৬ কার্তিক ১৪২৪, রবিবার ২২ অক্টোবর ২০১৭ , ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সাজেকে ৩ মাস ধরে তীব্র খাদ্য সংকট


গো নিউজ২৪ | অনলাইন ডেস্ক আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৭ শুক্রবার
সাজেকে ৩ মাস ধরে তীব্র খাদ্য সংকট

রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নে জুমিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোতে গত তিন মাস ধরে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট। বৈরী আবহাওয়ায় জুমের ফলন ভালো না হওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদ হ্রাসের কারণে সাজেকের দুর্গম ১৫-২০টি গ্রামে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুম চাষ, বাঁশ ও বনজসম্পদ আহরণ করে জীবিকা চালায় এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ। বেশিরভাগ গ্রামে এখনও পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। গ্রামগুলো এতই দুর্গম যে সেখান থেকে হাঁটা পথে মাচালং বাজার আসতে তাদের সময় লাগে তিন থেকে চার দিন।

সাজেকের উদলছড়ি গ্রামের হৃদয় রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, ‘জুম চাষে ফসল কম উৎপাদন হওয়ার কারণে কজতলী গ্রামসহ অনেক গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সাজেক-মিজোরাম অংশে যদি সীমান্ত হাট চালু হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।

সাজেক ইউপির ৮নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ডহিন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘বাসায় খাবার না থাকায় অনেকে ভাতের অভাবে জংলি আলু, মিষ্টি কুমড়া, আলেয়া (কলা গাছের কাণ্ডের নরম অংশ) খেয়ে ক্ষুধা মেটালেও বেশিরভাগ মানুষ অনাহারে রয়েছেন।’

সাজেকের পুরনো জোপুই, নতুন জোপুই, উদলছড়ি, পুরনো থাঙনঙ, নতুন থাঙনঙ থারুম পাড়াসহ ২০টির মতো গ্রামের মানুষ আর্থিক অভাবের কারণে চাল কিনতে পারছে না। এসব গ্রামে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১১০ টাকায়। জরুরি ভিত্তিতে যদি দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ করা না যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সুশীলা চাকমা বলেন,‘প্রতিবছর এ সময়টাতে সাজেকের দুর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় নারী ও শিশুরা। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।’

সাজেকস্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, সাজেকের এসব এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল।জুমধান ভালো না হওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবার।

বাঘাইহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল বলেন, ‘বাঘাইহাট ও মাচালং বাজারে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক, কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায়  মাচালং বাজার থেকে ব্যাটলিং কিংবা অন্যান্য বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে খরচ পড়ে ক্রয়মূল্যের তিন থেকে চার গুণ বেশী।  

এর আগে ২০১২ সালেও রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলা, বান্দরবানের থানচি ও রুমায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল।তখন ছয় মাসের জন্য সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেওয়া হয়। প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ’ টাকা, তিন লিটার ভোজ্য তেল,অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য ছয় কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য, জুমের বীজ কেনার জন্য এককালীন পরিবার প্রতি দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়।

সাজেক ইউপি’র চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, খাদ্য সংকটের কথা শুনে গত ২১ এপ্রিল দুর্গত এলাকার ৪১০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে দুর্গত এলাকার জন্য ৬শ’ মেট্রিক টন ত্রাণ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সাজেকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

গত বছরের মে মাসে বান্দরবানের থানচির দুর্গম রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মদক, বড় মদক ও সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়। পরে সরকার দুর্গত এলাকার ৮শ’ পরিবারের বিপরীতে ১৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা চালালে সংকট নিরসন হয়।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘দুর্গত এলাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে পাঁচ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। ইউএনও-কে তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে সাজেকের খাদ্য সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, ‘রাঙামাটির সাজেকের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি আছে,  প্রয়োজনে আরও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

 

গো নিউজ২৪/জা আ