৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ

‘শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ’


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার
‘শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএন‌পির সমা‌বে‌শের পর প্রতিক্রিয়া জান‌তে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়ার ক্ষমার নমুনা ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা। একটাই নমুনা দিলাম। তিনি এখন ক্ষমার রাজনীতি না, ক্ষমার নাটক করছেন। তিনি জানেন তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো চলছে তার হয়তো সাজা হয়ে যাবে। সে কারণে তিনি এখন ক্ষমার নাটক সাজাচ্ছেন।

তিনি বলেন, জুলুমতো করেছেন বেগম জিয়া ও বিএনপি। তারা ক্ষমতায় থাকতে আমাদের নেতা শাহ এমএইচ কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমামকে খুন করেছে। তাদের হাতে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্তের দাগ এখনও আছে। আওয়ামী লীগ কেন ক্ষমা চাইবে। যিনি জুলুম করেছেন, তিনিতো আজও জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। তার কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। শেখ হাসিনাতো কোনো অন্যায় করেননি, তিনি কেন ক্ষমা চাইবেন?

এসময় তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিলো শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। সে সময় যে সরকার থাকবে সেই সরকার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত নির্বাচন কমিশনকে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

বেগম জিয়া অভিযোগ করেছেন সরকার বিদেশে এজেন্ট পাঠিয়ে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, তাকে আমি পরামর্শ দেবো- আপিল বিভাগের যে পাঁচজন বিচারপতি এখন আছে, তাদেরই জিজ্ঞাসা করুন। সরকারই পদত্যাগে বাধ্য করেছে, নাকি তারা প্রধান বিচারপতির সাথে কাজ করবেন না এমন বক্তব্য দিয়েছেন। সেটা তিনি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ভালো করেই জানেন। এ জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশের লোক বিদেশে গিয়ে প্রধান বিচারপতির মতো একজন ব্যক্তিকে পদত্যাগে বাধ্য করাবে এমন অভিযোগ হাস্যকর।

বিএনপি আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দেয়ার দাবি ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইভিএম সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তিনি চান না। তিনি চান ২০০১ সালের মতো ম্যাকানিজমের নির্বাচন। সেই জন্য তিনি ইভিএম চান না। আমরা ইভিএম চাই। তবে বিএনপির এমন দাবিকে আমি অযৌক্তিক দেখি না, রাজনৈতিক দল হিসেবে এটা তাদের অধিকার আছে। তবে এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার, তারাই ঠিক করবে। আওয়ামী লীগ সেনা মোতায়েন চায় না, কথাটা ঠিক নয়। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন সময়ের প্রয়োজনে দায়িত্ব দিতে পারে।

এসময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনিতো দুই দফায় দশবছর ক্ষমতায় ছিলেন। কোন নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েছেন?

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

গোনিউজ২৪/কেআর