৩ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

সাফাত আহমেদকে ভার্জিন মেয়ে উপহার দিতে চেয়েছিলেন নাঈম আশরাফ


গো নিউজ২৪ | স্টাফ রিপোর্টার আপডেট: ১৮ মে ২০১৭ বৃহস্পতিবার
সাফাত আহমেদকে ভার্জিন মেয়ে উপহার দিতে চেয়েছিলেন নাঈম আশরাফ

সাফাত আহমেদকে ভার্জিন মেয়ে উপহার দিতে চেয়েছিলেন নাঈম আশরাফ। জন্মদিনে ফুর্তি করার জন্য প্রফেশনাল না এমন তরুণীর সঙ্গ চেয়েছিলেন সাফাত। নাঈম সেভাবেই কৌশল করেছিলেন।
 
সাফাত নাঈমকে বলেছিলেন, জন্মদিনে যেন ভার্জিন মেয়ে উপহার দেওয়া হয় তাকে। সে লক্ষ্যেই ৭ মার্চ থেকে টার্গেট শুরু হয়। টার্গেট অনুসারেই রেইনট্রিতে নেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে। ওই দুই তরুণী হোটেল কক্ষে যাওয়ার আগেও পর্যায়ক্রমে সেখানে কয়েক তরুণীর সঙ্গে কক্ষে অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন সাফাত। তখন নাঈম ছাড়াও সাফাতের কয়েক বন্ধুকে হোটেলে ডেকে আনা হয়েছিল। হোটেল কক্ষে বসেই মদ পান করেছিলেন তারা।
 
নির্যাতিতা এক তরুণী জানিয়েছেন, হোটেল কক্ষে মদের গ্লাস এগিয়ে দিয়েছিল নাঈম আশরাফ। মদ পান করতে অসম্মতি জানালে নাঈম জোর করেই তাদের মদ পান করায়।
 
একপর্যায়ে নাঈমই বলেছিল শুরু করা যাক। তখন দুই তরুণী বাধা দিলে তাদের সঙ্গী বন্ধু চিকিৎসকের গার্লফ্রেন্ডকে গ্যাং রেপ করা হবে বলে হুমকি দেয়। এমনকি ওই তরুণীর হাত ধরে কাছে টেনে আনে নাঈম।
 
ওই চিকিৎসক তখন কান্নাকাটি করে তার বান্ধবীকে রক্ষা করতে চান। তখন ওই দুই তরুণীও চিকিৎসকের বান্ধবীকে নির্যাতন না করার অনুরোধ করেন। সাফাত এতে রাজি হলেও নাঈম আশরাফ চেয়েছিলেন পর্যায়ক্রমে তিন তরুণীকে ধর্ষণ করতে। সাফাতের নির্দেশে শাহরিয়ার ওই তরুণীকে অন্য কক্ষে আটকে রাখে।
 
দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার ৫ আসামির মধ্যে অন্যতম নাঈম আশরাফ বুধবার গ্রেফতার হয়। আপন জুয়েলার্সের মালিকদের একজন দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমানকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার সন্ধ্যায় সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাঈম আশরাফের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী রেইনট্রি হোটেলে গিয়েছিল।
 
রিমান্ডে থাকা সাফাত ও সাদমান গোয়েন্দাদের সামনে নাঈম আশরাফের কুকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে। তারা জানিয়েছে মেয়েদের সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে নাঈম। নাঈমই তাদের মেয়ে এনে দিত। বিনিময়ে টাকা নিতো নাঈম নিজেই।
 
ধর্ষিত দুই ছাত্রীর একজন ওই ঘটনায় ৬ মে শনিবার রাজধানীর বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে। অন্যরা ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ঘটনার ভিডিও করেছেন।

পুলিশ বলছে, সাফাত, নাঈম, সাদমান ও ঢাকার এক সংসদ সদস্যের ছেলে বনানী ১১ নম্বর সড়কে একটি রেস্তোরাঁ চালান। এছাড়া তাদের একাধিক সীসা বার রয়েছে।
 
মামলার বাদীর অভিযোগ, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পান তিনি। দিনটি ছিলো ২৮ মার্চ। এক বান্ধবীসহ তিনি বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় তাদের। এরপর রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের ধর্ষণ করে।
 
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে মামলায় বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সাদমানকে প্রায় দুই বছর ধরে চেনেন ওই ছাত্রী। তার মাধ্যমে সাফাত আহমেদের সঙ্গে তাদের পরিচয়। সেই পরিচয় সূত্র ধরে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তারা দাওয়াত পান।
 
মামলার আসামিরা হলেন- আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, দুই ছাত্রীর বন্ধু সাদমান, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী সাকিফ।