১২ বৈশাখ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল ২০১৭ , ২:৩৭ অপরাহ্ণ

সত্যিই কি প্লাস্টিকের ডিম!


গো নিউজ২৪
|
সত্যিই কি প্লাস্টিকের ডিম!

ঢাকা: প্লাস্টিকের চালের পর এবার নতুন আতঙ্কের নাম প্লাস্টিকের ডিম। ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে এই জুজুর ভয় বেশ জেঁকেই বসেছে। সবখানেই ফিস ফিস। বাজার নাকি চাইনিজ প্লাস্টিকের ডিমে সয়লাব হয়ে গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা নাকি আসল ডিমের সঙ্গে গছিয়ে দিচ্ছেন বিষাক্ত রাসায়নিকে তৈরি প্লাস্টিকের ডিম।

আনন্দবাজারের সংবাদ অনুযায়ী, সত্য-মিথ্যা যাই হোক, প্লাস্টিকের ডিমের গুজব এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে ডিম কিনতে গিয়ে ক্রেতা যেমন আগে ভাজি করে দেখে নেয়ার আবদার করছেন, তেমনি বিক্রেতারাও নিজেদের সততা প্রমাণে ডিম ভেঙে ওমলেট পর্যন্ত ভেজে দেখাচ্ছেন!

পুরুলিয়ার ঝালদা বাজার থেকে আলিপুরদুয়ারা, সর্বত্র এক ছবি। জনপ্রতিনিধিরা নিজে দাঁড়িয়ে স্টকের ডিম ফাটিয়ে দেখছেন কুসুমটা সাদা অংশের সঙ্গে মিশে গেছে কিনা। কারণ, নিজে নিজেই বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া অনেকে বলছেন, আসল ডিমে কুসুম আর সাদা অংশ আলাদা থাকলেও প্লাস্টিকের ডিমে নাকি তা মিলেমিশে যায়।

শুধু আসল আর নকলের পার্থক্যকারীই নয়, বাজারে বাস্তবে দেখা না গেলেও কী সব ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে নকল ডিমের খোল বা কুসুম তৈরি হচ্ছে তাও অনেকেরই মুখস্থ। অবশ্য বেশির ভাগেরই বিশেষজ্ঞ হয়ে যাওয়া ইন্টারনেট-লব্ধ জ্ঞান থেকে।

কেউ কেউ বলছেন, বাজারের সব পণ্যেই যখন চাইনিজ নকলের রমরমা, নকল ডিমই বা হবে না কেন? কেউ কেউ এখানে চক্রান্তের তত্ত্বও পেশ করছেন। এ সবই নাকি গরিবের সস্তা আমিষের উৎস ডিমের কারবার ধসিয়ে দিয়ে নামী দামি ব্র্যান্ডের পণ্য চাপিয়ে দেয়ার ছক!

তবে বিষয়টি যে বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না তার ব্যাখ্যা দিয়েছে বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট কেমিক্যাল বায়োলজি। তারা হিসেবে করে দেখিয়েছেন, প্লাস্টিকের ডিম তৈরিতে লাগবে স্টার্চ, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, বেনজয়িক অ্যাসিড ইত্যাদি। আর তাতে ভারতে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচই হবে ৬.৮০ থেকে ৭ টাকা। যেখানে দেশটির প্রান্তিক চাষীরা ডিম প্রতি দাম পান ২.৮০ টাকা থেকে ৩.৫৪ টাকা। পাইকারের হাত ঘুরে সে ডিম শহরে বিক্রি হয় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায়।

অবশ্য গুজব যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন তা যৌক্তিকতা মেনে চলে না। যেমন, ডিম খেয়ে মেয়ের পেট ব্যথা হচ্ছে বলে 
হলদিয়ার এক নারী সন্দেহের বশে পুলিশে নালিশ পর্যন্ত করেছেন। কেউ কেউ নিরাপদ মনে করে পোলট্রির ধবধবে সাদা ডিমের তুলনায় লালচে দেশি মুরগির ডিম কিনছেন।

পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের কর্তা মদনমোহন মাইতির আশঙ্কা, ভয় না-কাটলে ব্যবসায় খারাপ প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা- গুজবের চোটে বার্ড ফ্লুর সময়কার আতঙ্ক না আবার ফিরে আসে!

গোনিউজ২৪/এম

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত