১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

‘সালমানের অভিনয়ের মান কমে যাচ্ছিলো, ও ফেনসিডিল খেতো’


গো নিউজ২৪ | বিনোদন প্রতিবেদক আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার
‘সালমানের অভিনয়ের মান কমে যাচ্ছিলো, ও ফেনসিডিল খেতো’

ঢাকা: ঢাকাই সিনেমার কালজয়ী অভিনেতা সালমান শাহ। তার মৃত্যুরহস্য নিয়ে একুশ বছর পরও উত্তাল গোটা বাংলা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো তারই খুনের সন্দেহভাজন আসামি রুবি সুলমাতানার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওটি সোশাল সাইটে ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় সালমান প্রসঙ্গ। তার মায়ের অভিযোগ, রুবির স্বীকারোক্তিকে আমলে নিয়ে সরকার যেনো সালমান হত্যার বিচার করেন। কারণ সালমান আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে, আর তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলো সালমানের স্ত্রী সামিরার পরিবার এমন ইঙ্গিতই তিনি গণমাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সালমানের শ্বশুড় ও সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা সালমানের মায়ের এমন সন্দেহকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না।

সালমান শাহকে নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও ঘটনা নেহায়েত আত্মহত্যা ছিলো না। এমনটি সেই শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন নীলা চৌধুরী। দীর্ঘ একুশ বছর ধরে সালমানের মৃত্যুরহস্যটি নিয়ে দৌড়েছেন তিনি। যখন কোনো কুলকিনারা করে ওঠতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ করেই গত ৭ আগস্ট সোমবার রুবি সুলতানা নামের একজন নারী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোশাল সাইটে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ফের সালমান মৃত্যুরহস্যটি জাগিয়ে তুলেন। যিনি কিনা আবার সালমান হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামিদের একজন। আর খুনীর এমন স্বীকারোক্তির পর এবার ছেলের খুনের বিচার চাইতে ওঠে পড়ে লেগেছেন মা নীলা চৌধুরী। অভিযোগের তীর সালমানের স্ত্রী সামিরার পরিবারের দিকে। 

কিন্তু সালমানের মায়ের এমন অভিযোগকে স্রেফ পাগলামি বলে মন্তব্য করেছেন সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা। তিনি মনে করেন, সালমানকে কেউ খুন করেনি। তাকে আত্মহত্যা করা হয়েছে। তখনকার ডিভি ও ডাক্তারি পোস্ট মর্টেমেও এমনটি জানানো হয়েছিলো। কিন্তু হীরার এমন কথাও আমলে নিচ্ছেন না নীলা চৌধুরী। সালমানের আত্মহত্যার যে মেডিকেল রিপোর্ট তখন দেয়া হয়েছিলো সেটা সাজানো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

অন্যদিকে সালমান কেনো আত্মহত্যা করবে এমন প্রশ্নে সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শফিকুল হক হীরা। সেখানে সালমানের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে তার ক্যারিয়ারে অধপতনকে দায়ি করেছেন তিনি। সালমানের আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে হীরা বলেন, আত্মহত্যা করার কারণ হল, সে (সালমান শাহ) কিছুদিনের জন্য এফডিসিতে ব্যান (নিষিদ্ধ) হয়েছিল।  জানেন নিশ্চয় সবাই। ও সিনিয়রদে মানতো না। সেটা  ১৯৯৫ সালের দিকের ঘটনা।  তারপর ’৯৬’র দিকে তার অবস্থা নিচের দিকে যেতে থাকে।   ওর অভিনয়ের মাপ কমে যাচ্ছিল।  কেনো, এর আগেতো ও ফেনসিডিল খেতো। ফেনসিডিলের পরে ও যখন হুইস্কি খাওয়া শুরু করলো তখন বোধয়, যেহেতু ওর অভ্যাস ছিলো না সেহেতু তার বডি সেটা ইনটেক্ট হচ্ছিলো না। তারপরেও কি কারণে যে সে সুইসাইড করলো, সেটাতো ওই ভালো জানে। সেতো সুইসাইডের একটা নোটও রেখে গেছে। ওর হাতের লেখা মিলিয়েছে না! সিআইডি সেটা মিলিয়েছে।

সালমানের আত্মহত্যার যৌক্তিক কারণ আর কি থাকতে পারে এমন প্রশ্নে হীরা আরো বলেন, মূলত কারণটা হলো হতাশা। সে মায়ের সাথে থাকতো না। আবার ‍মায়ের সঙ্গে ঝগড়া ছিল।  আলাদা বাড়ি নিয়ে থাকত। যেটার ভাড়া আমরা দিতাম। কারণ তখন একটা নায়ক দেড় লাখ টাকা থেকে এক লাখ আশি হাজার টাকা পেতো, তাও ছয়টা ইনস্টলমেন্টে! একসঙ্গে টাকা পায়তো না। আর এমন শুনেছি আমি, সে সিনিয়রদের মোটেও রেসপেক্ট করতো না, কমপ্লেইন করতো অনেকে।  আর তার মা সেসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতো, তার মায়ের সম্পর্কে সবাই ভালো জানেন। এসব নিয়ে সালমান ফেড আপ ছিল।  

সালমানকে নিয়ে তার শ্বশুর:(ক্লিক করুন)
 

 গো নিউজ/এমটিএল