ে ব্যথা পেয়ে বাড়িতে একাকি অবস্থান করছেন। পুরো পা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। নিজেকে নিজেই জিজ্ঞাস করলেন, কেন তিনি এবাবে এখানে বসে আছেন? মাত্র ৫ ভাগ পানি আমরা বাড়ি-ঘরে ব্যবহার করি। কিন্তু বাকি পানি আমাদের পায়ের নিজে রয়েছে। আর নদীর পাশে রয়েছে অসংখ্য পানির প্রবাহ। সেগুলো নিয়ে তো আমাদের চিন্তা করতে হবে। পানির উপযুক্ত ব্যবহার করার প্রতি আমাদের মন দিতে হবে। সেই থেকে নাদীর পাড়ে দৌড়ানোর চিন্তা চলে আসে।

৪০টি ম্যারাথন দিতে গিয়ে তার গায়ের টি-শার্ট, শর্টস ও জুতা ছিঁড়েছে। ঝড়িয়েছেন গায়ের অনেক ঘাম। তবুও ক্ষান্ত হয়নি। দীর্ঘ ১ হাজার ৬৮৭ কিলোমিটার জার্নি শেষ করে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানে পানির ব্যবহার ও চাহিদা নিয়ে তুলে ধরেন তিনি। ম্যারাথনের মধ্যে আমেরিকা ও ম্যাক্সিকোর কলোরাডো নদী, ব্রাজিলের আমাজন নদী, অস্ট্রেলিয়ার ম্যারি নদী, চীনে ইয়াংটজ নদী ও মিশরের নীল নদ পাড়ি দৌড়ে পাড়ি দিয়েছেন গুলি। সর্বশেষ গত সোমবার লন্ডনের থামস নদীতে তা চূড়ান্ত পদাচরনা পড়েছে।  তিনি বলেন, ‘যখন আমি প্রতিদিন সকালে দৌড় শুরু করতাম, প্রচন্ড পরিমানে ঘামতাম, হাঁপিয়ে উঠতাম। যদিও আমার সঙ্গে এক বৃদ্ধা দু’কিলোমিটার দৌড়েছিলেন। কিন্তু আমি চাইনি, কেউ দেখুক আমি কতটা কষ্ট করে ও খারাপ অবস্থায় দৌড়াচ্ছি। আমার কোনো সহযোগি সঙ্গীও আমি চাইনি।’

তবে মিনা গুলি এবার স্বপ্ন দেখেন উড়ার বা গাড়ি চালানোর। মনে মনে পরিকল্পনা করেছেন, যখন সে আর দৌড়াতে পারবেন না তখন সে আকাশ পথে বা সড়ক পথে ভ্রমন করবেন। ২০২৫ সালে পৃথিবী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্য মতো, পৃথিবীতে ১.৮ বিলিয়ন মানুষ পানি সংকটে পরবে।  মিনা গুলিও তেমন একটি ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন। পানি সংকটের আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে। ‘আমি এমন একটি পৃথিবী দেখতে চাই, যার সর্বোত্র পানি রয়েছে।’

 

গো নিউজ২৪/এনএফ