২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

লাঙলে ভোট না দিতে আওয়ামী লীগের লিফলেট


গো নিউজ২৪ | ফরহাদুজ্জামান ফারুক আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
লাঙলে ভোট না দিতে আওয়ামী লীগের লিফলেট

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে ঘিরে এরশাদের দূর্গখ্যাত রংপুরে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। বসে নেই জাতীয় পার্টি।  দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন হওয়ায় লাঙলের ঘাঁটিতে জয় নিশ্চিত করতে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের পক্ষে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।

রংপুর সিটিতে ক্ষমতাসীন দলের বিগত দিনের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি লাঙল প্রতীকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভোটারদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট।  আপত্তিকর কর্থাসহ প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা এই লিফলেটে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
 
তার অভিযোগ, লিফলেটে আওয়ামী লীগ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং তাকে নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলছেন। লাঙলে ভোট না দিতে লিফলেট বিতরণ করায় তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কারণ কোনো প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
 
মোস্তফা বলেন, ব্যক্তিকে আক্রমণ করে ও দলের বিরুদ্ধে কথা বললে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ থেকে সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন আস্তরিক হলেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন জাপার এই প্রার্থী। এসময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার করা ওই লিফলেটের ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।  

এই লিফলেটের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, তারা এ রকম কোনো লিফলেট বিতরণ করেন নি।  

এদিকে নগরীর ২১, ২২, ২৭, ৩২ ও ৩৩নং ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন ভোটারের হাতে ওই লিফলেট দেখা গেছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা প্রতীকের ছোট হ্যান্ডবিলের সাথে ওই লিফলেটও দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা।  

সংগ্রহ করা ওই লিফলেটটিতে রংপুরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও আন্তরিকতা কথা তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয়ায় বিগত দিনে রংপুর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো বলা হয়েছে। ‘২৭ বছরে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা রংপুরের উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি।

তারা শুধু রংপুরের সহল সরল মানুষগুলোর ভোটে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় সারাদেশের মানুষ রংপুরবাসীকে বোকা ভেবেছে। ভেবেছে মফিজ। আমরা আর এই ভুল করবো না। ভুল মার্কায় ভোট দিবো না।’ এরকম আরো অনেক লেখা রয়েছে। লিফলেটের নিচের অংশে লেখা রয়েছে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনায় রংপুরের সর্বস্তরের উন্নয়নকামী মানুষের পক্ষ থেকে প্রচারিত।

লিফলেটটিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এবং মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ও নৌকা প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের দেয়া কারণ দর্শানো নোটিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা।

তিনি বলেন, কী কারণে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে তা জানি না। তবে একটি সূত্রে জানতে পেরেছি, গত সোমবার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করায় আমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হতে পারে।

বাবলা বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর দলের ২৫/৩০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। এর বাইরে কিছু হয়নি। এটাকে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার নগরীর মেডিকেল মোড়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মঞ্চ তৈরি করে সভা-সমাবেশ করলেও নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আওয়ামী লীগের আচরণবিধি লঙ্ঘন না দেখে উল্টো তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

এদিকে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, কোনো দলের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।

বিএনপি প্রার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আগামী তিনদিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আব্দুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ’র এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির (এনপিপি) সেলিম আখতার (আম) এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা জাপার যুগ্ম মহাসচিব চেয়ারম্যান হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতী) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, ১১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জন্য ৬৫ জন এবং ৩৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের ২১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত এই ভোট। নগরীর মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১’শ ৭৭টি গোপন কক্ষে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা।

এবার সিটিতে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২১ ভোটার রয়েছেন। যা গত নির্বাচনের চেয়ে ৩৬ হাজার ভোটার বেশী। এরআগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়েছিল। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু প্রথম নগরপিতা নির্বাচিত হন। 

গোনিউজ২৪/কেআর