২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

শেরপুরে এক গাছে ৭০ মৌচাক


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
শেরপুরে এক গাছে ৭০ মৌচাক

শেরপুর: মৌমাছিকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে রয়েছে নানা কবিতা ও গান।  এ হুলফোটানো প্রাণীটির হিংস্রতার গল্পও রয়েছে অনেক। তবে এই প্রাণীটিই এখন শেরপুরে আকর্ষণীয় দর্শনের অনুসঙ্গ।  শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন সীমান্তবর্তী গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পুরনো একটি বটগাছে মৌমাছির প্রায় ৭০টি চাক বেঁধেছে। অবকাশ কর্তৃপক্ষ ওই মৌমাছি চাকগুলোতে বাস করা মৌমাছিকে কেউ যেন কোনো ধরনের বিরক্ত না করে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে।

ওই বটগাছের গোড়ার দিক থেকে শুরু করে গাছের সর্বশেষ চূড়ার ডালপালা গুলোতে চাক বেধে মৌমাছি নির্বিঘ্নে বসবাস করছে। তাই সীমান্তবর্তী শালগজারি শোভিত নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বাড়তি আনন্দের খোরাক যোগাচ্ছে মৌচাকগুলো। একসঙ্গে একই গাছে ৭০টি মৌচাক বর্তমান সময়ের একটি বিরল ঘটনা। সে কারণে অনেক দর্শনার্থী গজনী অবকাশে বেড়াতে এসে ওই বটগাছের কাছে গিয়ে ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়ান এবং বিস্মিত হয়ে মৌচাকগুলো আগ্রহ ভরে দেখে আনন্দিত হন। 

শেরপুর সদর উপজেলার খুঁজিউরা গ্রামের দর্শনার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গজনী অবকাশে বেড়াবার আইয়া দেহি পরিবেশ পরিস্থিতি বালই। দেইখা খুব বালাই লাগলো।  এইহানে একটা বটগাছে প্রায় ৭০ ডা মধুর চাক হইছে। ’

দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, মৌচাকগুলোতে কোনো ঢিলাঢিলি নাই। সে জন্যে নির্বিঘ্নে তারা বসবাস করছে। এটা দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়। 

এ বিষয়ে শেরপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ওই বটগাছে মৌচাক করা মৌমাছিগুলো ডাচ জাতের বন মৌমাছি। এরা সংবদ্ধভাবে একসঙ্গে এক স্থানে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে এবং ভালবাসে। এছাড়া গারোপাহাড় সংলগ্ন বনে এখন প্রচুর ফুল ও এদের খাবার রয়েছে। তাই ওই মৌমাছিরা আগামী ৬ মাস পর্যন্ত সেখানে থেকে পরে অন্যত্র চলে যাবে।
 
জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন জানান, ওই বটগাছে দিনে দিনে মৌচাকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।  মৌচাকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ৭০টিতে। ওই মৌমাছিদের কেউ যেন বিরক্ত না করে সে জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে  দর্শনার্থীরা তা দেখে আনন্দ উপভোগের পর নিরাপদ দূরত্বে থেকে যাতে ছবিও তুলতে পারে সে জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

গোনিউজ/এমবি