৬ শ্রাবণ ১৪২৪, শুক্রবার ২১ জুলাই ২০১৭ , ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রিমান্ডে অবাক করা তথ্য দিচ্ছেন সাফাত


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৪ মে ২০১৭ রবিবার
রিমান্ডে অবাক করা তথ্য দিচ্ছেন সাফাত

বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে আছে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত।  রিমান্ডে একে একে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিচ্ছে সাফাত। 

রিমান্ডের প্রথম দিনেই সাফাত জানান, দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। পূর্ব পরিকল্পনা থেকেই ওই হোটেলে শাফাতের বন্ধু মাহিন হারুন দুটি রুম বুকিং দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল শনিবার সকাল থেকে তাদের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই তরুণীকে ধর্ষণের পরিকল্পতা আগে থেকেই করে রেখেছিলেন সাফত ও তার বন্ধুরা। এ জন্য সাফাতের জন্মদিনের উপলক্ষটাকে তারা বেছে নেন। এ ছাড়া ওই হোটেলে দুটি রুম সাফাতের বন্ধু ও হোটেলের মালিকের ছেলে মাহিনের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হয়। যেন এ বিষয়ে তাদের কেউ সন্দেহ না করে এবং কেউ কিছু জিজ্ঞাসা না করে।

সূত্র জানায়, রিমান্ডে তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও তারা ঘটিয়েছেন। তবে অন্যদেরকে তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে থামিয়ে রেখেছিলেন। এই দুই তরুণীকেও তারা ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন।

এদিকে, সাফাত আহমেদের প্রতিদিনের হাত খরচ ছিল ২ লাখ টাকা। এ টাকার জোগান দিতেন তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। রিমান্ডের প্রথম দিনেই গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাফাত। 

তিনি বলেছেন, প্রতি রাতেই তিনি ও তার বন্ধুরা পার্টি করতেন। পাঁচ তারকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবীরা হাজির থাকতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদ আরো জানান, তাদের ২০ থেকে ২২ জন বন্ধুর একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপে তাদের বন্ধুদের মধ্যে দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালীদের সন্তান রয়েছে। তারা রাত হলেই একটি স্থানে জড়ো হন। প্রতিরাতেই তারা পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন পার্টি ছাড়াও রেসিং কার নিয়ে লং ড্রাইভে যেতেন। মাঝে মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশে দল বেঁধে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন।

প্রতিদিন তার হাত খরচের দুই লাখ টাকা তার বাবা দিতেন বলে দাবি করেন সাফাত। কখনো এর বেশি টাকার প্রয়োজন হলে ঢাকা শহরে আপন জুয়েলার্সের ৮টি শোরুমের যে কোনো একটিতে ফোন করে অতিরিক্ত টাকা আনিয়ে নিতেন। কখনো তার বাবা এ টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় এক ডজন বান্ধবীর নাম ফাঁস করেছেন তিনি। এসব বান্ধবীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথাও খোলামেলা স্বীকার করেছেন। বান্ধবীদের মধ্যে উঠতি কয়েকজন মডেলও রয়েছেন।


গো নিউজ২৪/এএইচ