৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

রুপালীর ভেজা আঁচল শুকাবে কি?


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেট, যশোর আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার
রুপালীর ভেজা আঁচল শুকাবে কি?

‘ছেলেটিকে ভালো করে কোলেও নিতে পারিনি। মধ্যরাতে ওর জন্ম হয়, আর সকালেই চুরি হয়ে গেলো’ বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া সেই নবজাতকের মা রুপালী বেগম।

ঘটনার ৯দিনেও নবজাতক ছেলেটিকে ফিরে না পেয়ে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন এ মমতাময়ী। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সদ্যজাত সন্তানটি ফিরে পেতে বারবার আল্লাহকে ডাকছেন। করছেন চেষ্টা-তদবির।

গত ৮ জুলাই মধ্যরাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন সদর উপজেলার রূপদিয়ার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম। আর রাত শেষ হতে না হতেই রুপালীর কোল খালি হয়ে যায়। ৯ জুলাই সকালে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে শিশুটি চুরি হয়ে যায়।

এরপর পুলিশ হাসপাতাল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে চুরির ঘটনায় অভিযানে নামে। সন্দেহভাজন হিসেবে হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করা যশোর শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী মমতাজ পারভীনকে আটক করে। পরে তাকে রিমান্ডেও নেয়। কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

আটক মমতাজের দাবি, তার স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালে এসেছিলেন। শিশুটির মা ও দাদি কান্নাকাটি করছিল দেখে তিনি বাইরে খোঁজাখুঁজির পরামর্শ দেন। তিনি আর কিছুই জানেন না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ  মুঠোফোনে বলেন, ‘শিশুটি উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা করছি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখেছি। কিন্তু যেখান থেকে শিশুটি চুরি হয়েছে সেখানে ক্যামেরা ছিল না। তাই কে চুরি করেছে সেটা দেখা যাচ্ছে না।’

এদিকে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিনিয়র কনসালটেন্ট আবদুর রহিম মোড়লকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের কারো গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু। 

এভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাদের দায়িত্ব ‘শেষ’ করলেও শাড়ির আঁচলে বারবার চোখ মোছা রুপালী বেগমের আহাজারি থামছে না। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বারবার হেরে যাচ্ছেন তার স্বামী সাইফুল ইসলামও।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এ কঠিনের মধ্যেই আমরা আমাদের মতো খোঁজার চেষ্টা করছি। বারবার পুলিশের দারস্থ হচ্ছি। কিন্তু কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আপনারা একটু লেখেন।’

গো নিউজ/এমবি