১২ বৈশাখ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল ২০১৭ , ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

হনুফার নাকে আর পোকা নেই


গো নিউজ২৪ | গো নিউজ ডেস্ক
|
হনুফার নাকে আর পোকা নেই

হনুফা বেগমের হাঁচির সঙ্গে মঙ্গলবারও দুটি পোকা বের হয়েছে। ভেতরে ওয়াস করার পর দুপুরে দুটি পোকা বের হয়। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে তার হাঁচির সঙ্গে ৩৭টি জীবন্ত পোকা বের হলো।

রয়েল সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হনুফার সিটি স্ক্যান করে দেখছে, যে অংশে পোকা বাসা বেঁধেছিল সেই অংশ এখন পরিষ্কার। আশা করা যায় কয়েকদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। 

বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হনুফা বেগম।

নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েল সিটি হাসপাতালের দোতলার ২০৬ নং বেডে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে হনুফা বেগম চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হনুফা বেগম জানান, অনেক দিন থেকে মাথাব্যথা ও চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে। এজন্য মাঝে মধ্যে মাথাব্যথার ওষুধ খেয়ে তা নিবারণের চেষ্টা চালাতাম। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি নাক থেকে রক্ত বের হয়। এতে মাথাব্যথা আরও বেড়ে যায়। গৌরনদীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় নাক থেকে রক্ত বের হতে থাকে। ওই দিন বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ইএনটি বিশেষজ্ঞ খান আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে সেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
 
হনুফা বেগম জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক খান আব্দুর রউফ এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে নাকের ভেতর কি যেন করেন। এরপর তিনি হাঁচি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বড় আকারের ১৫ থেকে ২০টি জীবন্ত পোকা বের হয়ে আসে। একইভাবে সোমবার আবারও হাঁচি দিলে ১০ থেকে ১২টি পোকা নাক থেকে বের হয়। মঙ্গলবার দুপুরে হাঁচির সঙ্গে বের হয়েছে জীবন্ত আরও দুটি পোকা। এতে করে তার মাথা ব্যথা অনেকটা কমে আসে।

ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খান আব্দুর রউফ জানান, হনুফার অবস্থা এখন অনেকটা ভালো। শরীরে কিছুটা তাপ মাত্রা (জ্বর) রয়েছে। তবে এতে চিন্তিত হবার কিছু নেই। নাকের ভিতরের অংশে ইনফেকশনের কারণে হয়তো শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। নাক ও ভেতরের অংশ ওয়াস করার পর মঙ্গলবারও জীবন্ত দুটি পোকা হাঁচির সঙ্গে বের হয়েছে। তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এ রোগের নাম হচ্ছে ‘ম্যাগোট ইন দ্যা নোজ অ্যান্ড প্যারানাজাল এয়ার সাইনাস’। নাক, চোখ ও কপালের অভ্যন্তরে একাংশে ফাঁকা জায়গা থাকে। কোনোভাবে পোকা সেখানে প্রবেশ করতে পারলে খালিস্থানে বাসা বাধে। সেখানে ডিম পাড়ে। এরপর ওই ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। হনুফার অবস্থাও একই হয়েছে।
 

গো নিউজ ২৪