১৬ বৈশাখ ১৪২৪, শনিবার ২৯ এপ্রিল ২০১৭ , ১১:২৫ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক মাহফুজ আনামের প্রতি সৈয়দ আবুল হোসেনের অনুরোধ


গো নিউজ২৪ | স্টাফ রিপোর্টার
|
সাংবাদিক মাহফুজ আনামের প্রতি সৈয়দ আবুল হোসেনের অনুরোধ

ঢাকা: বিশিষ্ট সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখিত এক বার্তায়
তাঁর সুযোগ্য সন্তান সাংবাদিক মাহফুজ আনামের কাছে কিছু অনুরোধ ও জিজ্ঞাসা রেখেছেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। 

শনিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঠানো এক বার্তায় তিনি খ্যাতিমান এ ব্যক্তিত্বের ৩৮তম মৃত্যুবাষির্কীতে শ্রদ্ধা ও রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।  সেই সাথে পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশে তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেন। 

জাতীয় ইংরাজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার‘ পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে উদ্দেশ্য করে লিখিত বার্তায় সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ‘‘আপনার বাবা সর্বজন শ্রদ্ধেয় আবুল মনসুর আহমদের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।  তিনি ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, সাহিত্যিক ও বড় মাপের সাংবাদিক।  তিনি ছিলেন এদেশের সাধারণ মানুষের মুক্তিচেতনায় উদ্বুদ্ধ একজন সত্যিকার সৎ মানুষ। বাংলাদেশের রাজনীতিক ইতিহাসে একজন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।  মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। “

তিনি বলেন, “আপনি আবুল মনসুর আহমদের সন্তান।  আপনি একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক।  দেশের একজন প্রখ্যাত ও প্রতিথযশা সম্পাদক।  আপনার লেখা ও বক্তব্য পাঠক, বিশেষ করে শিক্ষিত পাঠক মন দিয়ে পড়েন, প্রভাবিত হন।  আপনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন।  আপনার কথাবার্তা, আচরণ মানুষ অনুকরণ করে, মানুষ গর্বভরে আপনার নাম উচ্চারণ করে।  ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় ভুল স্বীকারের কালচার’ আপনি শুরু করেছেন।  এ কালচার বাস্তবায়ন বিপদসংকুল হলেও মানুষ আপনার কাছ থেকে সাহসিকতা প্রত্যাশা করে। ”

পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগ এবং আমার হেনস্থা হওয়ার কথা আপনি নিশ্চয় ভুলে যাননি।  আমি কী পরিমাণ হেনস্তা হয়েছি, আমি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আমার পরিবার, নিকট আত্মীয়সহ আমার ব্যাংক হিসাব গ্লোবালি সার্চ করে আমাকে কীভাবে হয়রানি করা হয়েছে, আমি কীভাবে বদনামের অংশীদার হয়েছি তা আপনি ভালো জানেন।  সে সময়ে বিশ্বব্যাংকের রেফারেল লিস্ট নিয়ে কি তুলকালাম, লিস্ট করে আমাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা, বিশ্বব্যাংকের আইনজ্ঞ ওকাম্পোর সাথে আপনাদের বৈঠক-সব কিছু মিলে এক অন্ধকার পরিবেশের আর্বিভাব ঘটেছিল।  প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও আপনি কথা শুনেননি, শোনার আগ্রহও প্রকাশ করেননি।  আপনার বদ্ধমূল ধারণা ছিল বা হয়েছে-আমি অবৈধ কাজের সাথে জড়িত।  যা হোক, আমি সেদিন আপনাকে লেখার মাধ্যমে যা বলেছিলাম, যে সত্য প্রকাশ করেছিলাম, পত্রিকাকে যা জানিয়েছিলাম তা আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।  আমি পদ্মাসেতুর কোনো অবৈধ কাজের সাথে জড়িত ছিলাম না।  কানাডার আদালতের রায়ে অবশেষে সে সত্য প্রকাশিত হয়েছে।  যা হোক, আজ এটা প্রমাণিত সত্য যে, পদ্মাসেতু ও আমি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। “

লিখিত এ বার্তায় সৈয়দ আবুল হোসেন আরো বলেন, “পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে যখন টানাপোড়েন, আপনার পত্রিকা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং মিথ্যা অভিযোগে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে যখন রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছিল-আমাকে অভিযুক্ত করে, তখন আমি প্রতিবাদ হিসেবে, সত্য ঘটনা প্রকাশে কয়েকবার আপনাকে লিখেছিলাম।  শুধু পদ্মাসেতু নয়, আমার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি সাকো-কে অনেক বড় ধরনের ব্যবসাও হারাতে হয়- আপনার পত্রিকার একজন পথভ্রষ্ট, ন্যায়ভ্রষ্ট সাংবাদিকের লেখার কারণে।  আপনার পত্রিকার রিপোর্টের কারণে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগে Isolux Corsan-এর অফিস ঘেরাও করে সার্চ করা হয় এবং বিশ্বব্যাংক Isolux Corsan কে সাকো’র সাথে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করে।  এভাবে আমার হক-হালাল রুজির ওপর হাত দেয়া হয়েছে।  বিশ্বব্যাংক নিম্নস্তরের কাজ করেছে।  পদ্মাসেতুতে আমাকে পরিকল্পিতভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য দেশ ও দেশের স্বার্থবিরোধী এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিরোধীতাকারী একটি মহল সচেতনভাবে কাজ করেছেন।  তাদের কাজকে সাপোর্ট করে আপনারা গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন।  এই কারণে দেশ ও দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে, দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে। “

তিনি বলেন, “মিথ্যা অভিযোগ এবং তা দুদকের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পরও সে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করা, মন্ত্রীর অফিস সংস্কার/গাড়ি ক্রয় নিয়ে অনর্থক রিপোর্ট করা, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আমাকে দায়ী করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটানো, কালকিনিতে বাড়ি নির্মাণ, আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ ও সাকো’র ব্যবসা বিষয়ে জাল স্বাক্ষর দিয়ে একটি মহলের অপপ্রচার নিয়ে পত্রিকার তুখোড় লেখনি-বিএনপির শ্বেতপত্রের মিথ্যা অভিযোগগুলো যা দুদকের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত-সেসব বিষয়ে পুনঃপৌনকিকভাবে পত্রিকায় রিপোর্ট করে আমাকে বিতর্কিত করা হয়েছে।  পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগে ৩৭ মিলিয়ন চুক্তির ৩৫ মিলিয়ন ঘুষ প্রদান কতটুকু যৌক্তিক? এভাবে মিডিয়া আমাকে নাজেহাল করেছে।  প্রতিবাদের পরও আমি আপনার, আপনাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাইনি। ”

বিশিষ্ট এ রাজনীতিক ওই বার্তায় আরো বলেন, “পদ্মাসেতুর বিষয়ে আজ সত্য ও মিথ্যা প্রকাশিত।  সত্য স্বীকার করা এবং মিথ্যা সম্পর্কে অনুতপ্ত হওয়া বা দোষ স্বীকার করার মধ্যে কোন আত্মগ্লানি নেই।  আছে শক্তি অর্জনের ক্ষমতা।  কানাডার আদালতের রায় প্রকাশের পর পত্রিকায় দেখেছি- দেশের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আমাকে ইতিবাচক কথা বলে ধন্যবাদ দিয়েছেন, আমার সততার প্রশংসা করেছেন।  ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টকশোতে অংশ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ব্যক্তিরা আমার প্রতি ইতিবাচক ও সহানুভূতিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।  তাদের বক্তব্য আমাকে সম্মানিত করেছে, গৌরবান্বিত করেছে।  ভেবেছিলাম, আমার প্রত্যাশা ছিল- আপনি সম্পাদক হিসেবে, বিশ্বব্যাংকের সুরে সুর মিলিয়ে আমার যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি করেছেন, আমাকে হেনস্থায় ফেলতে সহায়তা করেছেন, সে কথা স্মরণ করে- এ রায় সম্পর্কে ইতিবাচক ও সত্য কথা বলে আমাকে সান্তনা দেবেন।  আমার প্রতি সহানুভূতি জানাবেন। “

সর্বশেষ তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের পর সে সময়ে আপনি আমার সম্পর্কে আপনার পত্রিকা লিখেছেন, আমার বিরুদ্ধে অসত্য লেখা লিখে আমার সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, আমাকে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন-যা ছিল অন্যায়, যা আজ প্রমাণিত।  আমি নির্দোষ।  আমি নিরাপরাধ।  এখন সত্য উদ্ভাসিত ও প্রকাশিত হয়েছে।  এখন চুপ না থেকে কিছু বলুন।  আপনার কাছ থেকে সততা ও সত্যের প্রকাশ দেখতে চাই।  আপনার কর্তৃক শুরু করা ‘বাংলাদেশে সাংবাদিক ভুল স্বীকারের কালচার’-এর প্রতিফলন দেখতে চাই।  যদি দেশের জনগণের এবং দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আপনার ভূমিকা থাকার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন, তাহলে পদ্মাসেতু নিয়ে যে সব অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেইসব সংবাদের প্রতিবাদ হিসেবে সত্য বিষয়গুলো আগামী দিনে প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। “
 
ওই বার্তার শেষ অংশে সাংবাদিক মাহফুজ আনামের দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবন কামনা করেছেন। 

গোনিউজ২৪/এম