৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

হলিউডের অ্যানিমেটেড ছবির কারিগর বাংলাদেশের ওয়াহিদ ইবনে রেজা


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার
হলিউডের অ্যানিমেটেড ছবির কারিগর বাংলাদেশের ওয়াহিদ ইবনে রেজা

বাবা -মায়েরা সবসময় তাদের ছেলে মেয়েকে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চায়। খুঁজে খুব অল্প বাবা -মা পাওয়া যাবে যারা চায় তাদের ছেলে -মেয়েরা অন্য কোন প্রফেশনে যাক। তেমনি বাংলাদেশকে বিশ্বের মুখে গর্বিত করা ওয়াহিদ ইবনে রেজার বাবা - মাও চেয়েছিলেন তাদের একমাত্র ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হোক। ওয়াহিদ বাবা মায়ের স্বপ্নের পথেই হেঁটে যাচ্ছিলেন। হেঁটে স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তেই চলে গিয়েছিলেন যার প্রমান তিনি বুয়েটে চান্স পেয়েছিলেন।

ছেলে পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কিন্ত মনে স্বপ্ন রাইটিং। ওয়াহিদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ভালো লাগে নি কিন্ত লেখাপড়া ছাড়েন নি। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লেখালেখি চালিয়ে গিয়েছেন।  ছাত্র অবস্থায় তিনি 'উন্মাদ' - এ চাকরি করেছেন। পাশাপাশি মঞ্চ নাটকও করতেন।

ওয়াহিদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষে পড়ার সময় মেকানিক্যাল ফেস্টিভ্যালের জন্য হ্যান্ডি ক্যাম দিয়ে একটি সিনেমা বানান। তিনি নিজেই স্ক্রিপ্ট লেখেন আর  অভিনয় করেন । একের ভিতর অনেক গুণাবলী আমাদের ওয়াহিদের।  সেই  সিনেমার নাম ছিল “N পুরুষের প্রেম”। সেদিন তার বানানো সেই সিনেমা দেখে মানুষ খুব মজা পেয়েছিলো। মানুষের খুব সাড়া পেয়েছিলেন তিনি। সেই উৎসাহ পেয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন তিনি রাইটার হবেন। নিজের সিদ্ধান্তের কথা বাবা -মাকেও জানিয়ে দেন।  তখন অবাক হওয়া এবং ছেলের ভবিৎষ নিয়ে চিন্তিত হওয়া ছাড়া বাবা - মা তেমন কিছু করেন নি এবং বলেনও নি ।

বুয়েট থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কপি রাইটারের কাজ নেন। “গ্রে” কোম্পানির কপি হেড ছিলেন তিনি। প্রচুর বিজ্ঞাপন লিখেছেন , প্রচুর নাটক লিখেছেন এবং পাশাপাশি  অভিনয়ও  করেছেন।

ওয়াহিদের মূল লক্ষ্য ছিলো ফিল্ম মেকিং শেখা। তাই সে বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য নর্থ আমেরিকা যেতে চেয়েছিলেন। তিনি হলিউডে কাজ করতে চেয়েছিলেন।  নর্থ আমেরিকায় পড়াশোনার খরচ খুব বেশি হওয়াতে তিনি কানাডা চলে যান। কানাডাতে ডিগ্রি শেষ করার আগেই ৮-৯ টা শর্ট ফিল্ম বানিয়েছেন তিনি।

পাশ করার পর ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করেন তিনি। একটা কোম্পানি তাকে বিনে পয়সায় ইন্টার্ন নিতে চায়। ইন্টারভিউতে ওয়াহিদ বাংলাদেশে যে সকল কাজ করেছিলেন সব বিস্তারিত বলেন। ওয়াহিদ তার সিভিতে এসব কোনো কাজের কথা উল্লেখ করেন নি। ইন্টারভিউতে জানতে চায় তিনি তার এসব কাজের কথা কেন উল্লেখ করেন নি। কানাডা অন্য দেশের কাজের অভিজ্ঞায় কম গুরুত্ব দেয় তাই তিনি সিভিতে উল্লেখ করেন নি।  এই কথাটাও তিনি খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন।  সেই শুরু ওয়াহিদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি ।  সেদিন ওয়াহিদ বিনে পয়সায় ইন্টার্ন করেন নি , তিনি প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে জয়েন করেছিলেন।

বর্তমানে তিনি যুক্ত হয়েছেন হলিউডের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ছবি ‘হোটেল ট্রানসিলভানিয়া’র নতুন সিক্যুয়ালে। এখানে  তিনি কাজ করবেন অ্যাসোসিয়েট প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে।

গেন্ডি টারটাকোভস্কি হচ্ছেন এই ছবির পরিচালক। এই পরিচালকের আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ ‘ডেক্সটার্স ল্যাবরেটরি’ ও ‘সামুরাই জ্যাক’-এর নির্মাতা। ‘আয়রন ম্যান টু’ ছবির স্টোরি বোর্ড আর্টিস্টও ছিলেন তিনি। এই পরিচালকের সাথেই সরাসরি কাজ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়াহিদ ইবনে রেজা।

ওয়াহিদ সর্বশেষ কাজ করেছেন ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম টু’র ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস টিমে। মেথড ভিএফএক্স স্টুডিওর ভিএফএক্স প্রোডাকশনে ম্যানেজারের দায়িত্বপালন করেছেন। গত মাসে তিনি সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ওয়াহিদ  ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান :ডন অব জাস্টিস’ ছবির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ছিলেন । ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা :সিভিল ওয়ার’ ও ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ছবির ভিজ্যুয়াল টিমে কাজ করেছেন ওয়াহিদ। এইচবিও চ্যানেলের সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’, হলিউডের ‘ফিউরিয়াস সেভেন’, ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ ও ‘নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম :সিক্রেট অব দ্য টম্ব’ ছবির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস টিমেও কাজ করেছেন তিনি।

ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসে ওয়াহিদের কাজ করা মুভি ‘ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ’ অস্কারে নমিনেশন পেয়েছে। ২০১৭ সালের অস্কার নমিনেশনে অ্যানিমেটেড ফিচার, অ্যানিমেটেড শর্ট ও ভিজুয়্যাল ইফেক্টস (ভিএফএক্স) ক্যাটাগরির ভিজ্যুয়্যাল ইফেক্টসে ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ নমিনেশন পায়।

 

 

 

শিল্প-সাহিত্য ও সংষ্কৃতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত