৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৬:২৪ অপরাহ্ণ

রসিক নির্বাচন: কে পাবেন নৌকার টিকেট?


গো নিউজ২৪ | ফরহাদুজ্জামান ফারুক, নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৭ মঙ্গলবার
রসিক নির্বাচন: কে পাবেন নৌকার টিকেট?

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নির্বাচন হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে নগরজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। কেউ হাত তুলে ধরে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন, কেউ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে উড়ে এসে সভা-সমাবেশ করছেন। আবার কেউ হয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান ঘোষিত প্রার্থীর বিদ্রোহী। সুবিধাজনক অবস্থায় থাকায় দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বা দলে নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কেউ কেউ। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে বদলে যাওয়া রংপুরে এবার নানা কারণে শাসকদল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনসহ তিনটি পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সবখানেই আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই এবারও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফসল ঘরে তুলতে গেলে চাই নৌকার যোগ্য মাঝি। যা নিয়ে বেশ ভাবনায় আছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। যদিও এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক ডজনের বেশি নেতা গণসংযোগ শুরু করেছেন। 

সম্ভাব্য প্রার্থীরা কে কতো ভোট পাবেন তা নিয়েও চলছে ক্যালকুলেশন। দলীয় ভোট, ব্যক্তিগত ভোটের হিসাবের সাথে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় আলোচনায় আসছে। আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে। এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী  চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এরশাদের প্রার্থী চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেকেই সন্দিহান রয়েছে।
 
এদিকে রসিকের ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছাড়া অন্য কারো হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় প্রার্থীতা চূড়ান্তে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকেই তাকিয়ে আছেন নৌকার বৈঠা ধরতে মরিয়া মাঝিরা। 

রাশেক রহমানও দলীয় সভানেত্রীর গ্রিন-সিগন্যাল পেয়েই মাঠে নেমেছেন বলে দাবি করেছেন। মাঠে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিয়ার রহমান জানিয়েছেন, তিনি কোনো গ্রিন-সিগন্যাল পাননি। তবে সিগন্যালের অপেক্ষায় না থেকে তিনিও মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন।  আর বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু সম্প্রতি এক সমাবেশে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।  

নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও ছিল না দলীয় প্রতীক। বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুকে সে সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কিনা? ওই প্রশ্ন প্রত্যাখ্যান করে ঝন্টু বলেছিলেন, ‘আমি সব দলের, আমি সবার ভোট চাই।’

ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান ও সাবেক পৌর মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকের আন্দোলনে রাঙ্গাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেন। নির্বাচনে সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লাখের ওপর ভোট পেয়ে প্রথম মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন। জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত মোস্তাফিজার রহমান ৭০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন ঝন্টুর নিকটতম। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিয়ার রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। 

এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মসিউর রহমান রাঙ্গা এখন জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতিতে অবদান রাখছেন। নিজেদের দুর্গে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি পেতে মরিয়া এরশাদ। এবার দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে জিতিয়ে আনতে সবাই দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ বলে ঘোষণা করেছেন এরশাদ। কিন্তু এরশাদের ভাইয়ের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আসিফ শাহরিয়ার বেঁকে বসেছেন। তিনি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমে পড়েছেন। এর প্রেক্ষিতে পার্টি থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন এরই মধ্যে। 
দলের আরেক নেতা সর্বশেষ পৌর মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকও নাগরিক কমিটির ব্যানারে পেশাভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠক করছেন। চেষ্টা করছেন লাঙ্গল কাঁধে নিতে না পারলে ভিড়বেন নৌকার ছায়াতলে। তাই সখ্যতা গড়ছেন আওয়ামী লীগের সাথে।

এ কারণেই প্রার্থী নিয়ে সবচেয়ে সমস্যা আওয়ামী লীগে। বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রের নজরে আসতে অনেকই তোড়জোড় শুরু করেছেন। মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মিঠাপুকুরের এমপি আশিকুর রহমানের ছেলে টিভি ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমান ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. জয়নুল আবেদীন সরকারের নাম। 

এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন মাওলা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য মো. আবুল কাশেম, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট  ইলিয়াছ আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সিরিয়ালে। তবে সবকিছু বাদ দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ও মোতাহার গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু মনোনয়ন পেয়ে গেলে সবাই অবাক হলেও হতে পারেন। কারণ গত নির্বাচনের সময় থেকেই তার নামটা আলোচনায় আছে। তবে নৌকার টিকেট বা মনোনয়ন কে পাচ্ছেন আর কে পাচ্ছেন না, তা জানতে অপেক্ষাসহ কান রাখতে হবে কেন্দ্রীয় বার্তার দিকেই।

গো নিউজ২৪/এমবি