৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:১৬ অপরাহ্ণ

সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানো হয় দুই তরুণীকে


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৬ মে ২০১৭ মঙ্গলবার
সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানো হয় দুই তরুণীকে

দুই তরুণীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন (২৭)। বিল্লালকে গ্রেফতারের পর সোমবার রাতে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

রাতভর ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই ধর্ষক সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম)। ধর্ষণের পর গর্ভধারণ রোধে দুই তরুণীকে সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ায় তারা। 

ধর্ষিত দুই তরুণীর এক চিকিৎসক বন্ধু সেই বড়ি খাওয়ার জন্য নিষেধ করে। এ কারণে সেই বন্ধুকে মারধর করে ইয়াবা খেতে বলে। পরে সেই ইয়াবা খাওয়ার ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। তারপর সাফাত ও নাঈম বলে, ‘এই ঘটনা যদি কাউকে বলিস, তবে ইয়াবার মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব। তোদের ইয়াবাখোর বানিয়ে দেব।’ 

জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর পরও দুই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। যে দুটি কক্ষে দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করে তার মাঝখানে একটি ফলস পার্টিশন ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে বিল্লাল ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

গাড়িচালক বিল্লালের বরাত দিয়ে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, বনানী থানায় ভিকটিমরা মামলা করার পর বিষয়টি আসামিরা অনলাইনে জানতে পারে। তখন আসামি সাফাত, সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী আজাদ ওরফে রহমত আলীকে গাড়িতে নিয়ে চালক বিল্লাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের দিকে যায়। 

সেখানে তারা একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করার পর গাজীপুর হয়ে মাওনা দিয়ে সিলেটে চলে যায়। সাফাত ও সাদমান সাকিফ সিলেটে সাফাতের নানাবাড়িতে থাকে। সাফাতের দেহরক্ষী আজাদ ও গাড়িচালক বিল্লাল একটি রিসোর্টে থাকে। পরবর্তীতে দেহরক্ষী আজাদ রিসোর্ট থেকে চলে যায়। বিল্লাল নিজেও সিলেট থেকে ছাতক চলে যায়। সে ছাতক থেকে আবার সিলেট ও সিলেট থেকে রবিবার ভোরে ঢাকায় আসে। এরপর নবাবপুরের ওই হোটেলে সে সুজান নামে উঠে। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে র‌্যাব-১০ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, শাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে ৪ দিন ও দেহরক্ষী রহমত আলীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা তাঁদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে বেলা ৩টার দিকে বিল্লাল হোসেন ও রহমত আলীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য এই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। শুনানি শেষে আদালত বিল্লাল হোসেনকে ৪ দিন ও রহমত আলীকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


গো নিউজ২৪/এএইচ