৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৬:৪০ অপরাহ্ণ

স্বামী-স্ত্রী ১০ বছর আলাদা থাকলে কি তালাক হয়ে যাবে?


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার
স্বামী-স্ত্রী ১০ বছর আলাদা থাকলে কি তালাক হয়ে যাবে?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির এ অনুষ্ঠানে দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৪৯৬ পর্বে স্বামী-স্ত্রী ১০ বছর আলাদা থাকলে তালাক হয়ে যাবে কি না, সে সম্পর্কে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দর্শক।

প্রশ্ন : আমার এক বোন এবং তাঁর স্বামী, তাঁরা বিবাহিত; কিন্তু আজকে প্রায় ১০ বছর তাঁদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। আমার বোন জানে যে তাঁর স্বামী বেঁচে আছে। আমার বোনের একটি সন্তান আছে, কিন্তু তাঁর কোনো দায়িত্ব বা ইসলামী মতে ভরণপোষণ কোনোটাই হচ্ছে না। শুধু জানা আছে যে সে বেঁচে আছে। তাতে করে আমরা জানি যে, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, কত দিন আমি জানি না, যদি কোনো যোগাযোগ না থাকে তাহলে এই বিবাহটা বৈধ থাকে না। আমি জানতে চাইছি, ১০ বছর এইভাবে আলাদা থাকার কারণে বিবাহটা কি বৈধ আছে? যদি না থাকে তাহলে আইনগতভাবে হয়তো কাগজপত্র লাগবে, কিন্তু ইসলামী মতে কি তালাক হয়ে যায়?

উত্তর : তালাক অটোমেটিক কোনো বিষয় না যে নির্দিষ্ট সময়ের পরে এমনই হয়ে যাবে। তালাক তো হয়নি, আর স্বামী তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না সেটা তিনিই জানেন, আমরা বলতে পারব না।

তিনি যদি তালাক না দিয়ে থাকেন, তাহলে এখনো স্ত্রী আছে, বিয়ের যে বন্ধন আছে সেটি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়নি। তালাক দেওয়া পর্যন্ত এই বন্ধন ঠিক থাকবে। কিন্তু সেই স্ত্রীর হক আদায় না করার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং এটি বড় ধরনের কবিরা গুনাহ কোনো সন্দেহ নেই।

স্ত্রীর যদি কোনো নেতিবাচক আচরণ থাকে বা দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সহজ পদ্ধতি ছিল স্বামী তাঁকে তালাক দিতে পারত। কিন্তু স্বামীকে তো তাঁর দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে যার দায়িত্ব পালন না করবে সে জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। ১০ বছর পর্যন্ত এভাবে একজন নারীকে রেখে দেওয়া, তাঁকে ভরণপোষণ না দেওয়া এই কাজটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অসামাজিক কাজ, কোনো সন্দেহ নেই।

গো নিউজ২৪/এএইচ