২ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

স্ত্রী ঘড়িয়ালটিকে পাঠানো হলো ঢাকায়


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
স্ত্রী ঘড়িয়ালটিকে পাঠানো হলো ঢাকায়

রাজশাহী: রাজশাহী শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রিয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার দুইটি স্ত্রী ঘড়িয়ালের মধ্যে একটিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘড়িয়ালটিকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে পুরুষ একটি ঘড়িয়াল নিয়ে আসা হচ্ছে রাজশাহী। বিপন্ন প্রাণিটির বংশ বিস্তারের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী চিড়িয়াখানার পুকুর থেকে স্ত্রী ঘড়িয়ালটিকে ধরা হয়েছে। রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকাতে। শনিবার ঢাকা চিড়িয়াখানার পুকুরে ছেড়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি ওইদিনই ঢাকা থেকে পুরুষ ঘড়িয়াল নিয়ে রাজশাহীতে ফিরে আসা হবে। রোববার রাজশাহীর চিড়িয়াখানার পুকুরে তা অবমুক্ত করা হবে। 

রাজশাহী শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রিয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফারহাদ জানান, ঘড়িয়াল বাংলাদেশে একটি বিপন্ন প্রাণি। দিনে দিনে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বর্তমান সময়ে দেশে ঘড়িয়াল দেখা ভার। 

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী চিড়িয়াখানায় দুইটি স্ত্রী ঘড়িয়াল আছে। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হবে। সেই সময় পদ্মা নদীতে মাছ মারতে গিয়ে জেলেদের জালে আটকা পড়েছিলো ঘড়িয়ালগুলো। জেলেরা সেগুলো ধরে চিড়িয়াখানায় দিয়েছিলো। অপরদিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় যে কয়টি ঘড়িয়াল আছে সবগুলো পুরুষ। সে কারণে প্রজনন করানো সম্ভব হচ্ছিলো না। 

দুই চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ বিপন্ন প্রাণিটির প্রজনন বৃদ্ধি করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বংশ বিস্তার করতে পারবে প্রাণিটি। 

প্রাণি চিকিৎসক ডা. ফারহাদ বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঘড়িয়ালদের প্রজনন মৌসুম। একবারে প্রজননে ৩৫ থেকে ৪০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে তারা। সাধারণত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তারা ডিম পাড়ে। ডিম পড়ার পরে তারা গর্ত খুড়ে ডিম ঢেকে রাখে। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে সময় নেয় ৭০ থেকে ৯০ দিন। 

রাজশাহী চিড়িয়াখানার যে পুকুরে ঘড়িয়াল থাকে সেখানে ডিম পাড়ার পরে গর্ত করে রাখার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। সে কারণে বর্ষা শেষ হয়ে গেলে পদ্মা নদী থেকে মোট বালি পুকুরটির একাংশে ফেলা হবে। যেখানে ঘড়িয়াল ডিম পাড়তে পারবে। 

ডা. ফরহাদ আরো জানান, ঘড়িয়াল বিনিময়ের পাশাপাশি ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে ৪টি রঙিন ময়ূর নিয়ে আসা হবে। এদের দুইটি পুরুষ ও দুইটি নারী। ময়ূরগুলোর এখানে প্রজনন করে বংশ বিস্তার করানো হবে। 

গোনিউজ২৪/পিআর