৯ আষাঢ় ১৪২৪, শুক্রবার ২৩ জুন ২০১৭ , ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

১১ ছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দিলেন শিক্ষক!


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৭ সোমবার
১১ ছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দিলেন শিক্ষক!
প্রতীকী ছবি

রংপুর প্রতিনিধি: জেলার কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত তিনদিনে ১১ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন হাসান মানিক, ষষ্ঠ শ্রেণির রাব্বি, সপ্তম শ্রেণির সাজিদ, মিনহাজ ও রাশেদ জানান, প্রতিষ্ঠানের শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক নুর মোহাম্মদ শাহাজাদা তাদের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে এসে চুল বড় হওয়ার অভিযোগে তা কেটে দেন। এ সময় তারা অনুরোধ করলেও ওই শিক্ষক তা শোনেননি।

একই অভিযোগ ষষ্ঠ শ্রেণির নীরব, অষ্টম শ্রেণির শিপলু, শাকিল, রিংকু, নবম শ্রেণির সাইদসহ একাধিক শিক্ষার্থীর। তারা জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ৩ দিনে ১১ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন ওই শিক্ষক। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেছেন গণিত বিভাগের অপর শিক্ষক তপন চ্যাটার্জি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে। সোমবার ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। চুল বড় রাখার অপরাধে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতেও দেয়া হয়নি।

সপ্তম শ্রেণির হাসানুর জানায়, তার চুলও কাটার জন্য তৈরি হয়েছিলেন ওই শিক্ষক। তবে সে পালিয়ে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার দাবি করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ছাত্রদের চুল বড় হয়েছে তা অভিভাবকদের জানালে পারতেন। এভাবে শিক্ষক নিজেই চুল কেটে দেবেন তা মেনে নেয়া যায় না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তপন চ্যাটার্জি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত না।

চুল কাটার বিষয়ে কিছু জানেন কী না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক নুর মোহাম্মদ শাহাজাদার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ মিঞা জানান, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। সোমবার কলেজে যোগদান করে অফিসিয়াল কাজে বাইরে যান।

তবে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাস্থল থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোনিউজ২৪/এম