১০ শ্রাবণ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ জুলাই ২০১৭ , ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রাজনীতিই টুকটুকির ধ্যান-জ্ঞান


গো নিউজ২৪ | নাসরিন জাহান জয়া, বেরোবি (রংপুর) প্রতিনিধি আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৭ বুধবার
রাজনীতিই টুকটুকির ধ্যান-জ্ঞান

রংপুর: একটা সময় ছিল যখন নারীদের বিচরণ সীমা ছিল শুধুই অন্দরমহলে। বাড়ির বাইরে পা দেয়া ছিল তাদের কাছে কল্পনাতীত ব্যাপার। এরপর মহিয়সী বেগম রোকেয়ার হাত ধরেই নারীরা স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া শুরু করে। নারীরা বিচরণ করতে থাকে প্রতিটা ক্ষেত্রেই।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির (বেরোবি) বয়স খুবই কম। সবেমাত্র ৯ বছর বয়স এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখানে রাজনীতিতে মেয়েদের পদচারণা খুব একটা চোখে পরার মতো না হলেও একেবারে কম নয়। পারিপার্শ্বিক সামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করলে এই এলাকার মেয়েদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার পথটা খুব বেশি মসৃণ নয়। আর কন্টক মেলানো সেই পথে হেটে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আজ যারা সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা সত্যিই সাহসী যোদ্ধা। এরকম একজন সাহসী যোদ্ধা হলেন আশিকুন নাহার চৌধুরী। যাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই 'টুকটুকি' নামেই চেনেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য তিনি।

রাজনীতিতে কিভাবে এসেছেন জানতে চাইলে টুকটুকি বলেন, "বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেই সবসময় আদর্শ মনে করতাম। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে যে দেশ সৃষ্টি সেই দেশকে যদি না ভালোবাসি, দেশের জন্য যদি কাজ না করি তাহলে সুনাগরিক হয়ে বেঁচে থাকবো কী করে?"

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মাধ্যমে রাজনীতির সাথে তার চেনাজানা ছিল। তার খালু, চাচারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বই পড়ে, পত্রিকা পড়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জেনেছেন। বঙ্গবন্ধু হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার দেখানো পথটাই তার কাছে শ্রেষ্ঠ পথ বলে মনে হয়।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বন্ধু, বড় ভাই, ছোট ভাই সবাই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তাদের দেখেও অনুপ্রাণিত হন তিনি।

পরিবার থেকে কেমন সাহায্য পেয়েছেন জানতে চাইলে টুকটুকি জানান, মায়ের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা। তিনি বলেন, "মা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেছেন। এই দেশ ও দেশের মানুষকে অবহেলিত হতে দেখেছেন। তাই মা সব সময় চাইতেন আমরা তরুণ সমাজ যেন দেশের কথা ভাবি, দেশের কাজে নিজেদের বিলিয়ে দেই। দেশটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেন আত্মনিয়োগ করি। তাই মায়ের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি সব সময়।"

এদিকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে কখনো পড়াশোনায় ছাড় দেননি টুকটুকি। ভালো ছাত্রী বলে ক্লাসে পজিশনও আছে তার।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার শুরুতে টুকটুকি ছিলেন একাই একজন মেয়ে। পরে তাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই আসছে রাজনীতিতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক হলে মেয়েরা আরও উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে টুকটুকি জানান, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান। কারণ রাজনীতিই তার ধ্যান-জ্ঞান। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়নের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

আশিকুন নাহার চৌধুরীর বাসা রংপুরের রাধাকৃষ্ণপুরে। তার বাবা মৃত আমিনুর রহমান চৌধুরী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মা ফাতেমা বেগমও একটি প্রাইমারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।

টুকটুকি পড়াশোনা করেছেন রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০০৭ সালে এসএসসি পাশ করেন তিনি। ২০০৯ সালে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে। বর্তমানে তিনি একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর এ অধ্যয়নরত। 

গো নিউজ২৪/এমবি