১৪ আষাঢ় ১৪২৪, বুধবার ২৮ জুন ২০১৭ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

সীমানা পুনর্নির্ধারণ চায় বিএনপি 


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৯ জুন ২০১৭ সোমবার
সীমানা পুনর্নির্ধারণ চায় বিএনপি 

১৯৮৪ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে যে ৩০০ আসন নির্ধারণ করা হয়েছিল সেই মোতাবেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। 

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে রোববার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যর খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সিইসি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে ৩০০ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেটার পরে ৮৬,৯১, ৯৬, ৯৮, ২০০১ এ এই নির্বাচনগুলো এই আসনের ভিত্তিতে হয়েছে। কিন্তু ওয়ান এলিভেনের সরকার যখন আসে ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে এতোদিন যে আসনগুলো ছিল। 

সেই আসনগুলোকে ভেঙে প্রায় ১৩৩টি আসনে পুনর্বণ্টন করেছে যেখানে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব যে আইন কানুন আছে তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে। অর্থাৎ ভৌগলিক সীমারেখা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা এগুলো বিবেচনা না করে ১৩৩টি আসনে পুনর্বিন্যাসের নামে একটা হসফস করা হয়েছে। 

২০০১ পর্যন্ত এভাবে নির্বাচন হয়েছে এবং এতে কারো কোনো আপত্তি ছিল না। ওয়ান এলিভেনের সরকারের সময়ও যে নির্বাচন কমিশন ছিল তাদের কাছেও কোনো দল বা কোনো গোষ্ঠি বা সুশীল সমাজ কারো কোনো দাবি ছিল না। কোনো দাবি না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেরা যে পুনর্বিন্যাসটা করেছে তাতে অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে। 

আজকে যেটা দাবি নিয়ে এসেছি ২০০৮ এর নির্বাচনের পূর্বে যে আসন ছিল সেই আসন সম্পর্কে যেহেতু এর পরে কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ এ ব্যাপারে আপত্তি করে নাই। 

সেই জন্য আমরা ২০০৮ এর পূর্ববর্তী যে আসনগুলো সেইভাবে পুনর্নিধারণ করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাতে এসেছি। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নিধারণের ক্ষমতা আছে তাই ১৩৩টি আসনে যে অসামঞ্জস্যতা আছে তা দূর করে ৩০০ আসন পুনর্বিন্যাস করার জন্য আমরা কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ান এলিভেনের সময় সরকারটা জনগণের সরকার ছিল না। এটা একটা জরুরি আইনের সরকার ছিল। তারা কি মনে করে করেছে, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছে সেটা আমরা জানি না। তবে ওই কাজগুলো সঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে সিইসি বলেন, বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নিধারণ নিয়ে কথা হয়েছে। সীমানা পুনর্নিধারণ নিয়ে তারা ১৯৮৪ সালের যে সীমানা পুনর্নিধারণ করা হয়েছিল। সেই নীতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। আমরা তাদের সাথে আন্তরিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে আমাদেরও কিছু চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হবে। আমাদের যে রোডম্যাপ আছে সেখানে সীমানা পুনর্নিধারণের বিষয়টি আছে। এ বিষয়ে আমরা চিন্তা ভাবনা করবো। 

আর আমরা এই মূহুর্তেই বলতে পারবো না যে, আমরা ৮৪তেই থাকবো, তা ২০০৮ এ যেটা ছিল সেটায় থাকবো নাকি ২০১৪’র নির্বাচনে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ব্যবহার করবো। তবে হ্যা, সীমানা পুনর্নিধারণের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পরিবর্তন আনতে চাই। সেটা প্রথম শুনলাম একটা বড় রাজনৈতিক দলের কাজ থেকে। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, সুশীল সমাজ, মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা করবো। কাজেই এই মহূর্তেই ৮৪ সালে ফিরে যাবো এটা বলা যাবে না। আমরা চিন্তা ভাবনা করবো।

বিএনপির দাবির সঙ্গে একমত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে তারা যেমন কনসার্ন আমরা কনসার্ন। ৮৪ তে ফিরে যাবো এ কথা বলিনি। তারা যেই প্রস্তাবটা দিয়েছে এটা পরিবর্তনের বিষয়ে সেটার ব্যাপারে আমরা একমত, কিছুটা পরিবর্তন আমরা আনতে চাইবো। সেই পরিবর্তনটা হবে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এবং আমাদের নিজস্ব কিছু চিন্তা ভাবনা আছে সেগুলো সমন্বয় করে।

তিনি বলেন, সীমানা পুনর্নিধারণ করার তাদের সাথে আমরা একমত। কিন্তু কতটুকু করা হবে এটা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই এটা ঠিক করা হবে।

এ সময় তিনি খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, আজকে বিএনপির মতো সব চাইতে জনপ্রিয় দলের মহাসচিবের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। শুধু তাই নয় আমরা ইফতার পার্টি করতে পারছি না পুলিশের অনুমতি ছাড়া। আমি নিজেও গত ১৫ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ইফতার পার্টির আয়োজন করতে চেয়েছিলাম পুলিশ আমাদেরকে অনুমতি দেয়নি। 

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুর রশীদ সরকার ও ক্যাপ্টেন সুজা উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সিইসির সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসোন চৌধুরী, ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্।


গো নিউজ২৪/এএইচ