১০ শ্রাবণ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ জুলাই ২০১৭ , ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার
সীতাকুণ্ডে ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশু হাম রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

সোমবার মহাখালী আইইডিসিআর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

ত্রিপুরা পাড়ায় অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ-ক্লিনিক্যাল ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং রোগতাত্ত্বিক সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ত্রিপুরা পাড়ায় হামের সংক্রমণের লক্ষণ চলতি বছরের ২২ জুন প্রথম দেখা দেয়। সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয় ১০ জুলাই। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৮ জুলাই। চিকিৎসা পাওয়ায় ১২ জুলাইয়ের পর কেউ মারা যায়নি। মৃত নয় শিশুর বয়স ৩ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

তিনি বলেন, মৃত শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছিল। আর এ কারণে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

ত্রিপুরা পাড়ায় বর্তমান ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন রোগীদের সুচিকিৎসা চলছে। এলাকার বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইপিএইচএন কর্তৃক উক্ত পল্লীতে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। 

অধ্যাপক বলেন, অজ্ঞাত রোগে সীতাকুণ্ডে ৯ শিশুর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর আইইডিসিআর এর টিম সেখানে গিয়ে ভর্তি রোগীদের রক্ত ও গলার নিঃসরণ এর নমুনা সংগ্রহ করে। ঢাকায় যথাক্রমে আইইডিসিআর ল্যাবরেটরি এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও ও মিজলস ল্যাবরেটরিতে নমুনাসমূহ পরীক্ষা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরা পাড়ায় মোট ৮৫ বাড়িতে ৩৮৮ জন মানুষ বাস করে। এরা কেউই হামের টিকা পায়নি। ৩৮৮ জনের মধ্য বয়সভেদে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ জন। এদের মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী আক্রান্তের হার ৯২.৫ শতাংশ, ১ থেকে ৪ বছর বয়সী আক্রান্তের হার ৬১.৯ শতাংশ, নয় মাস বয়সীদের ৪০ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সীদের ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশ, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের ১০ শতাংশ এবং ২০ বছরের উপরে বা নিচে ০.৯ শতাংশ।

হামের টিকা না পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকা কর্মসূচি পরিচালিত হয় ওয়ার্ডভিত্তিক মাইক্রোপ্ল্যান অনুযায়ী। ত্রিপুরা পাড়া মাইক্রোপ্ল্যানে না থাকায় বাদ পড়ে আসছে। এ জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব ওয়ার্ডের টিকাদান মাইক্রোপ্ল্যান পর্যালোচনা করা হবে।  কোনো ছোট জনপদ বাদ গেলে সেগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 

দেশে হাম রোগের টিকা কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে। দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় হাম রোগ প্রাদুর্ভাবের কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জানান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরীনা ফ্লোরা, চট্টগ্রাম সিভি সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

গো নিউজ/এমবি