১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৫ মে ২০১৭ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

রাতভর ৪ পুরুষের সঙ্গে হই হুল্লোড়, সকালে...


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১৪ মে ২০১৭ রবিবার
রাতভর ৪ পুরুষের সঙ্গে হই হুল্লোড়, সকালে...

কলেজে পড়ছিলেন অনামিকা। সেই সঙ্গেই কাজ করতেন একটি কল সেন্টারে। স্বপ্ন ছিল মডেল হওয়ার। টুকটাক মডেলিং-এর কাজও করতেন। কিন্তু সমস্ত স্বপ্ন অকালেই ঝরে গেল। রাতভর পার্টির পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের তরুণী অনামিকা দুবে। 

গত শুক্রবার সন্ধেবেলা ধীরজ শর্মা নামের এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে চইথরাম হাসপাতলে আসেন। অনামিকা দুবে নামের সেই তরুণী তখন অচৈতন্য। হাসপাতালের ডাক্তাররা অনামিকাকে পরীক্ষার পরে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

ঘটনার তদন্তে নামে লসুড়িয়া থানার পুলিশ। প্রথমেই অনামিকার দেহ পোস্টমর্টেমে পাঠানো হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে ডাক্তার ভরত বাজপেয়ী লেখেন, তরুণীর শরীরে অজস্র অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। তাঁর অন্ত্র, লিভার এবং পিত্তথলি ফেটে গিয়েছে। মনে হচ্ছে, তাঁর পেটে বার বার প্রবল আঘাত করা হয়েছে। এর পরেই ধীরজকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশের কাছে কী জানিয়েছেন ধীরজ? লসুড়িয়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের স্বীকারোক্তিতে ধীরজ বলেছেন, অনামিকা তাঁর গার্লফ্রেন্ড ছিলেন। ধীরজের সঙ্গে বিগত দু’বছর ধরে সম্পর্ক ছিল তাঁর। দু’জনের বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ধীরজ নিজে গ্বালিয়রের বাসিন্দা। কাজ করেন নয়ডার একটি বেসরকারি সংস্থায়। গত মঙ্গলবারই তিনি ইন্দোরে এসেছিলেন অনামিকার সঙ্গে দেখা করবেন বলে। 

ধীরজ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমার বাড়িতে একটি পার্টি ছিল। সেখানে অনামিকা এসেছিল। সেই পার্টিতে আমার তিন বন্ধু দেবেন্দ্র, সুরজ আর দেবরাজও উপস্থিত ছিল। ওরা তিন জনেই অনামিকাকে চিনত। সারা রাত্রি আমরা প্রচুর হই-হুল্লোড় করেছিলাম। সেই সময়ে অনামিকাকে একেবারে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল।’ 

কিন্তু কী হল তার পর? ধীরজ জানাচ্ছেন, ‘শুক্রবার সকালেও অনামিকা আমার ফ্ল্যাটেই রয়ে গিয়েছিল। অনামিকা জানায়, ওর খুব শরীর খারাপ লাগছে। আমি ওর জন্য ওষুধ নিয়ে আসি। কিন্তু সেই ওষুধ খেয়েও ওর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। সন্ধেবেলা আচমকাই অজ্ঞান হয়ে যায় ও। তখনই ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

ইন্দোরের সিএসপি জয়ন্ত রাঠৌর সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধীরজের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেই মনে করছে পুলিশ। অনামিকার শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতেরও কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ধীরজ। আপাতত পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে রাখা হবে। 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অনামিকা ইন্দোরের স্কিম ১১৪-এ তাঁর বাবার সঙ্গে থাকতেন। অনামিকার বাবা একটি ছোটখাটো মোবাইল কোম্পানি চালান। কিছু দিন আগে তাঁর একটি হার্ট সার্জারি হয়েছে। তার পর থেকে বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। অনামিকা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন। মডেলিং-এর শখও ছিল তাঁর।

 

গো নিউজ২৪/এএইচ