৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:১৬ অপরাহ্ণ

যৌন ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড! 


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার
যৌন ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড! 

পঞ্চগড়: দেহ ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় পঞ্চগড়ের গৃহবধূ রীনা বেগমের (২২) শরীরের একাংশ কেরোসিন দিয়ে পুড়ে দিয়েছেন স্বামী সাদ্দাম হোসেন (২৭)। 

এ ঘটনায় বিচারের দাবি নিয়ে রীনা বেগমের পরিবার ঘুরছে পঞ্চগড়ের থানা পুলিশ আর আদালত পাড়ায়। শরীরের এক-তৃতীয়ংশ ঝলসে যাওয়ায় মৃত্যুপথযাত্রী গৃহবধূ রীনা বেগম। 

দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা নিয়ে সারাক্ষণ মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। ঘটনাস্থল ঢাকায় হওয়ায় এক মাসেও জেলার কোথাও অভিযোগ বা মামলা করতে পারেননি। 

অবশেষে শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাব মিলনায়নে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন গৃহবধূ রীনা। তিনি স্বামীর বিচার চান। উদ্বেগ প্রকাশ করেন কন্যাশিশুর দেখভাল আর পরবর্তী জীবন নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রায় বছর আগে শহরের রওশনাবাগ মহল্লার ইছহাক আলীর মেয়ে রীনা বেগমের সঙ্গে সদর উপজেলার কানাপাড়া জুগিভিটা গ্রামের হেলালের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। 

বিয়ের পর মাদকাসক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে প্রায় নানাভাবে রীনাকে নির্যাতন করতেন। দরিদ্র ঘরের মেয়ে রীনা বেগমের পরিবার টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে চাকরি দেয়া আশায় গৃহবধূ রীনাকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বামী সাদ্দাম হোসেন। যৌতুকের এক লাখ টাকা আদায়ে তাকে দেহ ব্যবসায় জড়ানোর চেষ্টা করেন। 

স্বামীর এমন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। গত ১১ জুন ঢাকার মুগদাপাড়ার ভাড়া বাসায় ঝগড়ার একপর্যায়ে কেরোসিন দিয়ে গৃহবধূর শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান সাদ্দাম। 

রীনার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে পঞ্চগড় নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় শরীরে পোড়া ঘা নিয়ে আইনি সহায়তার জন্য সদর থানা, জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান গৃহবধূ রীনা। 

কিন্তু ঘটনাস্থল ঢাকায় হওয়ার কারণে কোথাও কোনো মামলা দিতে পারেননি তিনি। অবশেষে স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন গৃহবধূর পরিবার।

গৃহবধূ রীনা বেগমের মা জহুরা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। খবর পেয়ে ঢাকায় যাই। কিন্তু মেয়ের দিকে তাকাতে পারছিলাম না। তার শরীরের অর্ধেকটা পুড়ে দিয়েছে সাদ্দাম। টাকার অভাবে সেখানে চিকিৎসাও করাতে পারিনি। বার্ন ইউনিটের এক চিকিৎসক আমাদের পঞ্চগড় আসার ভাড়া দিয়েছেন। এখন আমরা কী করবো, কোথায় বিচার চাবো। নিজেই খাবার পাই না। তাকে এবং তার শিশুকে কী খাওয়াব। কথা বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন মা জহুরা বেগম।

বাংলাদেশ মাবাধিকার কমিশনের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী এমএ রতন বলেন, দেহ ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মমভাবে নির্যাতনসহ শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর বিচারের দাবি চেয়ে আমরা থানা পুলিশ এবং আদালত থেকে ফিরে এসেছি। আদালতে একটি আরজি দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু পাবলিক প্রসিকিউটারের (পিপি) আপত্তিতে অবশেষে বিচারক মামলার আরজিটি ফেরত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান সরকার বলেন, ঘটনা শুনেছি। কিন্তু তারা থানায় আসেনি। তবে স্থানীয় এক চেয়ারম্যান মামলার কথা মোবাইল ফোনে বলেছিল। যেহেতু ঘটনাস্থল ঢাকায়, এ জন্য মামলাটি সেখানেই করা উচিত ছিল।

পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রতিকিউটর (পিপি) আমিনুর রহমান বলেন, সিআরপিসি ১৭৭, ১৭৮/১৭৮ ধারায় উল্লেখ আছে, যাকে যেখানে নির্যাতন বা মারপিট করা হবে, সেখানকার থানায় তাকে মামলা দিতে হবে। আমরাও এমন অপরাধের উপযুক্ত বিচার চাই। কিন্তু ঘটনাস্থল ঢাকায় হওয়ায় পঞ্চগড়ে নারী ও শিশু আদালতে এই মামলা করার কোনো সুযোগ নেই।

গো নিউজ২৪