১৫ আষাঢ় ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৯ জুন ২০১৭ , ৮:১৬ অপরাহ্ণ

সাংসদ হিসেবে ডা. আজিজকে দেখতে চান গৌরীপুরবাসী


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১২ মে ২০১৬ বৃহস্পতিবার
সাংসদ হিসেবে ডা. আজিজকে দেখতে চান গৌরীপুরবাসী

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব ও দেশসেরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজকে গৌরীপুরের শূণ্য আসনের (ময়মনসিংহ-৩) সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী। সদ্য প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) ডা. মুজিবুর রহমান ফকিরের মৃত্যুর পর আসন্ন উপনির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এম এ আজিজকে অভিভাবক বানানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। এলাকার উন্নয়নে যোগ্য নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিবেন, সে প্রত্যাশা এখন তাদের।

সড়েজমিন ঘুরে দেখা যায়, গৌরীপুরের প্রতিটি ইউনিয়নের ব্যস্ত এলাকাগুলোর প্রধান আলোচনা এখন আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে। আর এসব আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের নাম।

বেশ কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রাবস্থা থেকেই অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন। এলাকাবাসী বিপদে-আপদে সহজেই তাকে কাছে পান। তাদের প্রত্যাশা প্রয়াত সাংসদ মুজিবুর রহমান ফকিরের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে আজিজই হতে পারেন নৌকার যোগ্য কাণ্ডারী।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে বিখ্যাত আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে একই বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। আর সেখান থেকেই সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন ১৯৮২ সালে। ১৯৮৩ সালে একই শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ১৯৮৪ সালে সরাসরি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই বছর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন আজিজ। এরপর ১৯৮৫ সালে এমবিবিএস পাস করে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) ময়মনসিংহ শাখার সেন্ট্রাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে এ সংগঠনের নেত্রকোনা জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভাতৃপ্রতিম পেশাজীবি সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পদ লাভ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আইপি জিএম এন্ড আর -এর হোস্টেল ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে বিএমএ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন আাজিজ। দু’বছর পর ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর দলের দুর্দিনে তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হয়ে দলের পক্ষে কাজ করে যান ।

১/১১ এর আওয়ামীলীগের দু:সময়ে যখন আওয়ামীলীগ নেতা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ভোল পাল্টাতে ব্যস্ত ঠিক সে সময়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাখেন তিনি। ভোল পাল্টানো নেতারা তখন আওয়ামীলীগের সংস্কার পন্থীতে যোগ দেন । কিন্তু এই অধ্যাপক ডা. আজিজ শত চাপের মধ্যেও একটি ক্ষনের জন্য আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর পাশ থেকে সরে যান নি। নেত্রীর মুক্তির প্রতিটি কর্মসূচিতে সর্বাগ্রে অংশ নিয়েছেন।

নিজ সাংগঠনিক যোগ্যতা বলে ২০০৯ সালে বিএমএ এর যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সহজভাবে পরিচালনা করতে ২০১০ সালের ৪ ঠা জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশা থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে তিনি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীকালীন সময় সরাসরি রাজনীতি করার বাঁধা না থাকায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ডাক্তারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ান তিনি। ২০১২ সালে ফের এর স্বীকৃতস্বরূপ তিনি বিএমএর এর যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

বর্তমানে তিনি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত আছেন। চিকিৎসাখাতে তার অবদানের জন্য  আওয়ামীলীগ সভানেত্রী  ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব হিসেবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজের নাম ঘোষণা করেন।

গো নিউজ/ এটি