৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে আপত্তি নেই, তবে কড়া শর্ত


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
রোহিঙ্গা  ফিরিয়ে নিতে আপত্তি নেই, তবে কড়া শর্ত

মিয়ানমার সেনাবাহীনির নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। এ পর্যন্ত বেশ কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন। তবে তাদের ফিরিয়ে নিতে সেই দেশের নেত্রী সু চিকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া চাপে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আশ্বাস করেছে মিয়ানমার। তবে কাদের ফেরানো হবে, সে বিষয়ে তারা কড়া শর্ত দিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকায় এমন তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি ইউ কিইয়াও জেয়া শুক্রবার বলেছেন, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলার আউং সান সুচি ১২ অক্টোবর এ নিয়ে তার দেশের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পুনর্বাসন ও উন্নয়নের কাজও শুরু হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার কাজ হবে চারটি শর্ত সাপেক্ষে। যারা সেই শর্ত পূরণ করতে পারবেন, শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেয়া হবে।

জেয়া বলেন, যে সব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারবেন, স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন, পরিবারের কেউ এ দিকে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে পারবেন এবং বাংলাদেশে কোনও বাচ্চা জন্মালে তার বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণিত হলে তবেই তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কাছে কী করে এই সব তথ্য-প্রমাণ থাকবে? এ বিষয়ে জেয়া বলেন, ‘স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি’ এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেয়াটা মুশকিল এবং এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষও।

ইয়াঙ্গনে শুক্রবার ভারত-মিয়ানমার সম্পর্কের আগামী দিন’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জেয়া এসব কথা বরেন। কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরাও যোগ দেন এই সম্মেলনে।

শরণার্থী সমস্যার মতো মানবিক বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের এসব কড়া শর্ত নিয়ে ওই কূটনীতিকের ব্যাখ্যা, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা কেবলমাত্র মানবিক বিষয় নয়। নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ। মানবিকতার খাতিরে ক্ষমতায় এসেই সুচি কফি আনান কমিশন তৈরি করেছেন। রাখাইনে পুর্নবাসন-উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছেন। এ সবও তো সরকারই করেছে।

ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং)-এর সাবেক প্রধান রাজেন্দ্র খান্নাও বলেন , রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না। ২০০৪ সাল থেকে আইএসআই রাখাইনে সক্রিয়। পাকিস্তানি মদতেই মোহাম্মদ ইউনুস ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজে‌শন’ পত্তন করেন। পরে মুজাম্মিল ও রাহিল নামে দুই লস্কর কমান্ডারকে আইএসআই বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে পাঠিয়েছিল।

রোহিঙ্গা আন্দোলনকারীদের তারাই জঙ্গিপনার প্রশিক্ষণ দেয়। আইএসআই’র মদতেই পরবর্তী কালে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ বা আরসা-র জন্ম হয়। এই এলাকায় উগ্রপন্থা বাড়লে ভারত-মিয়ানমার উভয়েরই সমস্যা হবে বলে মনে করেন সাবেক ‘র’-প্রধান।

খান্নার সঙ্গে সহমত জেয়াও। তার কথায়, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের যারা মাথা, তাদের পরিবার কিন্তু পাকিস্তানেই বসবাস করে। সেখানে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলেও সংবাদ মাধ্যম বার বার খবর দিয়েছে।

গোনিউজ২৪/কেআর