৩ কার্তিক ১৪২৪, বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০১৭ , ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

সর্দি কী? বছরে কয়বার হয়?


গো নিউজ২৪ | স্বাস্থ্য ডেস্ক আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার
সর্দি কী? বছরে কয়বার হয়?

ঢাকা: মানুষ যেসব রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে সবার আগে সর্দির ভাইরাস। বয়স্ক মানুষ বছরে দুই থেকে তিনবার আর শিশু বছরে ৬ থেকে ১২ বার সর্দি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। শীতকালে সর্দির প্রকোপ বেড়ে যায়।

সর্দির লক্ষ্মণ কী
গলাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর। ক্ষেত্র বিশেষে মাথা ব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যথা, রুচি কমে যাওয়া ইত্যাদি। স্থায়িত্বকাল সাত থেকে দশ দিন। ক্ষেত্র বিশেষে সবোর্চ্চ তিন সপ্তাহের মতো থাকতে পারে।

কেন হয় সর্দি?
যেভাবে সংক্রমণ: সর্দির ভাইরাস কণিকাগুলো দূষিত আঙ্গুল বা দূষিত বাতাস থেকে আমাদের নাকের ভিতর জমা হয়। অতি অল্প সংখ্যক ভাইরাস কণিকা (১-৩০) সংক্রমণের জন্য যথেষ্ঠ। এরপর ভাইরাস কণিকাগুলো নিজে নিজে নাকের ভিতরের adenoid নামক এলাকায় প্রবেশ করে।

ভাইরাস কণিকাগুলো অনুনাসিক কোষ পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত রিসেপ্টর (ICAM 1) এর সাথে যুক্ত হয়। এই রিসেপ্টর ভাইরাস পৃষ্ঠের উপর ডকিং পোর্ট নামক অংশের সাথে মিশে যায়। রিসেপ্টরে সাথে যুক্ত হওয়ার পর ভাইরাস একটি কোষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়া শুরু করে। এরপর সংক্রমিত কোষে নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদন শুরু হয়। তখন সংক্রমিত কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। এভাবে নতুন কোষে ভাইরাস সংক্রমন ঘটে এবং নতুন নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদিত হয়। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং এর ফলে আমরা সর্দিতে আক্রান্ত হই।

সর্দি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
আমরা কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে অতি সহজে সর্দি থেকে রক্ষা পেতে পারি। এরমধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো।

# সর্দি কাঁশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাঁশি বা হাঁচি থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে অবস্থান করুন। কারণ কাঁশির জীবাণু খুব সহজেই আপনার চোখ অথবা নাকের ভেতর দিয়ে সংক্রমিত হতে পারে।

# হাত সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। কারণ হাঁচি বা কাঁশির সাথে নির্গত ঠাণ্ডার জীবাণু যে কোনো বস্তুতে লেগে থাকতে পারে। স্পর্শের মাধ্যমে তা হতে সংক্রমণ হতে পারে।

# পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করুন। যথেষ্ট পরিমাণে (কমপক্ষে দৈনিক আট গ্লাস) পানি গ্রহণ শরীর বিশুদ্ধ রাখে এবং দেহ থেকে জীবাণু নির্গমনে সাহায্য করে।

# আঙ্গুল দিয়ে ঘন ঘন নাক অথবা চোখ খুটবেন না।

# বিছানায় শুয়ে না থেকে হাঁটাহাঁটি বা মৃদু ব্যায়াম করুন।

# রাতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমান।

# কম চর্বিযুক্ত চিকেন স্যুপ খান। কারণ গরম গরম চিকেন স্যুপ প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সরবরাহ করে দেহকে ঠাণ্ডা-সর্দির জীবাণুর সাথে যুদ্ধে সাহায্য করে।

সর্দি হলে করণীয়
কফ কাঁশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে রেজিস্ট্যার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে ঔষধ গ্রহণ করুন।

গোনিউজ২৪/এন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত