১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১:১৩ অপরাহ্ণ

১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেই ক্ষুদ্র শিল্প


গো নিউজ২৪ | অনলাইন ডেস্ক আপডেট: ২৯ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার
১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেই ক্ষুদ্র শিল্প

জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতি স্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লাখ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা হলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেই শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ক্ষুদ্র শিল্প’  হিসেবে চিহ্নিত হবে। ব্যাংক এইসব ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের ক্ষেত্রে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করবে, সেসব প্রতিষ্ঠানেও ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে ম্যানুফেকচারিং ও সেবা খাতের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ট্রেডিং খাতের মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের সংজ্ঞা ছাড়াও ঋণসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ এ প্রদত্ত শিল্প ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞার আলোকে সংজ্ঞা পুনঃ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংজ্ঞায় কুটির ‘কুটির শিল্প’ বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যভুক্ত সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে, যা পারিবারিক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে গঠিত ও সর্বোচ্চ জনবল ১৫ এর বেশি নয়। কুটির শিল্প খাতের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘মাইক্রো শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যে সব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতি স্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৩০ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে। মাইক্রো শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাইক্রো শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। সেবা খাত ভুক্ত মাইক্রো শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

ম্যানুফেকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার বেশি ও অনধিক ৫০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তবে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান বা শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১০০০ জন।

সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন
ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ২ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৫১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। ব্যাংক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতভুক্ত মাঝারি শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা এবং সেবা খাত ভুক্ত মাঝারি শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।

ট্রেডিং খাতের‘ মাইক্রো উদ্যোগ’ বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা। ট্রেডিং খাতের‘ ক্ষুদ্র উদ্যোগ’ বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১২ কোটি টাকার বেশি নয়। ট্রেডিং খাতের মাইক্রো উদ্যোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

 

গো নিউজ২৪/জা আ